Ajker Patrika

নেপাল-তিব্বতে মৃত বেড়ে ১২৭৩, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
নেপাল-তিব্বতে মৃত বেড়ে ১২৭৩, নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার
নেপালের নুয়াকোট জেলার দেবীঘাটে আকস্মিক বন্যা ও ধসের পর কাদায় ঢেকে যাওয়া একটি পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছেন এক বাসিন্দা। ছবি: এএফপি

নেপাল ও তিব্বতে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৩ জনে। আজ বৃহস্পতিবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২১৬ জনেরও বেশি। অন্যদিকে তিব্বতে চীনা কর্তৃপক্ষ ২১ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। সেখানে এখনো ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

আল-জাজিরা প্রতিবেদনে জানা যায়, চীন সীমান্তের কাছে কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে সুড়ঙ্গে শত শত শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রাসুয়া জেলায় একটি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে জমে থাকা বিশাল কাদার স্তূপ সরাতে দেখা যায় উদ্ধারকারীদের। সেখানে উপস্থিত নেপালি সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা সঞ্জয় কেসি বলেন, ‘আমরা এখনো আশা করছি, ভেতরে কেউ জীবিত থাকতে পারেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের জায়গাটি বড়। আমাদের ধারণা, পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পানিতে তলিয়ে যায়নি।’

নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা প্রতিদিন সকালে তাঁদের প্রিয়জনের কোনো খবর পাওয়ার আশায় উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে জড়ো হচ্ছেন। অনেকের জন্য এই অপেক্ষা হয়ে উঠেছে অসহনীয়।

নিখোঁজ এক প্রকৌশলীর ছেলে প্রতীক রানা বলেন, ‘প্রতিদিন এখানে আসি বাবাকে খুঁজে পাওয়ার আশায়। কিন্তু প্রতিদিন সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়, আমার আশাও ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বাবা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমার কাছে তিনি ছিলেন জীবনের অত্যন্ত মূল্যবান অংশ।’

এদিকে রাজধানী কাঠমান্ডুতে উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্তে কাজ করছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। উদ্ধার হওয়া অনেক মরদেহের অবস্থা এমন যে সেগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। উল্কি ও গয়নার মতো কিছু বিষয় পরিচয় শনাক্তে সহায়তা করলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা যথেষ্ট নয়।

গতকাল বুধবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কাজও শুরু করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত অন্য এলাকাগুলোতে দুর্গম গ্রামে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে জিপলাইন ও হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) হিসাব অনুযায়ী, বন্যা ও কাদার স্রোতে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে।

এনডিআরআরএমএর প্রধান ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, দেশটিতে প্রায় ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। উপ্রেতি আরও বলেন, একই স্থানে বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের কোনো অর্থ নেই। কারণ, এতে মানুষ আবার একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে স্থানান্তরের জন্য নিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে নতুন বসতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত নুয়াকোট ও রাসুয়ার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঐতিহাসিকভাবে দায়ী বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলোর নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি–সংক্রান্ত একটি চিঠি’ পাঠিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত