বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় পানীয়ের নাম চা। সম্প্রতি চীনের অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসের অন্তর্গত টি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক মিংচুয়ান ইয়াং ও লি ঝৌ-এর দল ‘বেভারেজ প্ল্যান্ট রিসার্চ’ জার্নালে চা নিয়ে একটি বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। সেখানে উঠে এসেছে কীভাবে চা আমাদের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি হতে পারে, আবার ভুল উপায়ে চা পান কীভাবে ডেকে আনতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি, চা পানের এমন নানান দিক।
গবেষণার মূল বার্তাটি পরিষ্কার, চায়ের উপকারিতা পুরোপুরি নির্ভর করে আপনি এটি কীভাবে পান করছেন, তার ওপর। গবেষকেরা বলছেন, প্রক্রিয়াজাত এবং বাবল টি পানের অভ্যাস এখনই সীমিত করা উচিত। এগুলোতে প্রচুর ক্ষতিকর উপাদান থাকে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। সুস্থ থাকতে এবং চায়ের আসল পুষ্টিগুণ পেতে অভ্যস্ত হোন ঘরে তৈরি ঐতিহ্যবাহী লিকার চা পানে। তবে পরিমিত মাত্রায় চা পান করতে হবে।
ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস উদ্ভিদের পাতা থেকে তৈরি চায়ে রয়েছে প্রচুর পলিফেনল। এতে ক্যাটেচিন নামের একটি উপাদান থাকে, যেটি শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি চা পানে মানুষের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমে, বিশেষ করে গ্রিন টি আমাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং কোলস্টেরলের মাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি হৃদ্রোগ, স্থূলতা ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সরাসরি সাহায্য করে। গ্রিন টির ক্যাটেচিন চর্বি কমাতে এবং স্থূল ব্যক্তিদের মেটাবলিক কার্যকারিতা বাড়াতে দারুণ কার্যকরী। বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়মিত চা পানের অভ্যাস আলঝেইমার বা স্মৃতিভ্রমের লক্ষণগুলো কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া এটি বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পেশি ক্ষয়ে যাওয়া রোধ করে শারীরিক শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে মজার বিষয় হলো, গ্রিন টি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হলেও ব্ল্যাক টি, ওলং টি, হোয়াইট টি বা ইয়েলো টির তুলনামূলক স্বাস্থ্যসুবিধা কেমন, তা নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য বিজ্ঞানীদের হাতে নেই।
ব্যস্ত নাগরিক জীবনে প্লাস্টিকের বোতলে থাকা রেডি-মেড চা কিংবা তরুণ প্রজন্মের পছন্দের বাবল টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গবেষকদের মতে, বোতলজাত বা বাবল টি-তে প্রচুর চিনি, কৃত্রিম সুইটনার, রিফাইনড স্টার্চ, ফ্লেভারিং এজেন্ট এবং প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া চায়ে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ, ভারী ধাতু এবং মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে গবেষণায়। এই উপাদানগুলো সাধারণ মাত্রায় চা পানের ক্ষেত্রে বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না করলেও যাঁরা দীর্ঘ মেয়াদে প্রচুর চা পান করেন, তাঁদের জন্য এটি উদ্বেগের কারণ।
সাপ্লিমেন্ট থেকে লিভারের ক্ষতি: ওজন কমানোর জন্য ইদানীং গ্রিন টি এক্সট্রাক্ট বা সাপ্লিমেন্ট বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, অতিরিক্ত মাত্রায় এই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এর জন্য দায়ী গ্রিন টি-তে থাকা এপিগ্যালোকেটচিন নামক রাসায়নিক উপাদান। দৈনিক শরীরের ওজনের প্রতি কেজিতে ৫০০ থেকে ৭৫০ মিলিগ্রাম ইজিসিজি প্রবেশ করালে লিভারের ক্ষতি হয়। তবে আশার কথা হলো, স্বাভাবিক পানীয় হিসেবে চা পানে মানুষের এমন বিষক্রিয়ার কোনো নজির মেলেনি, বড়জোর সামান্য গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

পুষ্টি শোষণে বাধা: অতিরিক্ত চা পান খাবার থেকে পাওয়া নন-হিম আয়রন বা উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া আয়রন ও ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়। যাঁরা পুরোপুরি নিরামিষভোজী বা যাঁদের পুষ্টির বিশেষ ঘাটতি আছে, তাঁদের জন্য এটি চিন্তার কারণ।
দূষণ ও মাইক্রোপ্লাস্টিক: দীর্ঘ মেয়াদে যাঁরা অতিরিক্ত চা পান করেন, তাঁদের জন্য চায়ের পাতায় থাকা কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ, ভারী ধাতু এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক উদ্বেগের কারণ হতে পারে। চমকপ্রদ তথ্য হলো, ফুটন্ত পানিতে একটি টি-ব্যাগ ডোবালে তা থেকে ১০ লাখের বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা নির্গত হতে পারে, যা সরাসরি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।
সূত্র: সায়েন্স ডেইলি, ইনডিপেনডেন্ট

আকাশে মেঘের ঘনঘটা, ঝুম বৃষ্টি আর মাটির সোঁদা গন্ধ—বাঙালির জীবনে বর্ষা নিয়ে আসে এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা। কিন্তু এই রূপসী বর্ষার হাত ধরেই প্রতিবছর আমাদের মাঝে হাজির হয় ডেঙ্গু নামের এক নীরব ঘাতক। বর্ষা মৌসুমে দেশজুড়ে এডিস মশার প্রজনন এবং ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনক বেড়ে যায়।
১ ঘণ্টা আগে
চোখ শুধু দেখার অঙ্গ নয়, এটি পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা আর সম্পর্ক গড়ে তোলার শক্তিশালী মাধ্যম। অথচ দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনে আমরা চোখের যত্ন নেওয়ার কথাই সবচেয়ে কম ভাবি। যতক্ষণ না চোখের নজর ঝাপসা হয়ে আসে কিংবা কাছের কিছু পড়তে হাত অজান্তেই দূরে সরে যায়, ততক্ষণ চোখের গুরুত্ব যেন আমাদের.....
৩ ঘণ্টা আগেওজন কমানোর চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সঠিক খাদ্যাভ্যাসে। আর যখন মেদ ঝরানোর কথা আসে, তখন কার্যকর পুষ্টি উপাদানটি হলো প্রোটিন। নিয়মিত ডিম, বাদাম বা ডালজাতীয় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে তা পেট ভরিয়ে রাখে। এই খাদ্যাভ্যাস সারা দিনের সামগ্রিক খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দেয়।
৩ ঘণ্টা আগে
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ৫৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৩ জনে।
১৯ ঘণ্টা আগে