…জিন্নাহ সাহেব পাকিস্তান আন্দোলনকালে যে দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর জোর দিয়েছিলেন, তার সারমর্ম হচ্ছে: অবিভক্ত ভারতের মুসলমানরা এরূপ বিশিষ্ট সংস্কৃতি ও সভ্যতা, ভাষা ও সাহিত্য, শিল্প স্থাপত্য, নাম ও নামকরণ রীতি, মূল্যবোধ ও পরিমিতিবোধ, আইনকানুন ও নৈতিক বিধানাবলি, সামাজিক প্রথা ও পঞ্জিকা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, মনোভঙ্গি ও আশা-আকাঙ্ক্ষার অধিকারী তা হিন্দুদের থেকে স্বতন্ত্র, অতএব তারা যেকোনো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একটি স্বতন্ত্র জাতি।প্রথমেই বলা দরকার, এ বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য দ্বিজাতিতত্ত্ব খণ্ডন করা নয়। কেননা, প্রথম কথা, ভারত ও পাকিস্তান দুটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্ররূপে গঠিত হওয়ার পর সে প্রশ্ন অবান্তর; দ্বিজাতিতত্ত্ব ঠিক হোক আর না হোক, নানা ঐতিহাসিক কারণে অখণ্ডিত ভারতে এক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব ছিল না; এবং দ্বিতীয় কথা, এ তত্ত্বের উদগাতা স্বয়ং জিন্নাহ সাহেব অকল্যাণকর বিবেচনায় তা বর্জন করে গেছেন। এ বিশ্লেষণ একমাত্র পাকিস্তানের পরিপ্রেক্ষিতে; এবং এর লক্ষ্য এই প্রশ্নের উত্তর সন্ধান যে, যে-মুসলিম জাতীয়তাবাদের কথা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও এত করে বলা হয়, এ তত্ত্বের উদগাতা একে বর্জন করা সত্ত্বেও, সে-জাতীয়তাবাদের বাস্তব যৌক্তিকতা কতখানি। দ্বিজাতি তত্ত্ব অনুযায়ী যদি অখণ্ড ভারতের মুসলমানরা এক জাতি হয়ে থাকে, তবে পাকিস্তানের মুসলমানরাও নিশ্চয়ই এক জাতি। এ দাবির মূলে কতখানি সত্য নিহিত আছে, তাই আমাদের বিবেচ্য।প্রথমত, ভাষা ও সাহিত্যের কথাই ধরা যাক। পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলমানদের ভাষা কি এক? কেউ বলবেন না যে এক, কিন্তু তথাপি জিন্নাহ সাহেব কেন সে কথা বলেছিলেন, তা এখন সঠিকভাবে নিরূপণ করা দুঃসাধ্য। এর কারণ সম্ভবত এই যে, তার ধারণা ছিল বাংলা ভাষা হিন্দুদের ভাষা, মুসলমানদের নয়। তিনি বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথের কথা শুনে থাকবেন, কিন্তু সম্ভবত নজরুল ইসলামের কথা শোনেননি। … বাঙালি মুসলমানদের সম্পর্কে জিন্নাহ সাহেবের ধারণা গড়ে উঠেছিল প্রধানত বাংলার সেইসব নেতার সংস্পর্শে, যারা বাংলার অধিবাসী হয়েও বাঙালি ছিলেন না। যারা বাঙালি ছিলেন, তারাও নিশ্চয়ই তার সঙ্গে কথা বলতেন হয় উর্দুতে, নয় ইংরেজিতে।zতএব, পূর্ব পাকিস্তানি মুসলমানদের ভাষা যে বাংলা এবং তারা বাঙালি—এ ধারণা হয়তো তার মনে স্পষ্ট ছিল না।...কিন্তু জিন্নাহ সাহেব যাই বলে থাকুন, বাঙালি মুসলমানরা বাঙালি এবং তাদের ভাষা বাংলা কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানিদের ভাষা তা নয়। দুই প্রদেশের অধিবাসীদের ভাষা যেমন এক নয়, তেমনি তাদের সাহিত্য এবং সাহিত্যের ঐতিহ্যবোধও এক নয়। পশ্চিম পাকিস্তানের শাহ আব্দুল লতিফ ভিট, ওয়ারিশ শাহ, খোশহাল খান খটককে আমরা কতটুকু জানি? এমনকি ইকবালের রচনাবলি মূল ফার্সি ও উর্দু ভাষায় পূর্ব পাকিস্তানের কজন আমরা পড়ব?...তেমনি দৌলত কাজী, আলাওল থেকে শুরু করে আজ অবধি যে মুসলিম সাহিত্য, অথবা পূর্ববঙ্গ গীতিকা, পুঁথি সাহিত্য, বাউল, জারি, সারি, ভাটিয়ালি গানে পুষ্ট সমৃদ্ধ পূর্ব পাকিস্তানের যে গণ-সাহিত্য ধারা, যা একান্তভাবে প্রদেশের সত্ত্বায় ও চেতনায় মিশে আছে, মূলে বা অনুবাদে তার কতটুকু আস্বাদ নিতে পারবেন পশ্চিম-পাকিস্তানি পাঠক? এই সাহিত্য একান্তভাবে পূর্ব পাকিস্তানের। অতএব এক জাতিত্বের দুটি প্রধান লক্ষণ—ভাষা ও সাহিত্যের একাত্মবোধ—এই দুই প্রদেশের অধিবাসীদের নেই।
...কি করে বলা সম্ভব যে, এ রাষ্ট্রের পশ্চিমাংশের মরুরুক্ষ, পর্বতসংকুল, গ্রীষ্ম দগ্ধ ও তুষারশীতল পরিবেশের জীবনধারা এবং পূর্ব অংশের নদীবহুল বর্ষণমুখর ঘন শ্যাম-সবুজ সমতল পরিবেশের জীবনধারা ঠিক একরকম, অতএব এই দুই ভূভাগের বিশ্বাস-অবিশ্বাস, সংস্কার-কুসংস্কার, জীবনবোধ এবং সংস্কৃতি একদম এক বস্তু?...
কেউ বলবেন না যে, আলেকজান্ডার, মুহম্মদ বিন কাসিম অথবা সুলতান মাহমুদ পূর্ব পাকিস্তান আক্রমণ করেছিলেন। একমাত্র প্রাইমারি স্কুলের ফেল-করা ছাত্রের পক্ষে বলা সম্ভব হতে পারে যে, বক্তিয়ার খিলজির পশ্চিম পাকিস্তান আক্রমণ করে লক্ষ্মণ সেনকে বিতাড়িত করেছিলেন এবং পশ্চিম পাকিস্তানের শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশীর প্রান্তরে পরাজিত হয়ে পলায়ন করেন, কিন্তু পরে ধৃত হয়ে লাহোরের কয়েদখানায় নিহত হন। হরপ্পা-ময়েঞ্জোদারো-তক্ষশীলা-গান্ধারা বিশেষভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের ইতিহাসের অন্তর্গত; পাহাড়পুর–মহাস্থানগড়–ময়নামতি বিশেষভাবে পূর্ব পাকিস্তানের। বস্তুত ইতিহাসকে সম্পূর্ণ বিকৃত না করে বলা সম্ভব নয় যে, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ইতিহাস এক।
সাহিত্যপত্র ‘সমকালে’ ১৯৬৬ সালে আবু আহসান ছদ্মনামে লেখাটি লিখেছিলেন তিনি।
আব্দুল হক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে ১৭ জুন প্রকাশিত একটি নিবন্ধ থেকে জানা যায়, বিশ্বব্যাপী প্রতি ছয়জন প্রবীণের মধ্যে অন্তত একজন নির্যাতনের শিকার হন। আবার ল্যানসেট ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ জরিপে দেখা যায়, ৬০ বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে মানসিক নির্যাতনের শিকার ১১ দশমিক ৬ শতাংশ....
১৩ দিন আগে
ইসলামে পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধির গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুগন্ধি খুব পছন্দ করতেন এবং নিয়মিত ব্যবহার করতেন। সুগন্ধির প্রতি প্রিয় নবী (সা.)-এর বিশেষ অনুরাগ ছিল। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘চারটি বস্তু সব নবীর সুন্নত—আতর, বিয়ে, মেসওয়াক ও লজ্জাস্থান আবৃত রাখা।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২২৪৭৮)
০৭ মার্চ ২০২৬
গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫