
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে যিশুর মতো চরিত্রে ফুটিয়ে তুলে একটি এআই জেনারেটেড (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি) ছবি পোস্ট করেছিলেন। একসঙ্গে খ্রিষ্টধর্মীয় সর্বোচ্চ নেতা পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক মন্তব্য করার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। খ্রিষ্টান রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
গত রোববার ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি শেয়ার করেন এবং গতকাল সোমবার তা সরিয়ে ফেলেন। ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প সাদা আলখাল্লা পরে আছেন এবং একজন ব্যক্তির মাথায় হাত রাখছেন, যা অনেকটা অলৌকিক নিরাময়ের দৃশ্যের মতো।
এই পোস্টটির আগে তিনি পোপের লিওর সমালোচনা করে একটি বার্তা দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেন। পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ছবিটি তিনি পোস্ট করলেও তাঁর মনে হয়েছে এটি তাঁকে একজন ‘চিকিৎসক’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, ‘এটি রেড ক্রসের একজন কর্মীর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যাকে আমরা সমর্থন করি। শুধু ভুয়া নিউজ মিডিয়াই এমন ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, তিনি এমন কোনো পোপ চান না যে ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে’।
আলজিয়ার্স যাওয়ার পথে সোমবার পোপ লিও বলেন, ‘আমি তাঁর (ট্রাম্প) সঙ্গে কোনো তর্কে জড়াতে চাই না।’ উল্লেখ্য, প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত এই পোপ বর্তমানে আফ্রিকার চারটি দেশে ১১ দিনের সফরে রয়েছেন। পোপ লিও বলেন, ‘আমি যুদ্ধের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হওয়া চালিয়ে যাব; শান্তি বজায় রাখা, সংলাপ ত্বরান্বিত করা এবং দেশগুলোর মধ্যে বহুপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে সমস্যার সঠিক সমাধান খোঁজার চেষ্টা করব।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আজ বিশ্বে অনেক মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। প্রচুর নিরপরাধ মানুষ মারা যাচ্ছে। আমি মনে করি, কারোর না কারোর উঠে দাঁড়িয়ে বলা উচিত যে এর চেয়েও ভালো কোনো পথ আছে।’
এদিকে, হোয়াইট হাউস এবং ভ্যাটিকানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা বাড়ছে, বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি, সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ ক্যাথলিক নেতারাও পোপকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ইউএস কনফারেন্স অব ক্যাথলিক বিশপসের প্রেসিডেন্ট আর্চবিশপ পল এস কোকলি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পবিত্র পোপ সম্পর্কে এমন অবমাননাকর শব্দ চয়ন করায় আমি মর্মাহত। পোপ লিও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী নন, এমনকি পোপ কোনো রাজনীতিবিদও নন।’ কোকলি আরও বলেন, ‘তিনি খ্রিষ্টের প্রতিনিধি (Vicar of Christ), যিনি সুসমাচারের সত্য থেকে কথা বলেন এবং মানুষের আত্মার কল্যাণে কাজ করেন।’
আন্তর্জাতিকভাবেও ট্রাম্পের মন্তব্য নিন্দিত হয়েছে। ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের এই আক্রমণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মহান পোপের প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শব্দ চয়নকে আমি অগ্রহণযোগ্য মনে করি। পোপ ক্যাথলিক চার্চের প্রধান এবং শান্তির আহ্বান জানানো ও সব ধরনের যুদ্ধের নিন্দা করা তাঁর জন্য সঠিক ও স্বাভাবিক।’
এই প্রতিক্রিয়া কেবল গির্জার নেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বেশ কয়েকজন রক্ষণশীল ব্যক্তিত্বও ট্রাম্পের পোস্টের, বিশেষ করে এআই জেনারেটেড ছবিটির সমালোচনা করেছেন।
রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির যুব উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক কো-চেয়ার ব্রিলিন হলিহ্যান্ড এক্সে লিখেছেন, ‘এটি চরম ঈশ্বরবিদ্বেষ। বিশ্বাস কোনো প্রচার সরঞ্জাম নয়। আপনার কাজের রেকর্ডই যেখানে সব কথা বলে, সেখানে নিজেকে ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করার প্রয়োজন নেই।’

হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার রীতিমতো কেঁপে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে তেল–গ্যাসের ঊর্ধ্বমুখী দামের চাপ সামাল দিতে ইতিমধ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ব্যবহার করে
৯ মিনিট আগে
ইসরায়েলি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে ইরানের অন্তত ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি এই পরিমাণ জানান। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহায়তা করার অভিযোগ
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে বৃহস্পতিবার আবারও ইসলামাবাদে ফিরতে পারে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়া শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরই এমন খবর সামনে এল।
২ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা ও তা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং চারটি প্রস্তাব পেশ করেছেন। তাঁর প্রস্তাব এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আগ্রাসনের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
৩ ঘণ্টা আগে