গত সপ্তাহে নতুন ডিজাইন ও ছবিসংবলিত কয়েকটি নোট বাজারে আসার কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০ টাকার নোটে কান্তজিউ মন্দির ও বৌদ্ধমন্দিরের ছবি থাকার তথ্যও সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। এরই মধ্যে, নতুন বিশ টাকার নোটে কান্তজিউ মন্দিরের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে—এমন দাবিতে একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছে। ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে একই ক্যাপশনে ছড়ানো হচ্ছে।
‘Ashraf Ali Nizampuri’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে গতকাল সোমবার (২৬ মে) বিকাল ৪টা ১১ মিনিটে পোস্ট করা ছবিটি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। এর ক্যাপশনে লেখা, ‘ছবি ব্যবহার আর মন্দির ব্যবহার এক নয়! নতুন বিশ টাকার নোটে কান্তজিউ মন্দিরের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরে এই কান্তজিউ মন্দিরটি অবস্থিত এবং কান্তজিউ মন্দিরটি হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত। কান্ত অর্থ: কৃষ্ণ, জিউ অর্থ: বেঁচে থাকো, চিরজীবী হও, কান্তজিউ অর্থ হে কৃষ্ণ, চিরজীবী হও। কেউ যদি বিশ টাকার নোট মসজিদের দান বাক্সে অনুদান হিসেবে দিয়ে থাকে তাহলে মন্দিরকে কৌশলে মসজিদে ঢুকানো হলো। এসব কারা করছে! আমি মনে করি যারা এসব করছে তারা নিঃসন্দেহে সুপরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের উস্কানি দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। এই নোট বাজারে আসার পূর্বে পরিবর্তন করা জরুরি, পরিবর্তন করতে হবে।।’ (বানান অপরিবর্তিত)
আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ছবিটিতে ১ হাজার ৫০০টি রিঅ্যাকশন পড়েছে। এতে ২৩০টি কমেন্ট পড়েছে এবং শেয়ার হয়েছে ৯৩৮ বার। এসব কমেন্টে অনেকে ২০ টাকার এই নোটটি ভুয়া উল্লেখ করেন। আবার অনেকে সত্য মনে করেও কমেন্ট করেছে। Abu Muhammad Azizi নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লিখেছে, ‘এই নোট বয়কট এর জোর দাবি জানাচ্ছি...সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে আওয়াজ তুলুন।’ (বানান অপরিবর্তিত) Mohammad Ariful Islam লিখেছে, ‘আমরা সবাই দাবি জানায় যেন এই নোট অতি শীঘ্রই পরিবর্তন করে।’ (বানান অপরিবর্তিত)
Taher Ahmed, RX Razin নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং Alhamdulillah নামে পেজ থেকে একই ক্যাপশনে ২০ টাকার নোটের এই ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এমন ২০ টাকার নোট বাজারে ছেড়েছে কিনা তা জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির ওয়েবসাইটে খোঁজ করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক বিভাগ। ওয়েবসাইটে বর্তমান ব্যাংক নোটের তালিকায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ২০ টাকার নোটটি পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ২০ টাকার নোটটি লক্ষ্য করলে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। যেমন: বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান ব্যাংক নোটের তালিকায় থাকা ২০ টাকার নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রামের নিচে প্রকাশ সাল উল্লেখ আছে। কিন্তু ছড়িয়ে পড়া ২০ টাকার নোটে ওই স্থানে সাল উল্লেখ নেই।
পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়া নোটে লেখা ‘কান্তাজিউ মন্দির’। অথচ বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইটে ‘কান্তজীউ মন্দির’ লেখা হয়েছে। গণমাধ্যমেও সাধারণত ‘কান্তজিউ মন্দির’ লেখা হয়। কোথাও ‘কান্তাজিউ মন্দির’ লেখা পাওয়া যায়নি।

২০ টাকার নতুন নোটের নকশা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ করেছে কিনা জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক কে. এম. ইব্রাহিমের সঙ্গে সেলফোনে যোগাযোগ করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক বিভাগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার ছবিটি সম্পর্কে জানালে তিনি বলেন, ‘২০ টাকার এই নোটটি ভুয়া।’
সুতরাং, নতুন বিশ টাকার নোটে কান্তজিউ মন্দিরের ছবি ব্যবহারের দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ২০ টাকার নোটের ছবিবিটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশ করা হয়নি। ছবিটি এডিটেড অথবা বানানো।

আজ ১ আগস্ট ‘ডেইলি রিপোর্ট’ নামের একটি ফেসবুক পেজসহ একাধিক আইডি ও পেজ (১ , ২ , ৩ , ৪ ) থেকে আলোচিত ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। ভিডিওটি পোস্টের স্বল্প সময়ের মধ্যেই হাজার হাজার বার দেখা হয়েছে এবং বহু ব্যবহারকারী এটি শেয়ার করেছেন। আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়...
১৮ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশি পরিচয়ের কারণে ভারতে এক রোগীকে চিকিৎসক মারধর করছেন—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে‘চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং মেম্বার পদে এসএসসি সনদের মূল কপি ছাড়া মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে’—এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবের বরাতে প্রচারিত এই দাবিটি ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। শেয়ার করা ওই ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, এটি এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে ঘিরে গোলাপগঞ্জের পরিস্থিতি...
৩ দিন আগে