Ajker Patrika

রাবণ অযোধ্যায় পৌঁছে গেছে, রামমন্দিরে চুরিই এর প্রমাণ: নির্মোহী আখড়ার প্রধান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১৫: ২৬
রাবণ অযোধ্যায় পৌঁছে গেছে, রামমন্দিরে চুরিই এর প্রমাণ: নির্মোহী আখড়ার প্রধান
নির্মোহী আখড়ার প্রধান মহন্ত দীনেন্দ্র দাস। ছবি: সংগৃহীত

রাম জন্মভূমি মামলায় মুখ্য দাবিদার হিসেবে আইনি লড়াইয়ে জড়িত থাকার কারণে পরিচিত সন্ন্যাসী সংগঠন নির্মোহী আখড়ার প্রধান মহন্ত দীনেন্দ্র দাস মন্তব্য করেছেন, ‘রামলালার (রাম) ঘরে চুরির ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত ছিল না।’ তিনি আরও বলেছেন, রামের ঘরে, অর্থাৎ রামমন্দিরে চুরির বিষয়টিই প্রমাণ করে যে রাবণ এরই মধ্যে অযোধ্যায় পৌঁছে গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্মোহী আখড়া খিল ভারতীয় আখড়া পরিষদ স্বীকৃত বৈষ্ণব বৈরাগী সম্প্রদায়ের একটি প্রাচীন হিন্দুধর্মীয় সন্ন্যাসী সংগঠন। এটি মূলত অযোধ্যা রাম জন্মভূমি বিবাদে মুখ্য দাবিদার হিসেবে আইনি লড়াইয়ে জড়িত থাকার কারণে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করে। অযোধ্যার আরও বেশি মানুষকে রামমন্দির ট্রাস্টের অংশ করা উচিত ছিল কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এর আগে দ্য ওয়্যারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের ১৪ সদস্যের মধ্যে ৯ জনেরই আরএসএসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মহন্ত দীনেন্দ্র দাস ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের’ ১৪ সদস্যের একজন। নির্মোহী আখড়া ছিল রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মালিকানা বিরোধ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারী পক্ষগুলোর একটি। শেষ পর্যন্ত সেই মামলার রায় হিন্দুপক্ষের অনুকূলে যায়।

এর আগে দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ট্রাস্টের বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য গোপাল রাওয়ের সমালোচনা করেছিলেন দীনেন্দ্র দাস। তাঁর অভিযোগ ছিল, গোপাল রাও ‘রাজনীতি করছেন।’ ট্রাস্টে রুপার ইট বা অন্যান্য অলংকার উপহার দেওয়ার পর অনেকেই কোনো রসিদ পাননি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে—সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেন্দ্র দাস এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রতিটি লেনদেনের হিসাব থাকা উচিত ছিল। এমনকি রামও সমাজের নিয়ম মেনে চলতেন। সে কারণেই তিনি বনবাসে গিয়েছিলেন। তাই যদি কোনো কিছু (আর্থিক লেনদেনের প্রসঙ্গে) গোপন রাখা হয়, তাহলে সেটাই চুরির শামিল।’

রামমন্দিরের তহবিল চুরির এই ঘটনা রামমন্দির ও অযোধ্যা শহর, উভয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু চুরি ইতোমধ্যেই হয়েছে, তাই আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে—রাবণ সেখানে পৌঁছে গেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি অনুসরণ করছেন। এসবের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জেলে পাঠানো হবে। আর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মৃত্যুদণ্ডও পেতে পারেন।’

হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণের প্রধান খলনায়ক এবং লঙ্কার (বর্তমান শ্রীলঙ্কা) রাক্ষসরাজ ছিলেন রাবণ। তিনি ঋষি বিশ্রবা ও রাক্ষসী কৈকসীর পুত্র। দশ মাথা ও অসীম শক্তির অধিকারী এই রাজা ভগবান শিবের পরম ভক্ত, অত্যন্ত জ্ঞানী ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতাকে হরণ করার কারণে রামের হাতে তিনি নিহত হন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত