
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উত্তাল সময়ে ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জায়নবাদী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো নাৎসি জার্মানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। ইসরায়েলের সদ্য অবমুক্ত হওয়া কিছু গোপন নথিতে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বা আইডিএফের আর্কাইভ থেকে নথিগুলো সম্প্রতি উন্মুক্ত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
হারেৎজের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম দ্য ক্রেডল জানিয়েছে, ১৯৪১ সালের মে মাসের এক নথিতে হাগানাহ নামক এক জায়নবাদী মিলিশিয়া গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান কমান্ডার এলিয়াহু গোলম্বের বক্তব্য পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, তৎকালীন ফিলিস্তিন ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল। গোলম্বের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিটিশদের বিতাড়িত করার জন্য একটি প্রতিদ্বন্দ্বী জায়নবাদী মিলিশিয়া গোষ্ঠী নাৎসি জার্মানির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল।
গোলম্ব বলেছিলেন, ‘শত্রুপক্ষের (জার্মানদের) সঙ্গে যোগাযোগ আছে—এমন একদল ইহুদির ব্যাপারে আমার কাছে সন্দেহজনক তথ্য রয়েছে। সেই তথ্যানুযায়ী, এক ব্যক্তি জার্মানদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁকে চেনা যায়; তাঁর নাম ‘এস’।’ এই এস আসলে ছিলেন ‘লেহি’ নামক আন্ডারগ্রাউন্ড জায়নবাদী মিলিশিয়া গোষ্ঠীর নেতা আব্রাহাম ইয়ার স্টার্ন। যাকে ‘স্টার্ন গ্যাং’ নামেও ডাকা হতো। গোলম্বের এই বক্তব্য সেই সময়েই হাগানাহর গোয়েন্দা নথিতে ‘অক্ষশক্তির সঙ্গে যোগাযোগ’ শিরোনামে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।
অবমুক্ত হওয়া এই নথিতে স্টার্ন গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে ইতালি ও জার্মানির মতো অক্ষশক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টার বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য হাগানাহ, পরবর্তীকালে শিন বেত (ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা) এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সংগ্রহ করে। ব্রিটিশদের বিতাড়িত করতে এবং সেখানকার আদিবাসী মুসলিম ও খ্রিষ্টান ফিলিস্তিনিদের হটিয়ে দিয়ে ফিলিস্তিন দখল করার জন্যই স্টার্ন নাৎসি জার্মানির সহায়তা চেয়েছিলেন।
তাঁর এ অবস্থান ফিলিস্তিনের তৎকালীন অধিকাংশ ইহুদি জনগোষ্ঠীর চেয়ে ভিন্ন ছিল। কারণ, তারা তখন হিটলারের জার্মানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্রিটেনকে সহায়তার লক্ষ্যে নিজেদের স্বাধীনতা সংগ্রাম স্থগিত রেখেছিল। কিন্তু স্টার্ন যুক্তি দিয়েছিলেন, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্য বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে ভালো সময় আর হয় না। ব্রিটিশ বাহিনী তখন চারদিকে ব্যস্ত থাকবে...তাদের পরাস্ত করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘ইহুদিরা এই যুদ্ধের একটি পক্ষ, তাই তারা নিরপেক্ষ থাকতে পারে না। ব্রিটেন ইহুদিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং তারা কখনোই ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হতে দেবে না। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনে জার্মানির বিশেষ কোনো স্বার্থ নেই। যেহেতু নাৎসিরা ইউরোপকে ইহুদিমুক্ত করতে চায়, তাই তাদের নিজেদের রাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেওয়ার চেয়ে সহজ আর কিছু হতে পারে না।’
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্টার্ন বিশ্বাস করতেন—জার্মানদের সঙ্গে একটি বাস্তবসম্মত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তাঁর পরিকল্পনা ছিল জার্মানদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে ইউরোপের ইহুদিদের নিয়ে একটি বিশেষ সেনাবাহিনী গঠন করা। সেই বাহিনী যুদ্ধ করে ফিলিস্তিনে পৌঁছাবে এবং ব্রিটিশদের কাছ থেকে সেটি ছিনিয়ে নেবে। স্টার্ন মনে করতেন, জার্মানরা এতে রাজি হবে। কারণ, এতে একদিকে যেমন তারা ইহুদিদের হাত থেকে রেহাই পাবে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্য থেকে ব্রিটিশদেরও হটানো যাবে।
স্টার্নের মতে, কিছু জার্মান কর্মকর্তাও ইহুদিদের ইউরোপ থেকে এনে ফিলিস্তিনে পুনর্বাসনের পক্ষপাতি ছিলেন। তাঁরা ভাবতেন, এতে ইহুদিরা কৃতজ্ঞ থাকবে এবং পরবর্তীকালে জার্মানিকে সাহায্য করবে। অক্ষশক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সেই ফাইলে স্টার্নকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘জার্মানরা দেশ দখল করার পর আমরা তাদের সঙ্গে কোনোভাবে মানিয়ে নেব, ঠিক যেভাবে সোভিয়েতরা প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিল।’
অন্য একটি দলিলে বলা হয়েছে, স্টার্ন ‘বিদেশি শক্তির সহায়তায় পুরো ইরেৎজ ইসরায়েল (ফিলিস্তিন) গায়ের জোরে দখল’ করতে চেয়েছিলেন। এমনকি তাঁকে নিয়ে এমন মন্তব্যও করা হয়েছে, তিনি বিদেশি শক্তির মদদে ‘ইহুদি কুইজলিং’ (বিশ্বাসঘাতক পুতুল শাসক) হওয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে ভেবেছিলেন।
এক নথিতে দেখা যায়, স্টার্ন গ্যাং জার্মানিকে যুদ্ধের ময়দানে ‘সক্রিয় অংশীদারত্বের’ প্রস্তাব দিয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, জার্মানির নীতি এবং ইহুদিদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষার মধ্যে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। এমনকি তারা এমনও প্রস্তাব দিয়েছিল, ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে সেটি নাৎসি জার্মানির সঙ্গে মিত্রতা করবে। স্টার্ন গ্যাংয়ের এক অভ্যন্তরীণ বুকলেট বা পুস্তিকায় বলা হয়েছিল—ব্রিটেন ইহুদিদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাই জার্মানির সঙ্গে হাত মেলানোই শ্রেয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘ব্রিটেন সাবেক বিশ্বাসঘাতক। কে ঠিক করল যে—প্রতিপক্ষকে অবশ্যই ইহুদিদের বিরুদ্ধে হতে হবে? যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইহুদিদের স্বাধীন রাজনীতি করা উচিত এবং যার সঙ্গে সুবিধা হয় তার সঙ্গেই যোগ দেওয়া উচিত।’
ওই পুস্তিকায় আরও দাবি করা হয়, ‘নাৎসিরা অবশ্যই ইহুদিদের বিরুদ্ধে, কিন্তু তাদের ঘৃণা মূলত প্রবাসে থাকা (ইউরোপীয়) ইহুদিদের প্রতি। নাৎসি কর্মসূচিতে একটি জুডেনস্টাট বা ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে কোনো বিরোধিতা নেই।’
প্রকাশিত ফাইলের এক দলিলে নাফতালি লুবেনচিক নামে স্টার্ন গ্যাংয়ের এক সদস্যের উল্লেখ আছে, যাকে জার্মান প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে পাঠানো হয়েছিল। লুবেনচিক সেই সময় নাৎসি জার্মানি ও তাদের মিত্রদের হাতে ইউরোপীয় ইহুদি নিধনের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘অক্ষশক্তি ইহুদি জাতিকে আক্ষরিক অর্থে ধ্বংস করতে চায় না, বরং তারা তাদের ইউরোপ থেকে তাড়িয়ে এক জায়গায় জড়ো করতে চায়।’
লুবেনচিক অক্ষশক্তির নীতিনির্ধারকদের কাছে এটা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, ফিলিস্তিনকে সেই পুনরেকত্রীকরণের জায়গা হিসেবে নির্ধারণ করা তাদের জন্যই লাভজনক হবে। এর ফলে তারা হিব্রু জাতির বন্ধুত্ব লাভ করবে এবং ইহুদিরা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেবে। নথি অনুযায়ী, স্টার্ন গ্যাংয়ের আরেক নেতা নাতান ফ্রিডম্যান (নাতান ইয়েলিন-মোর), যিনি পরবর্তীকালে নেসেট বা ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সদস্য হয়েছিলেন, ১৯৪৩ সালেও লিখেছিলেন, ‘জার্মানি এখনো পরাজিত হয়নি এবং তারা আমাদের মিত্র হতে পারে।’

মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে অন্তত ১৮০ কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন এবং ৩৫০ টিরও বেশি অশ্লীল ভিডিও রেকর্ডের অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় এক এমপির অভিযোগের পর পুলিশ দ্রুত তাকে আটক করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়াগামী একটি ফ্লাইটে নারী সহযাত্রীকে ধর্ষণসহ যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক ৫২ বছর বয়সী ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করেছে অস্ট্রেলিয়া পুলিশ। ঘটনাটি গত সোমবারের। ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছিল।
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কথা ভাবছেন না বলে জানিয়েছেন মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের সাংবাদিক জোনাথন কার্ল। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে তিনি এ তথ্য জানান।
৩ ঘণ্টা আগে
ভারতের ছত্তিশগড়ের শক্তি জেলায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত ও ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলের ওই ঘটনার পর কেন্দ্রটিতে আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ।
৪ ঘণ্টা আগে