Ajker Patrika

পাখিরা কি উড়ে আনন্দ পায়—কাকাতুয়াদের নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ০৯
পাখিরা কি উড়ে আনন্দ পায়—কাকাতুয়াদের নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা
কাকাতুয়া। ছবি: সায়েন্টিফিক আমেরিকা

শৈশবে আকাশে পাখিদের ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো দেখে জর্গ মাসেনের মনে প্রশ্ন জাগত—পাখিরা কি আনন্দের জন্যও উড়ে বেড়ায়? বহু বছর পর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গবেষণা করেছেন নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিষয়ক জীববিজ্ঞানী মাসেন। কাছের একটি পাখি-পার্কে বিশেষ পরিবেশ তৈরি করে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা এই পরীক্ষা চালান।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সায়েন্টিফিক আমেরিকা জানায়, গবেষণাটি চালানো হয় নেদারল্যান্ডসের আভিফনা বার্ড পার্কে। বছরের কয়েক মাস প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পাখিদের খাঁচা থেকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। দরজা খোলার পর পাখিরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারত—খোলা আকাশে উড়ে যাবে, নাকি খাঁচাতেই থাকবে। উড়ে বের হলে কোনো পুরস্কার কিংবা না বের হলে কোনো শাস্তির ব্যবস্থা ছিল না।

গবেষণায় থাকা ১৭টি গোলাপি-ধূসর গালাহ কাকাতুয়ার প্রায় প্রতিটি ২০ মিনিটের উড্ডয়ন-সুযোগেই খাঁচা ছেড়ে আকাশে উড়ে যায়। বন্য পরিবেশে এই পাখিরা খাবারের সন্ধানে দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেয়। গবেষকদের মতে, নিয়মিত উড়তে চাওয়ার প্রবণতা ইঙ্গিত দেয়, উড্ডয়ন তাদের কাছে আনন্দদায়ক বা পুরস্কারস্বরূপ একটি অভিজ্ঞতা হতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, উড়াল শেষে পাখিগুলো বেশি খাবার খুঁজেছে, শরীর আঁচড়েছে ও মাথার ঝুঁটি উঁচু করেছে। গবেষকেরা এসব আচরণকে ইতিবাচক উত্তেজনা বা ভালো লাগার সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

পাখিদের ‘আশাবাদ’ পরিমাপ করেও আকর্ষণীয় ফল পাওয়া যায়। কয়েক দিন মুক্তভাবে উড়তে পারার পর গালাহ কাকাতুয়াগুলো তাদের প্রিয় খাবার আখরোট পাওয়ার ব্যাপারে বেশি আশাবাদী আচরণ করেছে। বিপরীতে, কয়েক দিন উড়তে না দিলে তাদের আচরণে হতাশাবাদী প্রবণতা দেখা গেছে।

তবে ওড়ার পর পাখিদের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। গবেষকদের ধারণা, শারীরিক পরিশ্রমের কারণে হরমোন বাড়ার প্রভাব সম্ভাব্য চাপ কমার প্রভাবকে আড়াল করে থাকতে পারে।

গবেষক মাইকেল মেন্ডলের মতে, শুধু আচরণ দেখে পাখি ‘সুখী’ কি না নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে প্রাণীদের সচেতন অনুভূতি থাকার সম্ভাবনা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে। তথ্য-প্রমাণ যদি তা সমর্থন করে, তাহলে এই গবেষণার ফল থেকে বলা যায়—গালাহ কাকাতুয়াদের কাছে উড়ে বেড়ানো সত্যিই আনন্দের অভিজ্ঞতা হতে পারে।

মাসেনের মতে, উড্ডয়ন গালাহ কাকাতুয়াদের একটি স্বাভাবিক ও মৌলিক প্রয়োজন। প্রাণিকল্যাণবিষয়ক গবেষণায়ও এখন শুধু প্রাণীর কষ্ট কমানোর পরিবর্তে তাদের স্বাভাবিক ও আনন্দদায়ক আচরণ প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব বাড়ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত