Ajker Patrika

বিএমইউতে সমন্বিত ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বিএমইউতে সমন্বিত ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলে আয়োজিত বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ক্যানসার রোগীদের এক ছাতার নিচে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দিতে সমন্বিত ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। এ ছাড়া আধুনিক অবকাঠামো, উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষ জনবল তৈরি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলে ‘বাংলাদেশের ক্যানসার শিক্ষা, গবেষণা ও সেবার অগ্রগতি: বিএমইউর ভিশন ও নেতৃত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান। বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।

উপাচার্য বলেন, ‘ক্যানসার চিকিৎসায় বিশ্বজুড়ে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। প্রিসিশন মেডিসিন, মলিকুলার টার্গেটেড চিকিৎসা ও জেনেটিক বিশ্লেষণের মতো আধুনিক পদ্ধতি বাংলাদেশে কতটা সহজলভ্য করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে। দেশের সব স্তরের রোগীর কাছে আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিএমইউকে এগোতে হবে।’

উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণা। এমএস ও এমডি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ তৈরি করা হচ্ছে। তবে একাডেমিক গবেষণা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ কাজের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। এসব চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিএমইউকে ক্যানসার চিকিৎসার উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

ক্যানসার চিকিৎসার আর্থিক চাপের বিষয়ে সতর্ক করে উপাচার্য বলেন, ‘পরিবারের একজনের ক্যানসার পুরো পরিবারকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। রোগীর দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম হলে চিকিৎসার বাস্তবতা পরিবারকে বুঝিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। অপ্রয়োজনীয় ব্যয়বহুল চিকিৎসায় পরিবারকে নিঃস্ব করা উচিত নয়।’

বৈঠকে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ বলেন, ‘ক্যানসার চিকিৎসার সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা জরুরি। রেডিওথেরাপির ব্যয়বহুল যন্ত্র অব্যবহৃত পড়ে থাকার মতো ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ দেখা যায়।’ বিএমইউর গবেষণা ও অগ্রগতি নিয়ে স্বাস্থ্য সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি।

বিএমইউর ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘জর্দা, গুল ও পানের মতো ধোঁয়াবিহীন তামাকের ব্যবহার মুখগহ্বরের ক্যানসারের বড় ঝুঁকি। দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি থাকায় এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহীনুল আলম বলেন, ‘গবেষণার মানে ভালো করলেও বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যৌথ কাজকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।’

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন, বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত