মুফতি আবু আবদুল্লাহ আহমদ

সৃষ্টিগতভাবে মানুষ একে অপরের মুখাপেক্ষী। ধনী হোক বা গরিব, একে অপরের সহযোগিতা ছাড়া মানুষের জীবনধারণ অসম্ভব। এ জন্য আল্লাহ তাআলা আর্থিকভাবে মানুষকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন, যেন একজন অপরজনের কাজে আসে। শ্রমিক শ্রম দিয়ে মালিককে সহযোগিতা করবেন, বিনিময়ে মালিক তাঁর কাজের ন্যায্য মজুরি দিয়ে সাহায্য করবেন—এটাই স্রষ্টার বিধান। এ ক্ষেত্রে কেউ কারও প্রতি যেন জুলুম করতে না পারেন, এ জন্য ইসলাম একটি ইনসাফপূর্ণ শ্রমনীতি প্রণয়ন করেছে।
ইসলাম একজন শ্রমিককে মজুরি হিসেবে এত পরিমাণ দিতে বলে, যা দিয়ে তাঁর ও তাঁর পরিবারের মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণ করা যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তারা তোমাদের সন্তানদের স্তন্যদান করে, তবে তাদের পারিশ্রমিক দাও এবং এ-সম্পর্কে নিজেদের মধ্যে উত্তম পন্থায় পরামর্শ করো।’ (সুরা তালাক: ৬) আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘পারিশ্রমিক নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমন পন্থা অবলম্বন করবে, যেন কোনো পক্ষের ক্ষতি বা অধিকার হরণ না হয়।
মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে আমাদের শ্রমিক হয়েছে, তার স্ত্রী না থাকলে (আমাদের খরচে) সে একজন স্ত্রী গ্রহণ করবে, তার খাদেম না থাকলে (আমাদের খরচে) সে একজন খাদেম গ্রহণ করবে, তার ঘর না থাকলে (আমাদের খরচে) সে একটি ঘর তৈরি করবে, তার বাহন না থাকলে (আমাদের খরচে) সে একটি বাহন নেবে।’ (আবু দাউদ) আলিমগণ বলেন, হাদিসটি শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের মূলনীতি; অর্থাৎ একজন শ্রমিককে ন্যূনতম মজুরি হিসেবে এই পরিমাণ দিতে হবে, যা দিয়ে তাঁর স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও যাতায়াতের ব্যয় নির্বাহ করা যায়। (দিরাসাতুন ইসলামিয়্যাহ ফিল-আমালি ওয়াল-উম্মাল)
কেউ অনন্যোপায় হয়ে ন্যায্য পরিমাণের চেয়ে কম মজুরিতে কাজ করতে রাজি হলেও মালিকের উচিত তাঁকে ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়া। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘লোকদের (তাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে) প্রাপ্য বস্তু কম দিয়ো না।’ (সুরা শুআরা: ১৮৩)
কাজের দক্ষতা ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা হিসেবে পারিশ্রমিকে তারতম্য করা যাবে। রাসুল (সা.) যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে বিবাহিতদের অবিবাহিতদের দ্বিগুণ দিতেন এবং অশ্বারোহী সৈনিককে পদাতিক সৈনিকের দ্বিগুণ দিতেন। তবে মালিক-শ্রমিকের জীবনমানে যেন আকাশ-পাতাল তফাত না হয়, সে প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের অধীনে যারা কাজ করে, তারা তোমাদেরই ভাই। সুতরাং তোমরা যে মানের খাবার খাও ও যে মানের পোশাক পরো, তাদের জন্যও সেই মানের খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করো।’ (বুখারি ও মুসলিম)
কর্মঘণ্টা সম্পর্কে ইসলামের নীতি হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষ যতক্ষণ কাজ করতে পারে, তাকে দিয়ে ততক্ষণ কাজ করানো যাবে। এর চেয়ে অতিরিক্ত কাজ করালে অতিরিক্ত মজুরি দিতে হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা তাদের (কর্মচারী ও শ্রমিকদের) অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করবে না। একান্ত করতে হলে তাদের সহযোগিতা করবে।’ (বুখারি ও মুসলিম) আলিমগণ বলেন, এখানে সহযোগিতা বলতে কায়িক সহযোগিতা কিংবা অতিরিক্ত মজুরি বোঝানো হয়েছে।
কাজ শেষ হওয়ার পরপরই পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় ইসলাম। একাধিক আয়াত ও হাদিসে এ নির্দেশ এসেছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো।’ (সুরা মায়িদা: ১) রাসুল (সা.) বলেন, ‘শ্রমিকের ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ (ইবনে মাজাহ)
লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক

সৃষ্টিগতভাবে মানুষ একে অপরের মুখাপেক্ষী। ধনী হোক বা গরিব, একে অপরের সহযোগিতা ছাড়া মানুষের জীবনধারণ অসম্ভব। এ জন্য আল্লাহ তাআলা আর্থিকভাবে মানুষকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন, যেন একজন অপরজনের কাজে আসে। শ্রমিক শ্রম দিয়ে মালিককে সহযোগিতা করবেন, বিনিময়ে মালিক তাঁর কাজের ন্যায্য মজুরি দিয়ে সাহায্য করবেন—এটাই স্রষ্টার বিধান। এ ক্ষেত্রে কেউ কারও প্রতি যেন জুলুম করতে না পারেন, এ জন্য ইসলাম একটি ইনসাফপূর্ণ শ্রমনীতি প্রণয়ন করেছে।
ইসলাম একজন শ্রমিককে মজুরি হিসেবে এত পরিমাণ দিতে বলে, যা দিয়ে তাঁর ও তাঁর পরিবারের মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণ করা যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তারা তোমাদের সন্তানদের স্তন্যদান করে, তবে তাদের পারিশ্রমিক দাও এবং এ-সম্পর্কে নিজেদের মধ্যে উত্তম পন্থায় পরামর্শ করো।’ (সুরা তালাক: ৬) আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘পারিশ্রমিক নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমন পন্থা অবলম্বন করবে, যেন কোনো পক্ষের ক্ষতি বা অধিকার হরণ না হয়।
মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে আমাদের শ্রমিক হয়েছে, তার স্ত্রী না থাকলে (আমাদের খরচে) সে একজন স্ত্রী গ্রহণ করবে, তার খাদেম না থাকলে (আমাদের খরচে) সে একজন খাদেম গ্রহণ করবে, তার ঘর না থাকলে (আমাদের খরচে) সে একটি ঘর তৈরি করবে, তার বাহন না থাকলে (আমাদের খরচে) সে একটি বাহন নেবে।’ (আবু দাউদ) আলিমগণ বলেন, হাদিসটি শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের মূলনীতি; অর্থাৎ একজন শ্রমিককে ন্যূনতম মজুরি হিসেবে এই পরিমাণ দিতে হবে, যা দিয়ে তাঁর স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও যাতায়াতের ব্যয় নির্বাহ করা যায়। (দিরাসাতুন ইসলামিয়্যাহ ফিল-আমালি ওয়াল-উম্মাল)
কেউ অনন্যোপায় হয়ে ন্যায্য পরিমাণের চেয়ে কম মজুরিতে কাজ করতে রাজি হলেও মালিকের উচিত তাঁকে ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়া। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘লোকদের (তাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে) প্রাপ্য বস্তু কম দিয়ো না।’ (সুরা শুআরা: ১৮৩)
কাজের দক্ষতা ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা হিসেবে পারিশ্রমিকে তারতম্য করা যাবে। রাসুল (সা.) যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে বিবাহিতদের অবিবাহিতদের দ্বিগুণ দিতেন এবং অশ্বারোহী সৈনিককে পদাতিক সৈনিকের দ্বিগুণ দিতেন। তবে মালিক-শ্রমিকের জীবনমানে যেন আকাশ-পাতাল তফাত না হয়, সে প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের অধীনে যারা কাজ করে, তারা তোমাদেরই ভাই। সুতরাং তোমরা যে মানের খাবার খাও ও যে মানের পোশাক পরো, তাদের জন্যও সেই মানের খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করো।’ (বুখারি ও মুসলিম)
কর্মঘণ্টা সম্পর্কে ইসলামের নীতি হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষ যতক্ষণ কাজ করতে পারে, তাকে দিয়ে ততক্ষণ কাজ করানো যাবে। এর চেয়ে অতিরিক্ত কাজ করালে অতিরিক্ত মজুরি দিতে হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা তাদের (কর্মচারী ও শ্রমিকদের) অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করবে না। একান্ত করতে হলে তাদের সহযোগিতা করবে।’ (বুখারি ও মুসলিম) আলিমগণ বলেন, এখানে সহযোগিতা বলতে কায়িক সহযোগিতা কিংবা অতিরিক্ত মজুরি বোঝানো হয়েছে।
কাজ শেষ হওয়ার পরপরই পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় ইসলাম। একাধিক আয়াত ও হাদিসে এ নির্দেশ এসেছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো।’ (সুরা মায়িদা: ১) রাসুল (সা.) বলেন, ‘শ্রমিকের ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।’ (ইবনে মাজাহ)
লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সর্বশেষ (৫৪ তম) সাক্ষীর জেরা শুরু হয়েছে। এই মামলাটির বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
০৬ অক্টোবর ২০২৫
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫
ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫
আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫