সম্পাদকীয়

অসহযোগ আন্দোলন যখন চলছিল, তখন শরৎচন্দ্র কায়মনোবাক্যে এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। উপন্যাস রচনায় ভাটা পড়েছিল। শখের দাবা খেলা ও ছিপ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। হাওড়া জেলায় কংগ্রেসের আন্দোলন পরিচালনা করে প্রতিদিন কলকাতায় গিয়ে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশকে সাহায্য করতে লাগলেন।
সম্রাট পঞ্চম জর্জের বড় ছেলে প্রিন্স অব ওয়েলস ভারতবর্ষ ভ্রমণে এসেছিলেন ১৯২১ সালে। ভারতবর্ষের তাঁবেদার নৃপতিবৃন্দই এই ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছিল ইংল্যান্ডের সরকার ও ভারত সরকারের পরামর্শে। রাজপুত্রের মুখ দিয়ে কিছু ভালো কথা বলানো হবে এবং উজ্জ্বল আশার বাণী শুনিয়ে তিনি জনসাধারণের মন জয় করবেন, এটাই ছিল আশা।
এ সময় কংগ্রেস ঝটিতি প্রস্তাব গ্রহণ করল, প্রিন্স অব ওয়েলসের অভ্যর্থনা বয়কট করা হবে। রাজপুত্র বোম্বে পৌঁছালেন ১৭ নভেম্বর। সরকারি কর্মচারী এবং ইউরোপিয়ান তাঁকে বরণ করে নিলেন। কিন্তু সমগ্র জনসাধারণ রাজপুত্রকে বয়কট করল। ছোটখাটো বিরোধ থেকে শুরু হলো দাঙ্গা।
প্রিন্স কলকাতায় পৌঁছালেন ২৪ ডিসেম্বর। পরিপূর্ণ হরতাল হলো শহরে। বিশাল কলকাতা যেন শ্মশান। সরকার শুরু করল ধরপাকড়। পণ্ডিত মতিলাল নেহরু, লালা লাজপত রায়, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, মৌলানা আবুল কালাম আজাদসহ কংগ্রেসের হাজার হাজার কর্মী গ্রেপ্তার হলেন।
যখন চারদিকে গ্রেপ্তারের হিড়িক, তখন শরৎচন্দ্র জিজ্ঞেস করলেন, ‘ওহে হেমন্ত, জেলখানাতে আফিম খেতে দেয়?’
হেমন্ত সরকার বললেন, ‘না।’
‘তামাক খেতে দেয়?’
‘আজ্ঞে তা-ও খেতে না।’
শরৎচন্দ্র বললেন, ‘আরে দূর দূর! জেলখানাটা দেখছি মোটেই ভদ্রলোকের স্থান নয়। ও আমার পোষাবে না। গভর্নমেন্ট যদি একটা গুলি গোলা চালিয়ে দেয়, তার মুখে গিয়ে দাঁড়াতে পারি। কিন্তু ওই ভেড়ার গোয়ালে বসে বসে দিনরাত্রি কড়িকাঠ গুনে মাসের পর মাস কাটানো আমার দ্বারা হবে না।’
শরৎচন্দ্র জেলে গেলেন না, তবে কংগ্রেসের কাজ করে যেতে লাগলেন।
সূত্র: শচীনন্দন চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্রের রাজনৈতিক জীবন, পৃষ্ঠা ২৩-২৫

অসহযোগ আন্দোলন যখন চলছিল, তখন শরৎচন্দ্র কায়মনোবাক্যে এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। উপন্যাস রচনায় ভাটা পড়েছিল। শখের দাবা খেলা ও ছিপ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। হাওড়া জেলায় কংগ্রেসের আন্দোলন পরিচালনা করে প্রতিদিন কলকাতায় গিয়ে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশকে সাহায্য করতে লাগলেন।
সম্রাট পঞ্চম জর্জের বড় ছেলে প্রিন্স অব ওয়েলস ভারতবর্ষ ভ্রমণে এসেছিলেন ১৯২১ সালে। ভারতবর্ষের তাঁবেদার নৃপতিবৃন্দই এই ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছিল ইংল্যান্ডের সরকার ও ভারত সরকারের পরামর্শে। রাজপুত্রের মুখ দিয়ে কিছু ভালো কথা বলানো হবে এবং উজ্জ্বল আশার বাণী শুনিয়ে তিনি জনসাধারণের মন জয় করবেন, এটাই ছিল আশা।
এ সময় কংগ্রেস ঝটিতি প্রস্তাব গ্রহণ করল, প্রিন্স অব ওয়েলসের অভ্যর্থনা বয়কট করা হবে। রাজপুত্র বোম্বে পৌঁছালেন ১৭ নভেম্বর। সরকারি কর্মচারী এবং ইউরোপিয়ান তাঁকে বরণ করে নিলেন। কিন্তু সমগ্র জনসাধারণ রাজপুত্রকে বয়কট করল। ছোটখাটো বিরোধ থেকে শুরু হলো দাঙ্গা।
প্রিন্স কলকাতায় পৌঁছালেন ২৪ ডিসেম্বর। পরিপূর্ণ হরতাল হলো শহরে। বিশাল কলকাতা যেন শ্মশান। সরকার শুরু করল ধরপাকড়। পণ্ডিত মতিলাল নেহরু, লালা লাজপত রায়, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, মৌলানা আবুল কালাম আজাদসহ কংগ্রেসের হাজার হাজার কর্মী গ্রেপ্তার হলেন।
যখন চারদিকে গ্রেপ্তারের হিড়িক, তখন শরৎচন্দ্র জিজ্ঞেস করলেন, ‘ওহে হেমন্ত, জেলখানাতে আফিম খেতে দেয়?’
হেমন্ত সরকার বললেন, ‘না।’
‘তামাক খেতে দেয়?’
‘আজ্ঞে তা-ও খেতে না।’
শরৎচন্দ্র বললেন, ‘আরে দূর দূর! জেলখানাটা দেখছি মোটেই ভদ্রলোকের স্থান নয়। ও আমার পোষাবে না। গভর্নমেন্ট যদি একটা গুলি গোলা চালিয়ে দেয়, তার মুখে গিয়ে দাঁড়াতে পারি। কিন্তু ওই ভেড়ার গোয়ালে বসে বসে দিনরাত্রি কড়িকাঠ গুনে মাসের পর মাস কাটানো আমার দ্বারা হবে না।’
শরৎচন্দ্র জেলে গেলেন না, তবে কংগ্রেসের কাজ করে যেতে লাগলেন।
সূত্র: শচীনন্দন চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্রের রাজনৈতিক জীবন, পৃষ্ঠা ২৩-২৫

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫