
ওমান সাগরে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এ বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পরমাণু শক্তিচালিত রণতরিটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও অকেজো হয়ে পড়েছে, যার ফলে মার্কিন বাহিনী সেটি নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
ইরানের সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স অব দ্য হোলি প্রফেট (সা.) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সমুদ্র সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার দূরে ওমান সাগরে এই নির্ভুল অভিযান চালানো হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, হামলার পর মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেটির সহযোগী স্ট্রাইক গ্রুপকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ওই এলাকা থেকে ‘পালিয়ে যেতে’ দেখা গেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে রণতরিটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও এই হামলার সপক্ষে কোনো ভিডিও বা সুনির্দিষ্ট ছবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রচার করেনি তেহরান।
ইরানি দাবির কিছু সময় পরই এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। রণতরিটির একটি সাম্প্রতিক ছবি পোস্ট করে সেন্টকম জানায়, ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ বর্তমানে পুরোপুরি সচল এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমর্থনে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রণতরির ধারেকাছেও আসতে পারেনি।
তবে মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমান সাগরে একটি ইরানি নৌযান মার্কিন রণতরির খুব কাছাকাছি চলে এলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আত্মরক্ষার্থে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার থেকে ৫-ইঞ্চি মার্ক ৪৫ গান দিয়ে ইরানি নৌযানটির ওপর কয়েক দফা গুলি চালানো হয়। তবে ইরানি জাহাজটি শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এগুলো ছিল মূলত সতর্কতামূলক গুলি। কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ইরানি জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলেও একাধিকবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত একটি হেলিকপ্টার ইরানি জাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মারে। ইরানি জাহাজ এবং এর ক্রুদের অবস্থা জানা যায়নি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঘটনাটি ঘটে।
কোন ধরনের হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়, তবে নেভি সিহক হেলিকপ্টার এবং মেরিন কর্পস ভাইপার অ্যাটাক হেলিকপ্টার উভয়েরই হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করার সক্ষমতা রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সমন্বয়ে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন নামে দুটি বিশাল রণতরি মোতায়েন করেছে। এ ছাড়াও আরব সাগরে বর্তমানে ছয়টি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার অবস্থান করছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার খবর ওমান সাগর এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি মার্কিন বিমানবাহী রণতরিতে হামলার এই দাবি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতকে নতুন এবং ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের বিস্তৃতি বাড়তে থাকায় এবং ভারতের তেল–গ্যাস আমদানির বড় অংশ বহনকারী গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হুমকির মুখে পড়ায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি বহনকারী জাহাজ নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পে
৪০ মিনিট আগে
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কি গুরুতর আহত নাকি তাঁকে গোপন আস্তানায় সুরক্ষিত করে রাখা হয়েছে? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তাঁর আহত হওয়ার খবরের পর এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
পশ্চিম ইরাকে একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ এরিয়াল রিফুয়েলিং (আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মোর্চা ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে বলেছে যে তারা ‘দেশের সার্বভৌমত্ব...
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি তথা অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই ঘোষণা দেন—ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের এটি সর্বশেষ...
৪ ঘণ্টা আগে