মো. জসিম উদ্দীন, নীলফামারী

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনা হিসেবে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে নীলফামারীরা ডিমলায়। এ সুবিধা পাওয়া ৪ হাজার ৪৬০ জন কৃষকের তালিকার একজনের নাম পিয়ারুল ইসলাম। তালিকায় থাকা পিয়ারুলের মোবাইল ফোন নম্বরটিতে ফোন দেওয়ার পর তাঁর জবাব, ‘এটা আমার নিজের ফোন নম্বর। আমার বাড়ি ঢাকায়। পিয়ারুল নামে কাউকে চিনি না, ডিমলা উপজেলাটি কোথায় সেটাও তো জানি না।’
উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে গমবীজ ও সার পাওয়া কৃষকদের তালিকায় আছে ‘পিয়ারুলের’ মতো ৯৪ জনের নাম। সেখান থেকে ২০ জনের নাম-ঠিকানা ও ফোন নম্বর ধরে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে দুজন জানান, তাঁরা ঢাকা-বরিশালের মানুষ। এ ছাড়া ফোন করে পাওয়া যায়নি ১২ জনকে, তবে তাঁদের নাম-ঠিকানা ঠিক আছে। এলাকায় গিয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রত্যেকে জানান, তাঁরা বীজ-সার পাননি। এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার কথাও জানেন না।
বীজ-সার বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী। তবে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সরকারি প্রণোদনার মালামাল বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সরবরাহ করে। আমি শুধু সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী বিতরণের অনুমোদন দিয়েছি।’
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ডিমলা উপজেলার ১০ ইউনিয়নে চলতি রবি মৌসুমে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বীজ ও সার বিতরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়। কৃষকদের একটি করে ফসলের বীজ ও সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হচ্ছে। সে মোতাবেক ৪ হাজার ৪৬০ জন কৃষকের মধ্যে ১ হাজার ১০০ জনকে ১ কেজি করে সরিষাবীজ, ২ হাজার ২০০ জনকে ২ কেজি করে ভুট্টাবীজ, ১ হাজার জনকে ২০ কেজি করে গমবীজ, ১০০ জনকে ১ কেজি করে পেঁয়াজবীজ ও ৬০ জন কৃষক পাবেন ১ কেজি করে মুগডালের বীজ। আর সার দেওয়া হচ্ছে তিন ধরনের—ইউরিয়া, ডিএপি এবং এমওপি। ফসলের ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১৫ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ৪০ কেজি পর্যন্ত সার পাচ্ছেন প্রত্যেক কৃষক। গত ২৮ নভেম্বর থেকে বীজ ও সার বিতরণ শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে গমবীজ ও সার দেওয়ার জন্য ৯৪ জন কৃষকের একটি তালিকা তৈরি করেছেন উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লোহানি শাহনেওয়াজ ও আশরাফুল হক। গমবীজের সঙ্গে প্রত্যেক কৃষক পাবেন ১০ কেজি করে ডিএপি, ইউরিয়া ও এমওপি সার। মোট ৩০ কেজি। গত রোববার এই ৯৪ জনের বিতরণ শেষ করা হয়। এ তালিকা ধরে খুঁজতে গিয়েই অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি ধরা পড়ে। দেখা যায় অনেকে এ উপজেলার বাসিন্দাই নন। কারও কারও নাম-ঠিকানা ঠিক আছে, কিন্তু তাঁরা বীজ-সার পাননি। বিষয়টি জানেনও না।
তালিকায় নাম আছে পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ঠাকুরগঞ্জ গ্রামের কৃষক রশিদুল ইসলামের। কিন্তু যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তালিকায় নাম থাকলেও সার-বীজ কিছুই পাননি।
ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক মোখলেছুর রহমান জানান, তালিকায় তাঁর নাম আছে বলে শুনেছেন। কিন্তু প্রণোদনার কিছুই পাননি। তাঁর অভিযোগ, ‘ইউনিয়নের সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মিলে বীজ ও সার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন।’
তালিকার এক কৃষকের নাম মফিদুল ইসলাম। তাঁর ফোন নম্বরে ফোন করা হলে তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি বরিশাল। মফিদুল নামে তিনি কাউকে চেনেন না।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে গমবীজ ও সার পাওয়া এই ৯৪ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করেন উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা লোহানি শাহনেওয়াজ ও আশরাফুল হক।
যোগাযোগ করা হলে লোহানি শাহনেওয়াজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সার ও বীজ বিতরণে স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সহযোগিতায় তালিকা করা হয়। সে অনুযায়ী বিতরণ করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ মৌখিকভাবে পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাঠে কাজ করছি। তালিকাভুক্ত প্রকৃত কৃষকেরা অবশ্যই প্রণোদনার সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’
আর নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, লিখিত বা মৌখিকভাবে অনিয়মের অভিযোগ তিনি পাননি। যদি অনিয়মের সত্যতা মেলে এবং এর সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনা হিসেবে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে নীলফামারীরা ডিমলায়। এ সুবিধা পাওয়া ৪ হাজার ৪৬০ জন কৃষকের তালিকার একজনের নাম পিয়ারুল ইসলাম। তালিকায় থাকা পিয়ারুলের মোবাইল ফোন নম্বরটিতে ফোন দেওয়ার পর তাঁর জবাব, ‘এটা আমার নিজের ফোন নম্বর। আমার বাড়ি ঢাকায়। পিয়ারুল নামে কাউকে চিনি না, ডিমলা উপজেলাটি কোথায় সেটাও তো জানি না।’
উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে গমবীজ ও সার পাওয়া কৃষকদের তালিকায় আছে ‘পিয়ারুলের’ মতো ৯৪ জনের নাম। সেখান থেকে ২০ জনের নাম-ঠিকানা ও ফোন নম্বর ধরে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে দুজন জানান, তাঁরা ঢাকা-বরিশালের মানুষ। এ ছাড়া ফোন করে পাওয়া যায়নি ১২ জনকে, তবে তাঁদের নাম-ঠিকানা ঠিক আছে। এলাকায় গিয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রত্যেকে জানান, তাঁরা বীজ-সার পাননি। এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার কথাও জানেন না।
বীজ-সার বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী। তবে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সরকারি প্রণোদনার মালামাল বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সরবরাহ করে। আমি শুধু সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী বিতরণের অনুমোদন দিয়েছি।’
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ডিমলা উপজেলার ১০ ইউনিয়নে চলতি রবি মৌসুমে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বীজ ও সার বিতরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়। কৃষকদের একটি করে ফসলের বীজ ও সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হচ্ছে। সে মোতাবেক ৪ হাজার ৪৬০ জন কৃষকের মধ্যে ১ হাজার ১০০ জনকে ১ কেজি করে সরিষাবীজ, ২ হাজার ২০০ জনকে ২ কেজি করে ভুট্টাবীজ, ১ হাজার জনকে ২০ কেজি করে গমবীজ, ১০০ জনকে ১ কেজি করে পেঁয়াজবীজ ও ৬০ জন কৃষক পাবেন ১ কেজি করে মুগডালের বীজ। আর সার দেওয়া হচ্ছে তিন ধরনের—ইউরিয়া, ডিএপি এবং এমওপি। ফসলের ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১৫ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ৪০ কেজি পর্যন্ত সার পাচ্ছেন প্রত্যেক কৃষক। গত ২৮ নভেম্বর থেকে বীজ ও সার বিতরণ শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে গমবীজ ও সার দেওয়ার জন্য ৯৪ জন কৃষকের একটি তালিকা তৈরি করেছেন উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লোহানি শাহনেওয়াজ ও আশরাফুল হক। গমবীজের সঙ্গে প্রত্যেক কৃষক পাবেন ১০ কেজি করে ডিএপি, ইউরিয়া ও এমওপি সার। মোট ৩০ কেজি। গত রোববার এই ৯৪ জনের বিতরণ শেষ করা হয়। এ তালিকা ধরে খুঁজতে গিয়েই অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি ধরা পড়ে। দেখা যায় অনেকে এ উপজেলার বাসিন্দাই নন। কারও কারও নাম-ঠিকানা ঠিক আছে, কিন্তু তাঁরা বীজ-সার পাননি। বিষয়টি জানেনও না।
তালিকায় নাম আছে পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ঠাকুরগঞ্জ গ্রামের কৃষক রশিদুল ইসলামের। কিন্তু যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তালিকায় নাম থাকলেও সার-বীজ কিছুই পাননি।
ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক মোখলেছুর রহমান জানান, তালিকায় তাঁর নাম আছে বলে শুনেছেন। কিন্তু প্রণোদনার কিছুই পাননি। তাঁর অভিযোগ, ‘ইউনিয়নের সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মিলে বীজ ও সার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন।’
তালিকার এক কৃষকের নাম মফিদুল ইসলাম। তাঁর ফোন নম্বরে ফোন করা হলে তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি বরিশাল। মফিদুল নামে তিনি কাউকে চেনেন না।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নে গমবীজ ও সার পাওয়া এই ৯৪ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করেন উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা লোহানি শাহনেওয়াজ ও আশরাফুল হক।
যোগাযোগ করা হলে লোহানি শাহনেওয়াজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সার ও বীজ বিতরণে স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সহযোগিতায় তালিকা করা হয়। সে অনুযায়ী বিতরণ করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ মৌখিকভাবে পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাঠে কাজ করছি। তালিকাভুক্ত প্রকৃত কৃষকেরা অবশ্যই প্রণোদনার সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’
আর নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, লিখিত বা মৌখিকভাবে অনিয়মের অভিযোগ তিনি পাননি। যদি অনিয়মের সত্যতা মেলে এবং এর সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫