Ajker Patrika

এই গরমে আরামে থাকতে যা করবেন

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ২৬
এই গরমে আরামে থাকতে যা করবেন
ছবি: সংগৃহীত

একটানা কয়েক দিন চলা এই অসহনীয় তাপমাত্রা শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু এবং যারা দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন, তাঁদের জন্য সময়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

তার ওপরে লোডশেডিং। সব মিলিয়ে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এর মধ্যে অতিরিক্ত তাপের কারণে শরীর যখন নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখনই দেখা দেয় হিট স্ট্রোক কিংবা হিট এক্সেশনের মতো সমস্যা। এমনকি এটি হৃৎপিণ্ড ও কিডনির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। এই কঠিন সময়ে নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।

ঘর রাখুন শীতল ও আরামদায়ক

গরমের সময় ঘর ঠান্ডা রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। কিছু সাধারণ কৌশল মেনে চললে এসির ওপর নির্ভরতা কমিয়েও ঘর ঠান্ডা রাখা সম্ভব। রাতের বাতাস কাজে লাগান। যখন বাইরের তাপমাত্রা ঘরের ভেতরের চেয়ে কমে যায় (মূলত সন্ধ্যার পর), তখন জানালা খুলে দিন। এতে ঠান্ডা বাতাস ঘরে ঢোকার সুযোগ পাবে। দিনের বেলা যখন রোদ কড়া হয়, তখন জানালা বন্ধ রাখুন এবং পর্দা বা ব্লাইন্ড দিয়ে সরাসরি সূর্যের আলো আটকে দিন। অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখুন। কারণ, এগুলো ঘরকে আরও গরম করে তোলে।

ফ্যান ব্যবহারের নিয়ম: তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে যদি থাকে, তাহলে বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করুন। ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় ফ্যান শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এসি ব্যবহার করলে তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করুন এবং সঙ্গে একটি ফ্যান চালান। এতে ঘর ৪ ডিগ্রি বেশি শীতল অনুভূত হবে এবং বিদ্যুৎ বিলও প্রায় ৭০ শতাংশ সাশ্রয় হবে।

শরীর ও ত্বকের যত্ন

প্রচণ্ড গরমে শরীরকে ভেতর ও বাইরে থেকে ঠান্ডা রাখতে হবে। তাই হালকা রঙের এবং ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। বিছানায় সুতির চাদর ব্যবহার করুন। ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন। গরমে স্বস্তি পেতে ভিজে কাপড় দিয়ে শরীর মুছতে পারেন বা স্প্রে বোতলে জল ভরে শরীরে ছিটিয়ে দিতে পারেন। তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করুন। দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করা জরুরি। মনে রাখতে হবে, প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হলুদ হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে, আপনার শরীর পানিশূন্যতায় ভুগছে।

খাবারের তালিকায় যা রাখবেন না

গরমের সময় আমরা যা খাই, তার প্রভাব সরাসরি শরীরের তাপমাত্রার ওপর পড়ে। এ সময় কিছু খাবার এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার হজম করা কঠিন। এটি শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং আপনাকে অলস ও অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। চিপস বা প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড করে তোলে। ক্যাফেইন পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ক্যাফেইনজাতীয় পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করে এবং উচ্চ ফ্যাটযুক্ত দুধ বা চিজ হজমপ্রক্রিয়াকে ধীর করে দিয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে যাঁরা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। তবে সচেতনতাই পারে এই প্রচণ্ড দাবদাহে আপনাকে এবং আপনার প্রিয়জনদের সুরক্ষিত রাখতে।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন, দ্য টাইমস ম্যাগাজিন

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অধ্যক্ষকে জড়িয়ে আপত্তিকর কথা বলায় প্রথমে থাপ্পড় দেন প্রদর্শক

উত্তরায় মদের বারে অভিযান, নারীসহ ১৪০ জন গ্রেপ্তার

প্রচণ্ড গরম ও তাপপ্রবাহের মধ্যে সুখবর দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

ন্যাটো থেকে স্পেনকে বাদ ও যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ড কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

রাজশাহীতে কলেজে ঢুকে শিক্ষিকাকে লাঞ্ছনায় বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত