
‘প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক নিয়োগে নারীদের জন্য ৬০ ভাগ কোটা ছিল, যেটা বিগত সরকার উঠিয়ে দিয়েছিল। সেটাকে আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হবে’—আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাম্প্রতিক বক্তব্য দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে।
মুহূর্তেই ভাইরাল হওয়া এই বক্তব্য নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে অনেকে এটিকে গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা উল্লেখ করে সমালোচনা করছেন।
‘প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে ‘নীল তিমি’ নামের একটি আইডি থেকে আলোচিত বিষয়ের ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়। পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘কুসুম কুসুম কোটা।’
‘নীলতিমি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে শেয়ার করা ফটোকার্ডটিতে আজ শুক্রবার বেলা ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৩৭ হাজার রিয়েকশন পড়েছে। পোস্টটি ২৭২ বার শেয়ার হয়েছে এবং এতে ৪ হাজার ৯০০টি মন্তব্য রয়েছে।
পোস্টের কমেন্টে যাচাই করে দেখা যায়, বেশির ভাগ কমেন্টে এহছানুল হক মিলনের নামে প্রচারিত এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
রিফাত আরা জান্নাত নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, ‘চাই না। আমি নিজেও একজন ক্যান্ডিডেট, তবে এটা আমার কাছে অন্যায় বলে মনে হয়।’

ফাহমিদা কাশেম নিপুন নামের এক আইডি থেকে বলা হয়, ‘এদিকে ভালো। কিছু জব জেন্ডার বেসিসে দেওয়া ভালো। যেমন ডিফেন্সে পুরুষ বেশি নেয়, নারী সংখ্যা নগণ্য। তেমনি প্রাইমারির বাচ্চাদের যে ধৈর্যের প্রয়োজন, তাদের জন্য নারী শিক্ষিকা বেটার।’
কেউ আবার বিষয়টিকে ‘ফেক নিউজ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
আলোচিত দাবিতে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট পাওয়া যায়। ভাইরাল হওয়া কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
‘নীলতিমি’ নামে ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা ফটোকার্ডটিতে আলোচিত বক্তব্যের পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের ছবি রয়েছে। এ ছাড়া ‘Courtesy Fb/Self Desk’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো এবং এর নিচে ‘Voice of DU’ লেখা রয়েছে।
এই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে ‘Voice of DU’ নামের একটি ফেসবুক পেজ খুঁজে পাওয়া যায়। পেজটিতে ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে কার্ডটি পোস্ট করতে দেখা গেছে। ‘কোটা না মেধা’ ক্যাপশন থাকলেও সেখানে কোনো তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই।
এ ছাড়া জাতীয় গণমাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বললেও আলোচিত দাবিতে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় দৈনিক বণিক বার্তায় ‘শিক্ষা খাতে তিন ধাপে ১২ সংস্কারের ঘোষণা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে সেখানে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নারীদের ৬০ ভাগ কোটা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।
অনুসন্ধানে ‘সাকিবুল হাসান’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ‘প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৬০ ভাগ নারী কোটা আবার ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন’—এই ক্যাপশনে ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘নারীদের ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা নিয়োগের বেলায় যে ৬০ শতাংশ কোটা ছিল, তা বাতিল করেছে সরকার। তারেক রহমান সেটিকে আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবেন।’
পরবর্তীকালে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের ফেসবুক পেজে গত ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় প্রকাশিত ১ মিনিটের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির ১৭ থেকে ৩০ সেকেন্ড অংশে আলোচিত বক্তব্যের সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়া যায়।

ওই ভিডিওতে এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, নারীদের ডিগ্রি পর্যন্ত লেখাপড়া ফ্রি করা, মাদ্রাসা ও ইংরেজি শিক্ষার বৈষম্য নিরসন, গণমুখী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, প্রবাসীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানো এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে গত বছরের ৩০ আগস্ট দৈনিক প্রথম আলো ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিধিমালা জারি, বাতিল নারী কোটা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদন বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নারীদের জন্য পূর্বনির্ধারিত বিশেষ কোটা বাতিল করে নতুনভাবে ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আলাদা শিক্ষক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৮ আগস্ট ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ নামে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৯৩ শতাংশ পদ মেধাভিত্তিক হবে। বাকি ৭ শতাংশ পদ কোটাভিত্তিক সংরক্ষিত থাকবে—মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ; ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ; এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ। কোটার আওতায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্য পদগুলো মেধার ভিত্তিতেই পূরণ করা হবে।
অর্থাৎ নারীদের কোটার বিষয়ে এহছানুল হক মিলন শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর কোনো মন্তব্য করেননি। যে বক্তব্যটি প্রচার করা হচ্ছে, সেটি গত ২৮ জানুয়ারির। সেই বক্তব্যকেই বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন দাবি হিসেবে ছড়ানো হচ্ছে।

গাঁজা ব্যবসায়ীকে শাস্তি দিচ্ছেন মাদারীপুরের নতুন এমপি—এমন দাবিতে সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখা যায়। মুহূর্তেই এটি ভাইরাল হয়ে যায়।
২ দিন আগে
‘তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রীর শপথ পাঠ আমি করাতে আগ্রহী—মিজানুর রহমান আজহারী’ (বানান অপরিবর্তিত) দাবিতে ফেসবুকে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টে দাবি করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ
৩ দিন আগে
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫ বছর পর ভোট দিয়েছেন।
৪ দিন আগে
‘নির্বাচনে জাল ভোট পড়েছে ২১.৪ শতাংশ: টিআইবি’ দাবিতে নাগরিক টিভির একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নাগরিক টিভি-র এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটের ২১ শতাংশ জাল ভোট পড়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে বিভিন্ন অসঙ্গতি
৪ দিন আগে