Ajker Patrika

মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে টেলিনর সদর দপ্তরে অভিযান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ০৯
মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে টেলিনর সদর দপ্তরে অভিযান
২০১৮ সালে ইয়াঙ্গুনে টেলিনরের একটি আউটলেট। ছবি: দ্য ইরাবতী

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তা সরকারকে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া ও মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে নরওয়ের টেলিযোগাযোগ কোম্পানি ‘টেলিনর’-এর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অসলোর ফোর্নেবুতে অবস্থিত টেলিনরের প্রধান কার্যালয়ে এই তল্লাশি চালানো হয়।

চলতি বছরের শুরুর দিকে সুইডেনভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা ও মিয়ানমারের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা টেলিনরের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, টেলিনর তাদের মিয়ানমারের গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও অবস্থান জান্তা সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিল। পরে এসব তথ্য ব্যবহার করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকর্মীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারিক নির্যাতন চালায়।

নরওয়েজীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দুটি পৃথক তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই নজরদারি সরঞ্জাম বিক্রি।

নরওয়ের জাতীয় অপরাধ তদন্ত সংস্থা (ক্রিপোস) ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত সময়কালে মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে টেলিনরের সম্ভাব্য সহযোগিতা খতিয়ে দেখছে। এ ছাড়া টেলিনর মিয়ানমার (টিএমএল) বিক্রির সময় অনুমতি ছাড়াই সংবেদনশীল নজরদারি সরঞ্জাম (স্পাইওয়্যার) বিক্রি করা হয়েছিল কি না, এ বিষয়েও তদন্ত করছে নরওয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা (পিএসটি)। নরওয়েতে এই ধরনের নজরদারি সরঞ্জাম বিক্রি সরাসরি আইনের লঙ্ঘন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখল করে এবং ২০২২ সালের ২৫ মার্চ টেলিনর তাদের মিয়ানমার শাখা বিক্রি করে।

নরওয়ে সরকারের ৫৪ শতাংশ রাষ্ট্রীয় অংশীদারত্ব রয়েছে টেলিনরে। অভিযানের পর প্রতিষ্ঠানটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তারা তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করতে সব ধরনের সহায়তা দেবে। তবে টেলিনর দাবি করেছে, স্থানীয় কর্মীদের ওপর জান্তা সরকারের চরম মানসিক চাপ ছিল এবং নির্দেশ না মানলে কর্মীদের কারাদণ্ড, নির্যাতন বা মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, যার কারণে তাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে টেলিনরের বিরুদ্ধে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস ফর মিয়ানমার’। নতুন করে তদন্ত শুরুর এই সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র ইয়াদানার মং বলেন, টেলিনরের মাধ্যমে জান্তার হাতে স্পাইওয়্যার পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রাহকের তথ্য হস্তান্তরের বিষয়টি তথ্যপ্রমাণসহ নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে টেলিনরের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও বিপজ্জনক সরঞ্জাম বিক্রির কারণে মিয়ানমারের জনগণের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে মিয়ানমারে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করা টেলিনর মিয়ানমারের ২০২১ সাল নাগাদ ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি গ্রাহক ছিল। পরে ২০২১ সালের জুলাইয়ে তারা ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। পরে লেবানিজ প্রতিষ্ঠান ‘এমওয়ান গ্রুপ’-এর কাছে তারা শাখাটি বিক্রি করে।

তথ্যসূত্র: এএফপি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত