Ajker Patrika

চাঁদাবাজির সময় মারধরের শিকার তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে নির্যাতিত আ.লীগ নেত্রী বলে প্রচার

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ০৮
চাঁদাবাজির সময় মারধরের শিকার তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে নির্যাতিত আ.লীগ নেত্রী বলে প্রচার
নারী নির্যাতনের দাবিতে প্রচারিত ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

‘আহা, বাংলাদেশ! যে দেশে কোনো আইন নেই, নারীর নিরাপত্তা নেই’—এমন ক্যাপশনে এক নারীকে বিবস্ত্র করে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে ফুল দিতে গেলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের এক নেত্রীকে বিবস্ত্র করে অমানবিক নির্যাতন চালায়।

‘Sofikul Islam’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ভিডিওটি ৪ লাখ ৬৫ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে এবং ২ হাজার ১০০ বার শেয়ার হয়েছে।

পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ নেটিজেন দাবিটিকে সত্য ভেবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

একই ভিডিও গত বছরও নারীদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ১, হয়েছিল।

সে সময় ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘হে নারী সমাজ, দেখ! কী হচ্ছে তোমাদের সঙ্গে? নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা দিয়েছেন একমাত্র শেখ হাসিনাই। এসব শেয়ার করা যদিও উচিত নয়, তবু সুশীলদের “লাল স্বাধীনতার” দেশ কেমন চলছে, তা প্রকাশ না করলে কাল হয়তো আপনার-আমার সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটবে এবং তা ধামাচাপা পড়ে থাকবে! আমরা কেমন পুরুষ? এতগুলো পুরুষ একজন মা জাতিকে এমন ইজ্জতভ্রষ্ট করার মানে হয় না।’

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, ভিড়ের মধ্যে জনতা একজনকে মারধর করছে এবং একপর্যায়ে বিবস্ত্র অবস্থায় তিনি দৌড়ে একটি গাড়িতে ওঠেন।

কি-ওয়ার্ড সার্চ পদ্ধতিতে অনুসন্ধান করে দেশীয় কোনো গণমাধ্যমে আলোচিত দাবির বিষয়ে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধানে ‘সাংবাদিক শিরিন আক্তার সাংবাদিক’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট শেয়ার করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর একটি অংশের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে।

ফেসবুক পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট
ফেসবুক পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, রংপুর জেলার ধাপেরহাট নামের একটি স্ট্যান্ডে রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘আরভি’ পরিবহনের বাসে চাঁদাবাজির সময় দুই হিজড়াকে জনগণ গণধোলাই দেয়।

এ ছাড়া ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, বাসের যাত্রীরা চাঁদা না দেওয়ায় ওই দুই ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ধাপেরহাট এলাকায় বাস থামিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁদের মারধর করে। তাঁদের মধ্যে একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অপরজন জনতার রোষানলে পড়েন।

ভিডিওতে আরও বলা হয়, ‘এই বাংলাদেশে কোনো দুর্নীতি-চাঁদাবাজি চলবে না। আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

‘জনগণের অধিকার’ নামের একটি ফেসবুক পেজেও একই তথ্য সম্বলিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, মারধরের শিকার ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক নেত্রী বা সাধারণ নারী নন, বরং তিনি বাস যাত্রীদের সঙ্গে বিবাদে জড়ানো তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি।

সিদ্ধান্ত

ধানমন্ডিতে ফুল দিতে গিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রীকে বিএনপি কর্মীদের মারধরের দাবিটি সঠিক নয়। মূলত বাসে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে রংপুরে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে মারধরের পুরোনো ঘটনার ভিডিওকে নারী নির্যাতনের ঘটনা দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত