ইসলাম সম্পর্কে ভুল বা মনগড়া তথ্য প্রচার করা, কোরআনের মনগড়া ব্যাখ্যা করা এবং রাসুল (সা.)-এর নামে জালিয়াতি করা গর্হিত পাপ। আল্লাহতাআলা বলেন, ‘তার চেয়ে বড় জালিম আর কে যে আল্লাহর নামে মিথ্যা রটনা করে অথবা তাঁর আয়াতসমূহ অস্বীকার করে? নিশ্চয়ই জালিমেরা সফলকাম হয় না।’ (সুরা আনআম/২১)
কোরআনের আয়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা দেওয়া আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপের শামিল। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে কোরআনের আয়াত সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়া কথা বলে সে যেন জাহান্নামকে নিজের আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।’ (তিরমিজি) তাই কোরআনের অনুবাদ গ্রহণযোগ্য তাফসিরসহ পড়া উচিত। শুধু অনুবাদ দেখে ব্যাখ্যা সম্পর্কে ধারণা বা অনুমাননির্ভর কথা বলা হারাম।
হাদিসের ক্ষেত্রে বানোয়াট বক্তব্য রাসুল (সা.)-এর নামে চালানো মারাত্মক অপরাধ। মহানবী (সা.) বলেন, ‘আমার বক্তব্য সম্পর্কে মিথ্যা বলা সাধারণ মানুষের ব্যাপারে মিথ্যা বলার মতো নয়। যে আমার ওপরে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা আরোপ করে, সে জাহান্নামকে তার আবাস বানিয়ে নেয়।’ (বুখারি) তাই গ্রহণযোগ্য সূত্র দেখে নিশ্চিত হওয়ার পরই শুধু কোনো কথাকে হাদিস হিসেবে প্রচার করতে হবে। হাদিসের ব্যাখ্যাও করতে হবে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাকারকদের ব্যাখ্যা সামনে রেখে। বিশেষত বিধিবিধান সংশ্লিষ্ট আয়াত বা হাদিস নিয়ে কথা বলার আগে সেই ব্যাপারে ফকিহদের মতামত জেনে নিতে হবে।
যথাযথ জ্ঞানার্জন ছাড়া ধর্মীয় আলোচনা করা, বিধিবিধান সম্পর্কে অনুমাননির্ভর কথা বলা, নিজের মনমতো কোরআনের ব্যাখ্যা দেওয়া, শোনা কথাকে হাদিস বলে চালিয়ে দেওয়া ইত্যাদি মানুষকে অজান্তেই গুরুতর অপরাধী বানিয়ে দেয়। তাই এ ব্যাপারে সাবধানতা জরুরি।
লেখক: ফারুক ফেরদৌস, শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক










