Ajker Patrika

সত্যবাদিতার প্রতিদান মহান

ড. এ এন এম মাসউদুর রহমান
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২১, ২৩: ২৮
সত্যবাদিতার প্রতিদান মহান

মানবীয় সৎ গুণাবলির মধ্যে সত্যবাদিতা একটি। কোনো কথা তার বাস্তব অনুসারে বলা এবং তা কাজে পরিণত করাকেই সত্যবাদিতা বলা হয়। সত্যবাদিতার বিপরীত মিথ্যাবাদিতা। সদা সত্য কথা বলা এবং কোনো অবস্থাতেই মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ না করা, প্রলোভন বা ভীতির সামনেও সত্যের ওপর অটল থাকা প্রকৃত ইমানদারের লক্ষণ। সত্যবাদীদের পরিচয় দিয়ে আল্লাহ তাআলা সুরা হুজুরাতের ১৫ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘বস্তুত তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ইমান এনেছে এবং এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি এবং স্বীয় জানমাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে, তারাই সত্যবাদী।’

তাইতো আল্লাহ তাআলা ইমানদারদের সত্যবাদীদের সঙ্গী হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিনি সুরা তাওবার ১১৯ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও এবং তাদের সঙ্গে থাকো।’ সততা ও সত্যবাদিতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে মহানবী (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় সত্যবাদিতা পুণ্যের কাজ। আর পুণ্য জান্নাতে পৌঁছিয়ে দেয়।’ (মুসলিম: ১০৪)।

সমাজজীবনে যারা সত্যবাদী তাদের সবাই শ্রদ্ধা করে। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলেন স্বয়ং মহানবী। কারণ, তিনি সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার কারণে নবুওয়াত লাভের পূর্বেই তৎকালীন আরব নেতা কর্তৃক ‘আল-আমিন’ বা অধিক সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত উপাধি লাভ করেছিলেন। নবুওয়াত প্রাপ্তির পরেও তারা তাদের ধন-সম্পদ তাঁর কাছে আমানত রেখেছে, অথচ ওই সব লোক তাঁর প্রতি ইমান আনেনি। এটি কেবল তাঁর আমানতদারিতা ও বিশ্বস্ততার কারণেই সম্ভব হয়েছে এবং তারা তাদের বিশ্বাসের প্রতিদানও পেয়েছে। তাহলো মহানবী (সা.) মদিনায় হিজরতের সময় তাঁর কাছে গচ্ছিত সকল সম্পদ আলী (রা.)-এর তত্ত্বাবধানে রেখে যান এবং তিনি সুষ্ঠুভাবে এসব আমানত মালিকদের বুঝিয়ে দেন।

এ ক্ষেত্রে আমরা ইসলামের একজন মহান ওলি বড়পীর আবদুল কাদির জিলানী (র.)-এর ছোটকালের একটি ঘটনা উল্লেখ করতে পারি। যিনি ডাকাত দল কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার পর মিথ্যা বললেই নিষ্কৃতি পেতেন। কিন্তু এ প্রতিকূল অবস্থাতেও তিনি মিথ্যা বলেননি। বরং তাঁর মা তাঁকে যে স্বর্ণমুদ্রা পাঞ্জাবির বগলের নিচে সেলাই করে দিয়েছিলেন, তা তিনি অকপটে ডাকাতসর্দারের কাছে স্বীকার করেন। তাঁর এ সত্যবাদিতা দেখে ডাকাতসর্দার বিস্মিত হয়ে ডাকাতি ছেড়ে দেন এবং তাঁর সঙ্গীদেরও ডাকাতি ছাড়তে বলেন। সত্যবাদিতার এ দৃষ্টান্ত সবার জন্য শিক্ষণীয় হয়ে আছে। তাই তো প্রবাদ বাক্যে বলা হয়েছে, ‘সত্য মুক্তি দেয়, মিথ্যা ধ্বংস করে।’

অপরদিকে যারা মিথ্যাবাদী তাদের কেউ বিশ্বাস করে না এবং বিপদের সময় তারা কারও সাহায্য পায় না। যেমন মিথ্যাবাদী রাখালের ঘটনা, যে জঙ্গলের পাশে পশুর পাল চরানোর সময় মাঝে মাঝে ‘বাঘ’ ‘বাঘ’ বলে চিৎকার করত। আশপাশের লোকজন যখন সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসত, তখন সে খিলখিল করে হাসত। ফলে লোকজন দুঃখিত মনে ফিরে যেত। কিন্তু যেদিন সত্যি সত্যিই বাঘ এল, সেদিন তার চিৎকার শুনে কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। কেননা, তারা মনে করল, এবারেও সে মিথ্যা কথা বলছে। ফলে বাঘ তাকেসহ তার পশুর পাল খেয়ে ফেলল।

সমাজজীবনে যারা মিথ্যাচারী তারা সমাজে ঘৃণীত। আমরা জানি, একটি মিথ্যাকে আড়াল করার জন্য অনেক মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। তাই মিথ্যাকে সকল পাপের উৎস বলে আখ্যায়িত করে বলা হয়েছে, ‘বস্তুত মিথ্যা সকল পাপের জননী।’

পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সত্য বলার অভ্যাস গড়ে উঠলে যেমন সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে মিথ্যা, দুর্নীতি ও অপকর্ম দূর হবে, তেমনি দেশের প্রতিটি নাগরিক সত্যবাদিতার সুফল লাভে ধন্য হবে। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি পরস্পর পরস্পরকে বিশ্বাস করবে নির্দ্বিধায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কেন পদত্যাগ করব,‌ আমরা তো হারিনি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পরও ৩-৬ মাসের মধ্যেই পারমাণবিক বোমা তৈরিতে সক্ষম ইরান

বাউফলে টয়লেট নির্মাণে ‘দুই কোটি টাকা’ বিতর্ক: তদন্তে মিলল ভিন্ন চিত্র

তামিলনাড়ুতে জিতলেন বিজয়ের গাড়িচালকের ছেলে, নিজ আসনে হার মুখ্যমন্ত্রী স্টালিনের

১২ জেলার এসপিসহ ৩৯ কর্মকর্তার বদলি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত