Ajker Patrika

অস্ট্রেলিয়ার বনে হারানোর ৩ বছর পর মিলল সেলিনের দেহাবশেষ, জানা গেল মৃত্যুর কারণও

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০০: ৫৭
অস্ট্রেলিয়ার বনে হারানোর ৩ বছর পর মিলল সেলিনের দেহাবশেষ, জানা গেল মৃত্যুর কারণও
সেলিন ক্রেমার। ছবি: দ্য পিপল

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন বছর পর বেলজিয়ান পর্যটক সেলিন ক্রেমারের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করেছে দেশটির করোনার আদালত। ৩১ বছর বয়সী ক্রেমার ২০২৩ সালের ১৭ জুন ক্র্যাডল মাউন্টেন এলাকায় একা-একা হাইকিংয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন।

তাসমানিয়ার ঘন বনাঞ্চলে যাওয়ার পর তিনি আর ফিরে না আসায় ৯ দিন পর নিখোঁজের খবর দেওয়া হয়। পরে একটি ট্রেইলহেডে তাঁর গাড়ি পাওয়া যায়। উদ্ধারকারী দল প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক তল্লাশি চালালেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এরপরও কয়েক দফা অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল, কিন্তু বছরের পর বছর তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নতুন করে তল্লাশি চালানোর সময় একটি ট্রেইল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে ক্রেমারের মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছিলেন এবং গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে পথ খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন।

এরপর চলতি বছরের (২০২৬ সাল) জানুয়ারিতে আর্থার নামে একজন হাইকার নদীর তীরে কিছু হাড় দেখতে পান। পরবর্তী অনুসন্ধানে আরও হাড়, দাঁত, পোশাক ও সেলিনের গাড়ির চাবি উদ্ধার করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ নিশ্চিত করে, এগুলো ক্রেমারেরই দেহাবশেষ।

অবশেষে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাসমানিয়ার করোনার ম্যাডেলিন উইলসন জানান, ১৭ থেকে ২১ জুনের মধ্যে ক্রেমারের মৃত্যু হয় এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

করোনারের মতে, ক্রেমার ফিলসফার ফলস ঘুরে সরাসরি গাড়ির পার্কিং এলাকায় না ফিরে ম্যাগনেট ড্যামের দিকে যাওয়া একটি অপরিষ্কার পথ ধরেছিলেন। পরে তিনি পথ হারিয়ে ফেলেন। তখন শীতের বিকেল দ্রুত অন্ধকার হয়ে আসছিল। তাপমাত্রা ছিল প্রায় হিমাঙ্কের কাছাকাছি, অথচ তাঁর পোশাক ছিল অপর্যাপ্ত এবং জলরোধী কোনো পোশাকও ছিল না।

বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিটের দিকে তিনি পথ হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর তাঁর মোবাইল হারিয়ে গেলে তিনি আরও দিশেহারা হয়ে পড়েন। ফোনটি বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করেছিল।

দেহাবশেষে একাধিক হাড় ভাঙার চিহ্ন পাওয়া যায়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার কারণে হতে পারে, আবার মৃত্যুর পর নদীর স্রোতে পাথর বা ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে ধাক্কা লেগেও হতে পারে। হাইপোথার্মিয়া, আঘাত কিংবা পানিতে ডুবে মৃত্যু—তিনটিকেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই ক্রেমারের মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত বলেই রায় দিয়েছেন করোনার।

প্রায় তিন বছর অপেক্ষার পর দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেমারের বোন অ্যামেলি। তিনি বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সেলিনকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তাঁর স্মৃতি ও ভালোবাসা পরিবারের সদস্যদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত