Ajker Patrika

ইসরায়েলি হামলার মধ্যেই ফিলিস্তিনে চলছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ১৩
ইসরায়েলি হামলার মধ্যেই ফিলিস্তিনে চলছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
২০২৩ সালের পর এই প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: এএফপি

দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাত, অবরুদ্ধ জীবন এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই এক বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হচ্ছে ফিলিস্তিন। অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের দেইর আল-বালাহ এলাকায় শুরু হয়েছে স্থানীয় সরকার বা মিউনিসিপ্যাল নির্বাচন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ অভিযান ও ‘গণহত্যামূলক’ যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম কোনো নির্বাচন। তবে গণতান্ত্রিক এই প্রক্রিয়ার সমান্তরালে আজও উপত্যকাজুড়ে ঝরছে রক্ত; ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নারী, শিশুসহ অন্তত ১২ জন।

রামাল্লাহভিত্তিক সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিশনের (সিইসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ১৫ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু গাজার দেইর আল-বালাহ অঞ্চলেও প্রায় ৭০ হাজার মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। আজ শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ভোটকেন্দ্রগুলো উন্মুক্ত করা হয়েছে।

গাজাবাসীর জন্য এই নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং চরম মানবিক সংকটের মাঝেও নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক নীরব সংগ্রাম। গাজার অধিকাংশ মানুষ যখন খাবার, পানি ও ওষুধের মতো মৌলিক চাহিদার জন্য হাহাকার করছেন, তখন ভোটকেন্দ্রে তাঁদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে এক বিশেষ বার্তা দিচ্ছে।

ভোট গ্রহণের উৎসবের মধ্যেই গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের বর্বরোচিত হামলা জোরদার করেছে। গত কয়েক ঘণ্টার অভিযানে পৃথক স্থানে মোট ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী এবং তার নিষ্পাপ শিশু রয়েছে, যারা নিজ বাড়িতেই হামলার শিকার হন। দেইর আল-বালাহ এলাকায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, এতে তাঁরা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭২ হাজার ৫৬৮ এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৮ ছাড়িয়েছে। ছয় মাস ধরে নামমাত্র যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাত্যহিক হামলায় প্রায় এক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করার নাম করে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী—নাবলুস শহরের পূর্বে সালেম গ্রামে অভিযান চালিয়ে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় বাহিনী নির্বিচারে গুলি ছোড়ে এবং ওই যুবকের ব্যক্তিগত গাড়িটি গুঁড়িয়ে দেয়।

রামাল্লাহর আল-মুঘাইয়ির গ্রাম থেকে পাঁচজন তরুণকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, কোনো কারণ ছাড়াই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া অবরুদ্ধ বেথলেহেমের তুকু শহরে সামরিক বাহিনী তাণ্ডব চালিয়েছে এবং আল-মানশিয়্যা ও মারাহ রাবাহ এলাকার প্রবেশপথের প্রধান লোহার গেটগুলো তালাবদ্ধ করে দিয়ে পুরো এলাকাকে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।

নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা গ্রামে ইসরায়েলি উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের অন্তত দুটি ব্যক্তিগত গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বসতবাড়িতে পাথর নিক্ষেপ করে। এই সহিংসতা চলাকালীন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কেবল দর্শক হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

৭ দিনের গণভোট প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক: রিফাত রশিদ

অধ্যক্ষকে জড়িয়ে আপত্তিকর কথা বলায় প্রথমে থাপ্পড় দেন প্রদর্শক

উত্তরায় মদের বারে অভিযান, নারীসহ ১৪০ জন গ্রেপ্তার

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য মার্কিন অভিবাসী ভিসা স্থগিত

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত