Ajker Patrika

সচেতন ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন

সম্পাদকীয়
আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২২, ০৮: ৫৬
সচেতন ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন

গরম বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এতে শিশুদের পাশাপাশি 

বয়স্কদেরও নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। এটা দিনদিন রীতিমতো মহামারিতে রূপ নিচ্ছে। গণমাধ্যমে খবর এসেছে, এই মহামারি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে এবং আক্রান্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রাজধানীর হাসপাতালগুলো; বিশেষ করে ডায়রিয়ার চিকিৎসায় দেশের বিশেষায়িত হাসপাতাল আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশে (আইসিডিডিআরবি) সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি।

জানা যায়, নির্দিষ্ট শয্যার বাইরে দুই শতাধিক শয্যার তাঁবু টানিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য। এই হাসপাতালে গত কয়েক দিনে গড়ে কমবেশি ১ হাজার ২০০ রোগী ভর্তি হয়েছে; যা হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার ৬০ বছরের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিপুলসংখ্যক ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হলেও সেখানে শয্যা আছে মাত্র ৬০০টি। বাইরে তাঁবু টানিয়ে অনেককে সেবা দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

আইসিডিডিআরবির তথ্য অনুসারে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে গত শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সেখানে পেটের পীড়া নিয়ে এসেছে ৩৪১ জন। তাঁদের সিংহভাগই পুরুষ এবং বয়স্ক। কিছুক্ষণ পরপরই অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন বাহনে করে আসছে রোগীরা। চিকিৎসকেরা বলছেন, হঠাৎ করেই গরম চলে আসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কারণে শিক্ষার্থীদের বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় গ্রহণ এবং অনিরাপদ পানির কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।

গণমাধ্যমের খবর থেকে ডায়রিয়ার যে চিত্র জানা যায়, তা খুবই ভয়াবহ। মূলত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পানি ও পানীয়-জাতীয় খাবার, শরবত ইত্যাদি পান এবং গরমের কারণেই এটি হচ্ছে বলে চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন। এ বিষয়টিতে নাগরিকদের সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। আমরা দেখি প্রতিবছরই শীত শেষে গরম শুরু হলে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। তবে এবারের চিত্রটা একটু বেশিই ভয়ংকর মনে হচ্ছে।

তাই সবাইকে সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি সরকারকেও কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষকে সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমে প্রচারণা বাড়াতে হবে। যত্রতত্র, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পানি ও শরবত বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এমনিতেই রাজধানীতে খাওয়ার পানির মধ্যে নানান ধরনের জীবাণুর উপস্থিতি আছে বলে নানা গবেষণায় দেখা যায়। তাই পানি পান করার আগে তা ভালো করে ফুটিয়ে পান করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরাও এ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। নাগরিকদের এ বিষয়ে আরও সচেতন ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বাচ্চাদের পানি ও শরবত খাওয়ার ব্যাপারে পরিবারের অভিভাবকেরা আরও সতর্ক হবেন বলে আমরা আশা করি। ডায়রিয়া থেকে রক্ষা করা একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত