
অনেক মানুষই প্রতিদিন অন্তত এক কাপ কফি পান করেন। নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণ শরীরের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় কফি পানের সঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদ্যন্ত্র ও রক্তে শর্করার স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সূচক এবং সেক্স যৌন হরমোনের সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হয়েছে।
ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব উলুর গবেষকদের নেতৃত্বে করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা বেশি কফি পান করেন, তাঁদের শরীরে জমে থাকা চর্বি তুলনামূলক কম। একই সঙ্গে তাঁদের কঙ্কালের সঙ্গে যুক্ত পেশির পরিমাণও বেশি ছিল। তবে কফি পানকারীদের বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআইর ক্ষেত্রে বড় কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি।
তবে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফল পাওয়া গেছে যৌন হরমোন বিশ্লেষণে।
পুরুষদের মধ্যে বেশি কফি পান করার সঙ্গে শরীরে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের তুলনামূলক ভালো অবস্থা দেখা গেছে। একই সঙ্গে তাদের মোট টেস্টোস্টেরন এবং শরীরে সহজে ব্যবহারযোগ্য টেস্টোস্টেরনের মাত্রাও বেশি ছিল। অর্থাৎ, নিয়মিত কফি পানে যৌনতার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ছাড়া তাদের শরীরে সেক্স হরমোন-বাইন্ডিং গ্লোবিউলিন বা এসএইচবিজি নামের একটি প্রোটিনের মাত্রাও বেশি পাওয়া গেছে। এই প্রোটিন রক্তের মাধ্যমে যৌন হরমোন শরীরের বিভিন্ন অংশে বহন করে।
নারীদের ক্ষেত্রে এসব সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল। নারীদের মধ্যে বেশি কফি পান করার সঙ্গে এসএইচবিজির মাত্রা বেশি এবং শরীরে অবাধে ব্যবহারযোগ্য অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রা কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অ্যান্ড্রোজেন হলো এক ধরনের যৌন হরমোন, যার মধ্যে টেস্টোস্টেরনও রয়েছে। এর ফলে, নারীদের যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যেতে পারে। এমনকি যৌনাঙ্গ শুষ্ক বোধ হতে পারে।
গবেষণার প্রধান গবেষকদের একজন এবং ইউনিভার্সিটি অব উলুর পুষ্টিবিদ লুকা ভেরোয়েস্ট বলেন, প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ কফি পান করলেও শরীরের বিপাকক্রিয়া ও হরমোনের সঙ্গে কফির সম্পর্ক সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো আশ্চর্যজনকভাবে খুব কম জানেন। তিনি বলেন, গবেষণায় সবচেয়ে বেশি নজরে এসেছে কফি পানের সঙ্গে একটি আলাদা ধরনের হরমোনগত সম্পর্ক। বিএমআই এবং জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয় হিসাবের মধ্যে নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে এই সম্পর্কগুলোর বেশ কয়েকটি পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে আলাদা ছিল।
গবেষণায় ২ হাজার ২৬৪ জন মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁদের সবার বয়স ছিল ৪৬ বছর। গবেষকেরা তাঁদের কফি পানের অভ্যাস এবং শরীরের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসূচক একই সময়ে পরীক্ষা করেন। অর্থাৎ, অংশগ্রহণকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। তাই এই গবেষণা থেকে দীর্ঘ মেয়াদে কফি পানের প্রভাব সরাসরি প্রমাণ করা যায় না।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বেশি কফি পান করার সঙ্গে রক্তে ব্রাঞ্চড-চেইন অ্যামিনো অ্যাসিড বা বিসিএএয়ের মাত্রা কম থাকার সম্পর্ক রয়েছে। বিসিএএ হলো শরীরে প্রোটিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড। আগে করা গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে এসব উপাদানের মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে।
গবেষকেরা তাঁদের গবেষণাপত্রে লিখেছেন, নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কফি পানের সঙ্গে রক্তে থাকা বিসিএএয়ের মাত্রার বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, বিসিএএ শরীরের জন্য অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড এবং বিপাকক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত ব্যবস্থায় এগুলো ভূমিকা রাখে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রক্তে বিসিএএয়ের মাত্রা বেশি থাকলে ইনসুলিন প্রতিরোধ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদ্য়ন্ত্রের রোগ, ফ্যাটি লিভার এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকির সঙ্গে এর শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে।
গবেষণার সামগ্রিক ফল ইঙ্গিত করছে, কফি বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এর পেছনে হরমোনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রক্রিয়া ভূমিকা রাখতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কফি ও হরমোনের এই সম্পর্ক নিয়ে গবেষকেরা আরও গভীরভাবে কাজ করছেন।
গবেষকেরা বলেন, নিয়মিত বেশি কফি পানকারীদের শরীরে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক কম এবং তাদের শরীরের গঠন বেশি চর্বিহীন ছিল। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই কফি পানের সঙ্গে রক্তে থাকা বিসিএএয়ের মাত্রার বিপরীতমুখী সম্পর্ক দেখা গেছে। এ ছাড়া কফি পানের সঙ্গে নারী ও পুরুষের মধ্যে আলাদা ধরনের হরমোনগত প্রোফাইলের স্বাধীন সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এই হরমোনগত পরিবর্তন বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে।
কফি মানুষের মেজাজ ভালো করা থেকে শুরু করে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কফির এসব প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক গবেষণা হয়েছে। তবে কফিতে এক হাজারেরও বেশি জৈব-সক্রিয় উপাদান রয়েছে। ফলে শরীরে কফির প্রভাব কীভাবে কাজ করে, তা জানার জন্য আরও অনেক গবেষণার প্রয়োজন। কফি ও স্বাস্থ্যের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। কফি কীভাবে রোস্ট বা ভাজা হয়েছে, কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, প্রতিদিন কতটা কফি পান করা হচ্ছে, ব্যক্তির জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং জীবনযাপনের ধরন, যেমন ধূমপান, এসব বিষয়ও কফির প্রভাবের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
তাই কফি শরীরে আসলে কী করছে, তা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য নতুন গবেষণা ও আরও তথ্য প্রয়োজন। বর্তমান গবেষণায় অংশ নেওয়া মানুষদের দীর্ঘ সময় ধরে অনুসরণ করা হয়নি। তাই কফি পান করার সঙ্গে দেখা যাওয়া এসব সম্পর্ক সরাসরি কফির কারণেই হয়েছে কি না, তা এই গবেষণা নিশ্চিত করতে পারে না।
গবেষকেরা মনে করছেন, এই গবেষণার পরবর্তী ধাপে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষকে পর্যবেক্ষণ করে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এতে বোঝা যাবে, দীর্ঘ মেয়াদে কফি পান করার অভ্যাস শরীরের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে। গবেষকেরা তাদের গবেষণাপত্রে লিখেছেন, কফি পানের সঙ্গে এসব পরিবর্তনের সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক নিশ্চিত করতে এবং কফির কোন কোন জৈব-সক্রিয় উপাদান এসব প্রভাবের জন্য দায়ী তা শনাক্ত করতে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও নিয়ন্ত্রিত হস্তক্ষেপমূলক গবেষণা প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: সায়েন্সঅ্যালার্ট

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ৩৯ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪৯ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫৩, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৪, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
দেশে গত এক দিনে ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৯৯৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এ নিয়ে মোট ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চলতি মাসেই মারা গেছে ৩৬ জন।
২ দিন আগে
আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২ দিন আগে