
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অভিযোগ করেছেন, ভারত একটি ‘ফলস-ফ্ল্যাগ অপারেশন’ বা ‘সাজানো অভিযান’ চালানোর পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেছেন, এর উদ্দেশ্য হলো—যাতে দোষ চাপানো যায় পাকিস্তানের ওপর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এমন কোনো ‘নাটক’ মঞ্চস্থ করা হলে নয়াদিল্লিকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এমনকি তাড়িয়ে তাদের কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে।
পাকিস্তানের শিয়ালকোটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে খাজা আসিফ বলেন, তারা (ভারত) নিজেদের লোকজন দিয়ে কিংবা তাদের হেফাজতে থাকা পাকিস্তানিদের ব্যবহার করে কোনো ধরনের ফলস-ফ্ল্যাগ অপারেশন করতে পারে—কোথাও কিছু লাশ ফেলে রেখে বলবে—তারা সন্ত্রাসী ছিল এবং এমন-তেমন কাজ করেছে।
গত বছরের চার দিনের যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খাজা আসিফ আরও বলেন, প্রায় এক বছর আগে তারা যে ধরনের অপমানের মুখে পড়েছিল...পুরো বিশ্ব, এমনকি তাদের নিজেদের জনগণও তাদের বিদ্রূপ করে। তারা তো প্রতিটি দিক থেকে পাকিস্তানের তুলনায় পাঁচ গুণ বড়—জনসংখ্যা, সম্পদ, সামরিক শক্তি, বিমানবাহিনী।
পাকিস্তানের মন্ত্রী দাবি করেন, ভারতীয় নেতৃত্ব এমন প্রতিক্রিয়ার মুখে ‘পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত’ পড়তে থাকবে। গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এবার যদি তারা এমন কোনো নাটক করার চেষ্টা করে, ইনশা আল্লাহ আমরা তাদের তাড়িয়ে কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে যাব।’ কলকাতা শহরটি বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে পূর্ব ভারতের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী।
এর কয়েক দিন আগেই নিরাপত্তা সূত্রগুলো সতর্ক করেছিল, ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি ফলস-ফ্ল্যাগ অপারেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে সীমান্ত ভুলবশত অতিক্রম করার পর আটক হওয়া পাকিস্তানি নাগরিকদের ব্যবহার করা হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার খাজা আসিফ তাঁর ভারতীয় সমকক্ষ রাজনাথ সিংকে স্মরণ করিয়ে দেন, দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধের কোনো সুযোগ আছে—এমন ধারণা অবাস্তব এবং এর পরিণতি ভয়াবহ।
রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খাজা আসিফ এই মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারে কেরালায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাজনাথ সিং বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের ‘দুঃসাহস’ দেখানো হলে তার বিপরীতে এমন এক ‘নজিরবিহীন ও চূড়ান্ত’ পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
রাজনাথ সিংয়ের দাবি, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগাম হামলার পর ভারত পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ‘আমি আপনাদের বলতে চাই, অভিযান এখনো শেষ হয়নি। পাকিস্তান যদি আবারও এমন কোনো নোংরা কাজ করে, তবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের এমন দাঁতভাঙা জবাব দেবে, যা তারা কোনো দিন ভুলবে না। এবার যা ঘটবে, তা হবে এক নজিরবিহীন ব্যবস্থা।’
রাজনাথ সিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা আরও সুসংহত হয়েছে এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও কাজের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও বলেন, ‘উরি সন্ত্রাসী হামলার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হোক বা পুলওয়ামায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার জবাবে বিমান হামলা কিংবা পেহেলগাম ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে অপারেশন সিঁদুর—সব ক্ষেত্রেই আমরা সন্ত্রাসবাদের মূলে চরম আঘাত হেনেছি।’
জবাবে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খাজা আসিফ বলেন, ‘পুনরাবৃত্তি করা এমন বক্তব্য শক্তির প্রতিফলন নয়, বরং কৌশলগত উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ—বিশেষ করে, পেহেলগামে মঞ্চস্থ তথাকথিত ফলস-ফ্ল্যাগ অপারেশনের বার্ষিকী ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে—যে ঘটনা আন্তর্জাতিক যাচাই-বাছাইয়ে টেকেনি এবং নয়াদিল্লির ‘‘নির্মিত সংকট’’-নির্ভরতার বিষয়টি প্রকাশ করে দিয়েছে।’ এখানে তিনি সরাসরি কোনো বক্তব্যের উল্লেখ না করলেও রাজনাথ সিংকে ট্যাগ করেছিলেন।
তথ্যসূত্র: দ্য ডন ও এনডিটিভি

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের প্রচুর বন্দুক পাঠিয়েছিলাম, আমরা সেগুলো কুর্দিদের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলাম।’ তবে তিনি ‘কুর্দি’ বলতে সুনির্দিষ্টভাবে কাদের বুঝিয়েছেন বা কোন গোষ্ঠীর মাধ্যমে এই কাজ করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।
৩৩ মিনিট আগে
ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় দেশটির সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা কলেজের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ জারে নিহত হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। ইস্টার সানডেতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটিকে ‘নরকের মতো পরিস্থিতিতে’ পড়তে হবে।
১ ঘণ্টা আগে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্য অস্থির হয়ে উঠেছে। এর প্রভাবে তেল-গ্যাসের সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে টালমাটাল পুরো বিশ্বের অর্থনীতি। যুদ্ধের এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত সব পক্ষই ছাড় না দেওয়ার অবস্থানে।
২ ঘণ্টা আগে