Ajker Patrika

হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতীয় ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি নিয়ে বিভ্রান্তি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতীয় ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি নিয়ে বিভ্রান্তি
বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল বহনকারী লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘শেনলং’ মুম্বাই বন্দরে পৌঁছেছে। ছবি: রয়টার্স

ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে ইরান—এমন দাবি করেছে ভারতের একটি সরকারি সূত্র। তবে দেশের বাইরে অবস্থানরত একটি ইরানি সূত্র এই ধরনের কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এই বিষয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে তেল পরিবহন ঝুঁকির মুখে পড়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি সামনে এসেছে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। তাই এই রুটের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল ভোক্তা দেশ ভারতের উদ্বেগে রয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত কয়েক দিনে তিনবার টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধির জয়সোয়াল বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন—সর্বশেষ আলোচনায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এর বাইরে কোনো চুক্তি হয়েছে কি না—সেই বিষয়ে মন্তব্য করা এখনো সময়োপযোগী নয় বলে জানান তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল বহনকারী লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘শেনলং’ মুম্বাই বন্দরে পৌঁছেছে। তথ্য বিশ্লেষণ সংস্থা এলএসইজি-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতে পৌঁছানো এটি প্রথম তেলবাহী জাহাজ। জাহাজটির গ্রাহক ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ‘ভারত পেট্রোলিয়াম’।

ভারতীয় সূত্র বলেছে, আরও দুটি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ সম্প্রতি প্রণালিটি অতিক্রম করেছে এবং গত মঙ্গলবার দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনার পর ইরান ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের আশ্বাস দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল এবং ইরানের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নির্দেশ কীভাবে পৌঁছাচ্ছে তা পরিষ্কার নয়।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল অনিরাপদ হয়ে ওঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা উচিত। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান অন্তত ১৬টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত