
্যালকোহল গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘নিরাপদ মাত্রা’ আদৌ আছে কি না—এই পুরোনো বিতর্কে নতুন করে ধাক্কা দিয়েছে সাম্প্রতিক এক বিস্তৃত গবেষণা। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের গবেষকদের নেতৃত্বে করা এই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অল্প পরিমাণ মদ্যপানও একাধিক গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে ক্যানসারের ক্ষেত্রে ঝুঁকির সম্পর্ক আরও স্পষ্ট।
হেলথ জার্নালে প্রকাশিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা মাঝেমধ্যে অল্প পানীয় গ্রহণ করেন, তারা সাধারণত জানেন এটি স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও আদর্শ নয়। কিন্তু অনেক নেশার মতোই এখানে দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল—পরিমিতি বজায় রাখলে ক্ষতি সীমিত থাকে। তবে নতুন এই বিশ্লেষণ সেই ধারণাকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
গবেষণাটি অ্যালকোহল ও মোট ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যগত ফলাফলের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেছে। ফলাফলের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ক্যানসার সংক্রান্ত তথ্য। গবেষকদের মতে, অ্যালকোহল সেবন ১০ ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, এমনকি যদি তা দিনে এক গ্লাসেরও কম হয়।
উচ্চমাত্রার অ্যালকোহল গ্রহণ ২০ টির মতো স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা গেছে। এসবের মধ্যে ক্যানসার ছাড়াও টাইপ–২ ডায়াবেটিস, আলঝেইমার রোগ, হৃদরোগ এবং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ অন্তর্ভুক্ত।
এই গবেষণার জন্য ১৯৬৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত মোট ৮৪৩টি পূর্ববর্তী গবেষণা পর্যালোচনা করা হয়। এরপর প্রতিটি রোগ ও অ্যালকোহলের সম্পর্কের শক্তি ও ধারাবাহিকতা মূল্যায়ন করে ০ থেকে ৫ স্টার স্কেলে রেটিং দেওয়া হয়, বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে।
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ এমমানুয়েলা গাকিডৌ বলেন, ‘অ্যালকোহল ও স্বাস্থ্যের বিজ্ঞান সত্যিই জটিল। কিন্তু ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রমাণগুলো একেবারে পরিষ্কার ও ধারাবাহিক—যেকোনো মাত্রার অ্যালকোহল গ্রহণেই ঝুঁকি বাড়ে।’
পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত ১০ ধরনের ক্যানসারের সব ক্ষেত্রেই অ্যালকোহলের সঙ্গে ক্ষতিকর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। সাধারণ প্রবণতা ছিল—যত বেশি পান, তত বেশি ঝুঁকি। তবে অল্প মাত্রার সেবন, অর্থাৎ দিনে এক গ্লাসেরও কম, তবুও ফ্যারিংস (গলা), কোলোরেক্টাল, খাদ্যনালি, স্তন, লিভার, অগ্ন্যাশয় এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
এর বাইরে অ্যালকোহল প্যানক্রিয়াটাইটিস, সিরোসিস এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগের ঝুঁকিও বাড়ায় বলে দেখা গেছে। তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং যক্ষ্মার সঙ্গেও একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কার্ডিওভাসকুলার, বিপাকীয় এবং স্নায়ুবিষয়ক রোগের ক্ষেত্রে চিত্রটি এতটা সরল নয়। এসব অবস্থাকে গবেষণায় ১-স্টার ও ২-স্টার শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, অল্প থেকে মাঝারি মাত্রার অ্যালকোহল সেবনের সঙ্গে টাইপ–২ ডায়াবেটিস ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কিছুটা কম থাকার সম্পর্কও রয়েছে।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এসব ফলাফলকে মদ্যপানকে সমর্থন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। গাকিডৌ বলেন, ‘কিছু কার্ডিওমেটাবলিক ও ডিমেনশিয়া সংক্রান্ত ফলাফলে কম মাত্রায় ঝুঁকি কিছুটা কম দেখা যায়, কিন্তু উচ্চমাত্রায় সেই সুরক্ষা হারিয়ে যায় এবং সম্পর্ক উল্টো হয়ে যায়।’
গাকিডৌ আরও বলেন, ‘এগুলো কোনোভাবেই মদ্যপানকে উৎসাহিত করে না। বরং দেখায়—কোথায় প্রমাণ শক্ত, কোথায় দুর্বল এবং কোথায় মিশ্র।’
গবেষণায় কিছু সীমাবদ্ধতাও উল্লেখ করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মদ্যপানের তথ্য ছিল অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব রিপোর্টের ওপর নির্ভরশীল, যা সবসময় নির্ভুল নয়। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণায় খাদ্যাভ্যাস, ধূমপানসহ অন্যান্য প্রভাবক নিয়ন্ত্রণের মানেও বড় পার্থক্য ছিল। তবুও গবেষকদের মতে, এত বড় পরিসরের বিশ্লেষণ হওয়ায় ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তাদের ব্যবহৃত পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে রক্ষণশীল ছিল, ফলে বাস্তবে অ্যালকোহলের ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে।
এ ছাড়া, আগের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা মদ্যপান ত্যাগ করেন তাদের মধ্যে একাধিক স্বাস্থ্যগত উপকারও লক্ষ্য করা যায়। গবেষকরা জনস্বাস্থ্য বার্তাকে আরও স্বচ্ছ ও বাস্তবভিত্তিক করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, অ্যালকোহলের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে আরও স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন, পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে প্রচলিত ‘নিরাপদ পান মাত্রা’ পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, বয়স ও অঞ্চলের ভিন্নতার কারণে রোগের প্রভাবও ভিন্ন হয়, তাই সবার জন্য প্রযোজ্য এমন একটি সর্বজনীন ‘নিরাপদ সীমা’ নির্ধারণের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা হওয়া উচিত জনসংখ্যাভিত্তিক, যেখানে বিভিন্ন মাত্রার সেবনের ঝুঁকি এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীতে এসব রোগের সামগ্রিক বোঝা—উভয়ই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা কৃষিসহ পরিবেশগত সংকটের সঙ্গে স্থানীয় নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৮৬ শতাংশ নারীই ‘পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (পিআইডি) নামের প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণে ভুগছে...
১৮ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩২ জন। এর মধ্যে ১১৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আর ৯১৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে।
১ দিন আগে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই থেকে তিন দিন পরপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় ডেঙ্গুবাহী মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জরিমানা করা হবে।’
১ দিন আগে
গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড গরম, ধুলোবালি, রোদের অতিবেগুনি রশ্মি এবং ঘামের কারণে চোখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। চোখ লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া করা, শুষ্কতা, অ্যালার্জি কিংবা সংক্রমণের ঝুঁকি এ সময় তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই গরমে চোখের বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১ দিন আগে