Ajker Patrika

প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৩৫
প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: এএফপি

পৃথিবীর কক্ষপথে একটি মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে ওই ‘অন-অরবিট’ অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইঙ্ক বলেন, মহাকাশে ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। তবে অস্ত্রটির ধরন, সক্ষমতা কিংবা ঠিক কখন সেটিকে কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এর আগে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, রাশিয়া ও চীন এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সংঘাতে মার্কিন স্যাটেলাইটে হামলা কিংবা সেগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করা সম্ভব হতে পারে।

আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিবিসি জানায়—যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু না করার আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং সেখানে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া বন্ধ করা।

তবে নতুন অস্ত্রটি কীভাবে কাজ করে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন স্পেস ফোর্স জানিয়েছে, ‘স্পেস কন্ট্রোল’-এর আওতায় শত্রুপক্ষের মহাকাশ সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত, দুর্বল এমনকি প্রয়োজনে ধ্বংস করার মতো আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

ব্রিটিশ সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (RUSI) বিশেষজ্ঞ বেলডিন বাওয়েনের মতে, নতুন অস্ত্রটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বা রেডিও জ্যামিংয়ের কোনো ব্যবস্থা হতে পারে। এর মাধ্যমে স্যাটেলাইটের যোগাযোগব্যবস্থা অচল বা বিঘ্নিত করা সম্ভব। আবার এটি এমন কোনো ‘কাইনেটিক কিল ভেহিকল’ও হতে পারে, যা কোনো স্যাটেলাইটে আঘাত করে সেটিকে ধ্বংস করতে পারে। তবে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারে বিপুল পরিমাণ মহাকাশবর্জ্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি তুলনামূলক কম বলে মনে করেন তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসন মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। এর লক্ষ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেওয়া।

১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তিতে কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়। তারপরও যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনসহ প্রধান সামরিক শক্তিগুলো এরপর থেকে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট লক্ষ্যবস্তু করা, যোগাযোগ ব্যাহত করা ও নজরদারির মতো বিভিন্ন মহাকাশ সক্ষমতা উন্নয়ন করে আসছে।

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন স্পেস ফোর্সের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত যোগাযোগ ও নজরদারি স্যাটেলাইট সুরক্ষিত রাখা। নতুন অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকৃতি মহাকাশকে ভবিষ্যৎ সামরিক সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখার প্রবণতাকেই আরও স্পষ্ট করল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত