ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বর্তমানে দিল্লিতেই অবস্থান করছেন হাসিনা। সম্প্রতি দেশের বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম নিউজ ২৪–এর একটি ভিডিও প্রতিবেদন শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন টাইমে উঠে এসেছে শেখ হাসিনার নাম।
গত বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) ‘প্রবাসী জীবন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটি আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক শেয়ার হয়েছে। রিয়েকশন পড়েছে ৪ হাজারের বেশি। ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৪২ হাজার বার।

নিউজ ২৪–এর প্রতিবেদনটিতে উপস্থাপককে বলতে শোনা যায়, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বের প্রভাবশালী টাইম ম্যাগাজিন। “শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ” নামে বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন বিস্ময়কর রাজনৈতিক নেতা। যিনি গত এক দশকে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলে দ্রুততম বর্ধমান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্থান ঘটিয়েছেন। জানানো হয়, দেশটির রাজনীতিতে একসময়ের হস্তক্ষেপকারী সামরিক শক্তি এবং ইসলামপন্থীদের মোকাবিলা করে কৃতিত্বের সঙ্গে তিনি দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করছেন।’
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে টাইম ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে সম্প্রতি শেখ হাসিনা নিয়ে কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি। ম্যাগাজিনটিতে সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর শেখ হাসিনা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি ছিল গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশে কীভাবে ‘অবিশ্বাস্যভাবে’ প্রত্যাবর্তন করতে পারেন সে সম্পর্কে।

পরে নিউজ ২৪–এর প্রতিবেদনটি সম্পর্কে কি–ওয়ার্ড সার্চে নিউজ ২৪–এর ইউটিউব চ্যানেলে গত বছরের ৩ নভেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘বিশ্বের প্রভাবশালী টাইম ম্যাগাজিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির সঙ্গে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।
এ থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায়, টাইম ম্যাগাজিনে শেখ হাসিনার নাম আসার পুরোনো প্রতিবেদনকেই সাম্প্রতিক ঘটনা দাবিতে নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ‘প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা অ্যান্ড দ্য ফেইট অব ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে টাইম ম্যাগাজিন। প্রতিবেদনটি করেন ম্যাগাজিনটির জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক চার্লি ক্যাম্পবেল। ওই বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতেই টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করার উদ্দেশ্যে ঢাকার বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারটির সারমর্মে টাইমের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার বক্তব্যে উঠে আসা পাঁচটি বিষয় তুলে ধরে। এর মধ্যে আছে, শেখ হাসিনা কেয়ারটেকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনপ্রতিষ্ঠার কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখেন না। তিনি মনে করেন, বিএনপি একটি ‘সন্ত্রাসী দল’ এবং দলটি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় শেখ হাসিনা উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসে যোগদানের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সমালোচনায় ক্ষুব্ধ ছিলেন হাসিনা ও তিনি বিশ্বাস করেন, উন্নত দেশগুলোর উচিত জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আরও সহায়তা দেওয়া।

‘ক্ষমা করে দিও আমাদের, আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি। তোমার বাড়ির আঙিনায় তোমার উষ্ণ অনুভূতি আর বাঙালিরা পাবে না। বুকের ভিতর রাখা আছো তুমি, তুমি আমার অনুভূতি...
১ দিন আগে
‘যদি কেউ পুলিশ হত্যার জন্য জুলাই যোদ্ধাদের নামে মামলা করে, তাহলে রাজাকার হত্যার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের নামে আমি মামলা করব’—এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
‘গণভোটের রায় না মানলে বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, বিএনপির উচিত হবে সময় থাকতে মেনে নেওয়া’—এই বক্তব্য আলোকচিত্রী ও সমাজকর্মী শহিদুল আলমের দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডে তাঁর ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।
২ দিন আগে
‘বিএনপি নামক দলটিকে ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেবো’— জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের এমন উদ্ধৃতি দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটিকে অনেক ব্যবহারকারী সত্য মনে করে শেয়ার করেছেন, আবার কেউ কেউ এমন মন্ত্যবের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
২ দিন আগে