হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১২০৪

দেশে গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০০ জনে। এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০৪ জন। সে হিসাবে হামজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন ১ হাজার ২০৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে মারা গেছে।
সরকারের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১ হাজার ২১৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যায়। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৯৮ জন ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ৪২ জনের শরীরে। উপসর্গে আক্রান্ত অনেকেই কার্যত হামের রোগী বলে বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন। টিকাদানে ঘাটতিসহ নানা কারণে এ বছর দেশে নজিরবিহীন মাত্রায় হামে মৃত্যু ঘটেছে। আক্রান্ত ও মৃতদের সিংহভাগই শিশু।
চলতি বছরে হামের উপসর্গে প্রাণহানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৯৪ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপরই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৯৩ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১০২, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৫, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ ও রংপুর বিভাগে ১৭ জন মারা গেছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বশেষ নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগে ৩৮৬ জন, চট্টগ্রামে ২৫১, সিলেটে ১১৮, বরিশালে ১২৫, খুলনায় ৯৭, ময়মনসিংহে ৬৩, রাজশাহীতে ৩৩ ও রংপুরে ২৫ জন। এ নিয়ে সারা দেশে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ জন।
এদিকে হামের উপসর্গের রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬৮ জনে। এর মধ্যে ২৩ হাজার ১৯৯ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাব রাখছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা রোগীদের সবার হাম পরীক্ষা হয় না। ফলে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সঠিক সংখ্যা পাওয়া যায় না। কেবল হাসপাতালে আসা বা ভর্তি রোগীর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়।









