Ajker Patrika

জকসু নির্বাচন: ভোট নিয়ে শিক্ষার্থীরা আবার সন্দিহান

জবি প্রতিনিধি‎
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৪৮
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বারবার স্থগিত হওয়ায় ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পর জকসু নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে।

২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় পুরান ঢাকায় অবস্থিত জগন্নাথ কলেজ। কলেজ থাকা অবস্থায় ১৯৮৭ সালে সর্বশেষ শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর আইনি কাঠামোর অভাবে দীর্ঘদিন শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন হয়নি। গত বছরের ২ জানুয়ারি জকসুর খসড়া নীতিমালা অনুমোদন পায়। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করে এবং ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ অক্টোবর অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে পাঁচ সদস্য-বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। চূড়ান্ত বিধিমালা অনুমোদনের পর ৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়। এতে ২২ নভেম্বর ভোট গ্রহণ, গণনা ও ফল প্রকাশের দিন নির্ধারণ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ভূমিকম্প-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্যানেলের দাবির মুখে ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ছুটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে ৪ ডিসেম্বর সংশোধিত তফসিল ঘোষণা করে ভোটের নতুন তারিখ ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এ দিনও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে ৩০ ডিসেম্বর সকালে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। একই দিন নির্বাচন কমিশন নতুন করে ৬ জানুয়ারি ভোটের তারিখ ঘোষণা করে।

নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তায় প্রার্থীরা

ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘নির্বাচন বারবার স্থগিত হওয়ায় জকসুর আগের নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের অবহেলা দায়ী। আমরা চাই একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। এবার আশা রাখছি নির্বাচন স্থগিত হওয়ার মতো ঘটনা আর ঘটবে না। যদি ঘটে তো প্রশাসনকে এর চরম মূল্য দিতে হবে।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ নয়টি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী ইভান তাহসীব বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হলে অংশগ্রহণ আরও বেশি হতো। সময়মতো নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমেছে।

ছাত্রদল-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ভোটের আমেজ অনেক কমে গেছে। শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে আসবেন কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছি। আমাদের সবার মধ্যেই নির্বাচন হওয়া নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে। যদি নির্বাচন কোনোভাবে স্থগিত হয়, তাহলে ভিসি ভবনের একটা ইটও থাকবে না। প্রশাসনের সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে।’

জাতীয় ছাত্রশক্তি-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী ফয়সাল মুরাদ বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে আমরা অনেক বেশি অনিশ্চয়তায় আছি মূলত প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। তারা বিভিন্ন দল-মতের চাপ সহ্য করে নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবে যদি নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সবাইকে নিয়ে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’

ছাত্রী হল সংসদও আমেজশূন্য

ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া লিসা বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ ও আবেগ এখন হতাশা ও নিরাশায় রূপ নিয়েছে। এমনকি ৬ জানুয়ারির ভোট নিয়েও অনিশ্চয়তায় আছি।’

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদের ‘রোকেয়া পরিষদ’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী খাদিজা তুল কুবরা বলেন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মতামত না নিয়েই নির্বাচনের দিন সকালে স্থগিতাদেশ দেওয়ায় আগ্রহ কমেছে এবং প্রশাসনের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, ৬ জানুয়ারি যেকোনো মূল্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।

নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহন খন্দকার বলেন, ‘বারবার নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় প্রশাসনের প্রতি আর বিশ্বাস নেই। মনে হচ্ছে নির্বাচন আবারও স্থগিত হতে পারে। কেমন একটা অনিশ্চয়তায় ভুগছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিজান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে উৎসবমুখর একটি আমেজ ছিল, কিন্তু এখন তা নেই। মনে হচ্ছে নির্বাচন আবার বন্ধ হবে, এ জন্য ভোট দিতে না গিয়ে বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতেমা কাকলি বলেন, ‘আমরা ৬ তারিখে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত আছি। সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আমরা আশাবাদী ৬ তারিখে জকসু নির্বাচন সম্পূর্ণ করতে পারব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত