Ajker Patrika

রহস্যময় বস্তুটিকে অ্যামেলিয়ার নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ ভেবে ভুল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
রহস্যময় বস্তুটিকে অ্যামেলিয়ার নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ ভেবে ভুল
স্যাটেলাইট চিত্রে নিকুমারোরো দ্বীপের একটি উপহ্রদে তথাকথিত ‘তারাইয়া অবজেক্ট’। ছবি: বিবিসি

প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত দ্বীপে আবিষ্কৃত রহস্যময় একটি বস্তুকে ঘিরে নতুন করে আশা জেগেছিল, এটি হয়তো কিংবদন্তি বৈমানিক অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ। তবে গবেষকদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, বস্তুটি আসলে সাগরের পানিতে ভেসে আসা বড় বড় গাছের অবশিষ্টাংশ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিবিসি জানায়, কিরিবাতির নিকুমারোরো দ্বীপের তারাইয়া উপদ্বীপের একটি উপহ্রদে রহস্যময় বস্তুটির সন্ধানে গিয়েছিল গবেষক দল। ২০২০ সালে স্যাটেলাইট চিত্রে প্রথম চকচকে বস্তুটি নজরে আসে। পরে এর আকৃতি দেখে গবেষকদের মনে প্রশ্ন জাগে, এটি কি অগভীর পানিতে পড়ে থাকা কোনো ছোট বিমানের অংশ? যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয় এ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাষ্য অনুযায়ী—‘তারাইয়া অবজেক্ট’ নামে পরিচিত বস্তুটি সম্ভবত উপদ্বীপের বালুচরে জমা হওয়া বড় বড় গাছের সমষ্টি। গবেষক দল সেখানে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংসাবশেষের বড় একটি অংশ ভেঙে যায় এবং পানিতে ভেসে সরে যায়। শেষ পর্যন্ত কেবল ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মতো দেখতে একটি অংশ অবশিষ্ট ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, ১৯৩৮ সালের পুরোনো ছবিতেও বস্তুটির অস্তিত্ব দেখা যায়।

গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক রিক পেট্রিগ্রিউ বলেন, প্রায় ৯০ বছর ধরে এই রহস্যের সমাধান খোঁজা হচ্ছে, কিন্তু রহস্য এখনো অমীমাংসিত। দ্বীপটি যেন নিজের গোপনীয়তা আগলে রেখেছে। তবে একদিন এখানে নিখোঁজ বিমানের বিষয়ে চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

১৯৩৭ সালে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করার সময় নিখোঁজ হন অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট। ছবি: বিবিসি
১৯৩৭ সালে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করার সময় নিখোঁজ হন অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট। ছবি: বিবিসি

১৯৩৭ সালে বিশ্ব প্রদক্ষিণের অভিযানের সময় নিখোঁজ হন অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট ও তাঁর সহকারী ফ্রেড নুনান। দুই ইঞ্জিনের লকহিড ইলেকট্রা বিমানে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়া পাড়ি দিয়ে তাঁরা পাপুয়া নিউগিনির লাই শহরে পৌঁছেছিলেন। সেখান থেকে হাওয়াই হয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।

কিন্তু জ্বালানি নেওয়ার জন্য হাউল্যান্ড দ্বীপে যাওয়ার পথে বিমানটি নিখোঁজ হয়। নিকুমারোরো দ্বীপ থেকে হাউল্যান্ডের দূরত্ব প্রায় ৬৪৪ কিলোমিটার। একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, পথ হারিয়ে ইয়ারহার্ট নিকুমারোরোতে অবতরণ করতে বাধ্য হন এবং সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

এবার গবেষক দলটি সমুদ্রপথে পাঁচ দিন যাত্রা করে ওই দ্বীপে পৌঁছায়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনুসন্ধান শুরু করতেও বিলম্ব হয়। পরে চার দিন ধরে চলে সরেজমিন তদন্ত। তবে এবারের অনুসন্ধানেও ইয়ারহার্টের নিখোঁজ হওয়ার রহস্যের নিশ্চিত সমাধান মেলেনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত