Ajker Patrika

ব্যাঙের বিষে নাভালনিকে হত্যা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২: ২০
ব্যাঙের বিষে নাভালনিকে হত্যা
রাশিয়ার প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন অ্যালেক্সেই নাভালনি। ছবি: এএফপি

রাশিয়ার প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে হত্যার জন্য বিষাক্ত ‘ডার্ট ফ্রগ’ (এক প্রজাতির বিষাক্ত ব্যাঙ) থেকে তৈরি একটি বিশেষ প্রাণঘাতী টক্সিন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের। সাইবেরিয়ার পেনাল কলোনিতে নাভালনির রহস্যজনক মৃত্যুর দুই বছর পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে ব্রিটেন ও তার মিত্রদেশগুলো এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। মরদেহের নমুনার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ শেষে তারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি ক্রেমলিনকে দায়ী করেছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাভালনির শরীর থেকে সংগৃহীত জৈবিক নমুনার বিশ্লেষণে ‘এপিব্যাটিডাইন’ নামক একটি টক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই বিষ মূলত এক প্রজাতির বিশেষ বিষাক্ত ব্যাঙের চামড়া থেকে সংগ্রহ করা হয়। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নাভালনির শরীরে এই টক্সিন পাওয়ার পেছনে কোনো স্বাভাবিক ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। তাঁর শরীরে এটি প্রয়োগ করেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

জার্মানিতে চলমান মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, ‘রাশিয়ায় কারাবন্দী থাকা অবস্থায় অ্যালেক্সেই নাভালনির শরীরে এই প্রাণঘাতী বিষ প্রয়োগ করার সামর্থ্য, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ—সবই কেবল রুশ সরকারের ছিল।’

ইভেট কুপার আরও বলেন, ‘রাশিয়া নাভালনিকে তাদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখত। এই ধরনের বিষ ব্যবহারের মাধ্যমে রাশিয়া তাদের হাতে থাকা জঘন্য সব হাতিয়ারের প্রদর্শন করেছে এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি তাদের চরম ভীতি প্রকাশ পেয়েছে।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাভালনিকে বিষ প্রয়োগে হত্যার এই অভিযোগে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থাকে রাশিয়ার এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, এই বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে রাশিয়া আন্তর্জাতিক ‘রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন’ সরাসরি লঙ্ঘন করেছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং রাশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় বিরোধী নেতা ৪৭ বছর বয়সী অ্যালেক্সেই নাভালনি ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল ইয়ামালো-নেনেতের কারাগারে বন্দী অবস্থায় হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন তিনি জেলের ভেতরে কিছু সময় হাঁটার পর অসুস্থতা বোধ করেন এবং হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর আর তাঁর জ্ঞান ফেরেনি। তাঁর পরিবার পরে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।

মৃত্যুর আগে নাভালনি দীর্ঘ তিন বছর ভিত্তিহীন অভিযোগে কারাবন্দী ছিলেন। ২০২০ সালেও তাঁকে ‘নভিচক’ নামে স্নায়ু বিকল করার বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় জার্মানিতে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পরপরই বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া শুরু থেকে দাবি করে আসছিলেন, তাঁর স্বামীকে জেলের ভেতরে বিষ দিয়ে খুন করা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইউলিয়া জানিয়েছিলেন, দুটি ভিন্ন দেশের গবেষণাগারে নাভালনির নমুনার (গোপনে পাচার করা) বিশ্লেষণে খুনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যদিও সে সময় তিনি বিষের নাম বা ল্যাবরেটরির বিস্তারিত প্রকাশ করেননি, তবে আজ যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তাঁর সেই দীর্ঘ লড়াই ও আশঙ্কাই সত্য বলে প্রমাণিত হলো।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক জীবনে নাভালনি পুতিনের কট্টরবিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে রাশিয়ার দুর্নীতি ও শাসনব্যবস্থার কড়া সমালোচক ছিলেন তিনি। রাশিয়ায় তিনি কয়েক যুগ ধরে বিদ্যমান সরকার ও শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলে আসছিলেন। দেশজুড়ে এ নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনও করেন।

২০১৪ সালে করা একটি অর্থ আত্মসাৎ মামলায় তাঁকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে তাঁকে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপরে আবার আদালত অবমাননার অভিযোগে তাঁকে আরও ৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২১ সালের আগস্টে চরমপন্থার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নাভালনিকে আরও ১৯ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত