Ajker Patrika

ভেনেজুয়েলার রাজধানীর প্রধান সামরিক ঘাঁটির কাছে একাধিক বিস্ফোরণ, যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৪৩
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের একটি সাধারণ দৃশ্য। ছবিটি ১ ডিসেম্বর তোলা। ছবি: এএফপি
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের একটি সাধারণ দৃশ্য। ছবিটি ১ ডিসেম্বর তোলা। ছবি: এএফপি

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আকাশ ফুঁড়ে উঠছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। সেখানে অবস্থানরত আল জাজিরার প্রতিনিধি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। হামলাটি রাজধানী কারাকাসের প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনা কিংবা এর আশপাশে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছে, আজ শনিবার ভোরের দিকে কারাকাসের বাসিন্দারা প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পেয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় তেমনটি উঠে এসেছে। অন্যদিকে বার্তা সংস্থা এপির দাবি, অন্তত সাতটি বিস্ফোরণ আর নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানের আওয়াজ পাওয়া গেছে শহরটিতে। শহরের দক্ষিণাঞ্চল, যেখানে একটি বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানকার বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আল জাজিরার কাছে আসা এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শনিবার ভোরে কারাকাসের একটি জলাধারের পাশে একটি স্থাপনা থেকে আগুনের গোলা ও ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বেরোচ্ছে। চিলির সান্তিয়াগো থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে আল জাজিরার লুসিয়া নিউম্যান বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, এই বিস্ফোরণটি ঘটেছে কারাকাসের প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনা বা তার ঠিক আশপাশে।

নিউম্যান বলেন, ‘ফুয়ের্তে তিউনা ওখানকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সামরিক ঘাঁটি। ওই এলাকাজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে, আর তারপরই সব অন্ধকার হয়ে যায়, নেমে আসে ব্ল্যাকআউট।’

নিউম্যানের মতে, এই ঘটনার সঙ্গে আমেরিকার কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ‘অনুমান’ করা হচ্ছে। নিউম্যান আরও উল্লেখ করেন, ‘এই বিস্ফোরণ আসলে কীভাবে ঘটল, তা আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে এর পেছনে অভ্যন্তরীণ নাশকতার একটা সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সামরিক বাহিনীর ভেতরকার কোনো পক্ষ, যারা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চায়, তারা হয়তো এই কাজ করে থাকতে পারে।’

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা মাদক পাচার রোধে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিজেই সে কথা জানান। যদিও গত সপ্তাহে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর নেতৃত্বে তাঁর দেশে হামলার যে খবর ছড়িয়েছে, তা নিয়ে তিনি টুঁ শব্দটিও করেননি।

গত বৃহস্পতিবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে মাদুরোর এই বক্তব্য সামনে আসে। মাসখানেক ধরে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা আর সামরিক চাপের মুখেও আমেরিকার প্রতি কিছুটা নমনীয় সুরেই কথা বলছিলেন মাদুরো। তবে নিজের আগের অভিযোগ তিনি আবারও আওড়েছেন, আমেরিকা চায় তাঁর সরকারকে উৎখাত করে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভান্ডারের দখল নিতে।

মাদুরো বলেন, ‘ওদের যদি তেল লাগে, তবে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিনিয়োগের পথ খোলা আছে। যেমনটা শেভরন করছে।’ উল্লেখ্য, আমেরিকার এই তেল কোম্পানিটিই বর্তমানে ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করার অনুমতি পেয়েছে। ভেনেজুয়েলার মাটিতে আমেরিকার হামলার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মাদুরো পাশ কাটিয়ে গিয়ে বলেন, ‘এসব নিয়ে কয়েক দিন পর কথা বলা যেতে পারে।’

মাদুরোর মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাব থেকেই এটা স্পষ্ট যে আমেরিকা ভয় দেখিয়ে কিংবা শক্তি খাটিয়ে ভেনেজুয়েলার ওপর নিজেদের আধিপত্য চাপিয়ে দিতে চায়। মাদুরোর এই সাক্ষাৎকারটি ধারণ করা হয়েছিল ইংরেজি বছরের শেষ দিনে। ঠিক সেই দিনই মার্কিন সামরিক বাহিনী মাদক পাচারের অভিযোগে পাঁচটি নৌকায় হামলা চালিয়ে অন্তত পাঁচজনকে হত্যা করে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ নিয়ে মোট ৩৫টি নৌকায় হামলার ঘটনা ঘটল এবং প্রাণ হারালেন অন্তত ১১৫ জন। এই নিহতদের তালিকায় ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার নাগরিকরাও রয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমার সন্তানেরা কী করেন, ১৬ বছর কেমন কেটেছে

ছেড়ে দিলে কী আর করার: মোস্তাফিজ

ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে ‘ধরে নিয়ে গেল’ যুক্তরাষ্ট্র

মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ায় শাহরুখ খানের ক্ষমা চাওয়া উচিত: সর্বভারতীয় ইমাম সংগঠনের সভাপতি

মাদুরোকে ধরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র—নিশ্চিত করল ভেনেজুয়েলা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত