
পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এটি হলো—ক্রিপ্টোকারেন্সিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘ক্রিপ্টো ডিপ্লোমেসি’ বা ‘বিপ্লোমেসি’। এই কৌশলের মাধ্যমে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আর এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ৩৫ বছর বয়সী উদ্যোক্তা বিলাল বিন সাকিব।
গত জানুয়ারিতে ইসলামাবাদের এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব এক বিশেষ অতিথিকে স্বাগত জানায়। তিনি ছিলেন ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের প্রধান নির্বাহী জাকারি উইটকফ। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনটি অনেকটা রাষ্ট্রীয় সফরের মতোই মনে হয়েছিল, যদিও এটি ছিল একটি প্রাথমিক পর্যায়ের স্টেবলকয়েন চুক্তি।
সোমবার (৩০ মার্চ) এনডিটিভি জানায়, এই সম্পর্ক গড়ে তোলার পেছনে মূল কারিগর হিসেবে উঠে এসেছেন বিলাল বিন সাকিব। নিজেকে ‘ক্রিপ্টো ব্রো’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া বিলাল জানান, জীবনের শুরুতে তিনি পড়াশোনার খরচ চালাতে তিনটি কাজ করেছেন। এর মধ্যে টয়লেট পরিষ্কারের মতো কাজও ছিল। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের ক্রিপ্টো নীতিনির্ধারণে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি।
বিলালের মতে, ক্রিপ্টো কূটনীতি পাকিস্তানকে বিশ্ব মানচিত্রে নতুনভাবে পরিচিত করেছে। এই কৌশলই ট্রাম্প ও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে সহায়তা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক যেখানে মার্কিন নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এই ধরনের অপ্রচলিত মাধ্যম পাকিস্তানকে বাড়তি প্রভাব এনে দিয়েছে।
পাকিস্তান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য উত্তেজনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জানা গেছে, ইসলামাবাদ একটি ১৫ দফা কর্মপরিকল্পনা দিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
একসময় ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রতি অনাগ্রহী পাকিস্তান এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছে। জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের আশঙ্কায় দীর্ঘদিন এই খাত থেকে দূরে থাকলেও, ২০২৪ সালের পর থেকে দেশটি দ্রুত নীতিগত পরিবর্তন আনে। ভার্চুয়াল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়ন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এমনকি জাতীয় ক্রিপ্টো রিজার্ভ গঠন এবং বিদ্যুতের একটি অংশ ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিলাল খুব দ্রুত পাকিস্তান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ পান। তিনি এখন অর্থমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা, পাকিস্তান ক্রিপ্টো কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী এবং ভার্চুয়াল অ্যাসেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর যোগাযোগ বিস্তৃত। তিনি চেংপেং ঝাও-এর মতো ক্রিপ্টো জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। এ ছাড়া তিনি নাইব বুকেলে এবং মাইকেল সেইলরের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তুলেছেন।
পাকিস্তানের জন্য এই কৌশল শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈশ্বিক প্রাসঙ্গিকতা বাড়ানোর একটি মাধ্যম। দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক সংকট, ঋণ এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে থাকা দেশটি এখন নতুনভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে।
তবে ঝুঁকিও কম নয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে সম্পর্ক, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা—সবকিছুই এই অগ্রগতিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবুও বিলাল আশাবাদী। তাঁর মতে, প্রযুক্তি ও তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পাকিস্তান ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টোকে হাতিয়ার করে পাকিস্তান এক নতুন কূটনৈতিক পথ তৈরি করেছে—যেখানে প্রযুক্তি, রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক মিলেই গড়ে উঠছে নতুন বৈশ্বিক সমীকরণ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর আরোপিত জ্বালানি অবরোধ আংশিক শিথিল করে একটি রুশ তেলবাহী একটি ট্যাংকারকে দেশটিতে পৌঁছানোর অনুমতি দিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকটে ভোগা কিউবা সাময়িক স্বস্তি পেয়েছে।
২৮ মিনিট আগে
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ইরানের নতুন নেতাদের সঙ্গে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু যদি কোনো কারণে চুক্তি না হয় এবং হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেওয়া না হয়, তবে আমরা আমাদের এই ‘অবস্থান’ থেকে সরে এসে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র,
২ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই দ্বীপটি পারস্য উপসাগরের উত্তরে অবস্থিত এবং ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরান-ইরাক সীমান্তঘেঁষা তুষারঢাকা পাহাড়ে, গোপন এক গুহার ভেতরে বসে তৈরি হচ্ছে এমন এক যুদ্ধের প্রস্তুতি—যা শুধু দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকেই নাড়া দিতে পারে। কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী পেশমার্গা এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলো এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে সুযোগ আর
৫ ঘণ্টা আগে