Ajker Patrika

নেপালে নির্বাচন: ওলিকে ইতিহাস গড়ে হারালেন বালেন্দ্র, নিরঙ্কুশ জয়ের পথে তাঁর দল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১১: ১৬
নেপালে নির্বাচন: ওলিকে ইতিহাস গড়ে হারালেন বালেন্দ্র, নিরঙ্কুশ জয়ের পথে তাঁর দল
জয় নিশ্চিত হওয়ার পর সমর্থকদের সামনে নেপালের জাতীয় পতাকা ওড়াচ্ছেন বালেন্দ্র শাহ। ছবি: কাঠমান্ডু পোস্ট

নেপালে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি নজর ছিল ঝাপা-৫ আসনের দিকে। এই আসনে লড়াই করছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয় জেন-জি আন্দোলনের নেতা বালেন্দ্র শাহ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের জেন-জি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত জন ওলি। এই আসনে ওলিকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছেন বালেন্দ্র।

নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, এই লড়াই ছিল প্রতীকেরও লড়াই। পুরোনো বনাম নতুন—এই বড় আখ্যানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল ঝাপা-৫। একদিকে সত্তরের কোঠায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী, অন্যদিকে ৩৫ বছর বয়সী এক মিলেনিয়াল নেতা। দুজনের মধ্যে তিক্ততা আগে থেকেই ছিল। ২০২৫ সালের সেই রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহের পর তা আরও তীব্র হয়। ওই আন্দোলনের সময় ওলির শাসনামলে ৭৭ জন নিরস্ত্র মানুষ নিহত হয়। নির্বাচনের আগে শাহ প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, তিনি ওলির সঙ্গে কোনো বিতর্কে অংশ নেবেন না। কারণ, তিনি একজন ‘খুনির’ সঙ্গে একই মঞ্চে উঠতে চান না তিনি।

অনেকেই ধারণা করেছিলেন, লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। কিন্তু ৫ মার্চ মধ্যরাতের পর ভোট গণনা শুরু হতেই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। শুরু থেকেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে যান শাহ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ওই আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে আলোচিত শাহ জেতেন রেকর্ড গড়ে। তিনি ৪৯ হাজার ৬১৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় পান; যা নেপালের সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধান। শাহ পান ৬৮ হাজার ৩৪৮ ভোট। বিপরীতে ওলি পান মাত্র ১৮ হাজার ৭৩৪ ভোট।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য এটি ছিল হতাশাজনক ফল। কারণ, ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিজের এই ‘হোম টার্ফ’ ঝাপা-৫ আসন থেকেই তিনি পেয়েছিলেন ৫২ হাজার ৩১৯ ভোট। এই ফলের অর্থ, শাহই এখন নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। কারণ, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে রয়েছে। এমনকি দলটি দুই-তৃতীয়াংশের ‘সুপার মেজরিটি’ও পেতে পারে বলে আভাস মিলছে। এরই মধ্যে দলটি ১০৬টি আসনে নিশ্চিত জিতেছে এবং এগিয়ে আছে ১৯টি আসনে।

পেশায় র‍্যাপার ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বালেন্দ্র শাহ আলোচনায় আসেন ২০২২ সালের স্থানীয় নির্বাচনে। সেবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন এবং প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দেন। সেই জয়েই তিনি দেশের সবচেয়ে জনবহুল মহানগর কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২২ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৫ সালের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টিতে যোগ দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে ‘আরএসপি ঢেউ’ তৈরির কৃতিত্ব অনেকেই শাহকে দিচ্ছেন। মাত্র চার বছর আগে গঠিত দলটি শনিবারও ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (এফপিটিপি) পদ্ধতির ভোট গণনায় এগিয়ে ছিল। শুক্রবার পাওয়া লিড ও জয় ধরে রেখে দলটি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। পাশাপাশি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির ভোটেও দলটি ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত