Ajker Patrika

শিল্পের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার যোগসূত্র গড়ছে বিইউএফটি

ক্যাম্পাস ডেস্ক
শিল্পের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার যোগসূত্র গড়ছে বিইউএফটি

ঢাকার নিশাতনগরে তুরাগ নদের কাছে প্রায় ১৫ বিঘা জায়গাজুড়ে সবুজ ঘেরা এক ক্যাম্পাস। এখানেই গড়ে উঠেছে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি)। আধুনিক ভবন, বিশেষায়িত ল্যাবরেটরি এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের পাশাপাশি ফ্যাশন, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও পরিবেশ খাতেও দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ছে। সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশেষায়িত শিক্ষায় জোর দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

২০০০ সালে বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০১২ সালে রূপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বর্তমানে ৭টি অনুষদ, ১২টি বিভাগ ও ১টি ইনস্টিটিউটের অধীনে বিভিন্ন স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট কোর্সসহ ২৪টি প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে। স্নাতক পর্যায়ে অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, বিবিএ, সিএসই, ইংরেজি, পরিবেশবিজ্ঞান, ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি, ফ্যাশন স্টাডিজ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, নিটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এমবিএ ইন অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং, ইংরেজি, ফ্যাশন ডিজাইন ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং, নিটওয়্যার মার্চেন্ডাইজিং, ওভেন গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজিং, অ্যাপারেল প্যাটার্নমেকিং অ্যান্ড ক্যাড অ্যাপ্লিকেশনস, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, গার্মেন্টস বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, সার্কুলার ইকোনমি ইন টেক্সটাইল ও গ্রাফিক ডিজাইনে ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স চালু রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে কারখানা পরিদর্শন, ইন্টার্নশিপ ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পান।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আছে ৭২টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ ও ৪৩টি ল্যাবরেটরি। ফ্যাশন ও পোশাকশিল্পের শিক্ষার্থীদের ক্যাড স্টুডিওতে লেকট্রা ও গারবারের মতো শিল্পে ব্যবহৃত সফটওয়্যারে কাজ শেখা যায়। আছে ফ্যাব্রিক ও গার্মেন্ট টেস্টিং ল্যাব, ফটোগ্রাফি ও প্রোডাকশন স্টুডিও। দৈনন্দিন জীবনের জন্য আছে জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, মেডিকেল সেন্টার, ক্যাফেটেরিয়া, ছাত্রী হোস্টেল ও ওয়াই-ফাই।

গবেষণায়ও গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ২৪৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ২৮ জন পিএইচডিধারী।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গড়ে উঠছে সম্পর্ক। ১৪টি দেশের ৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব আছে। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, জার্মানি ও মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চলছে সহযোগিতা। এর আওতায় মেলে শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা ও বৃত্তির সুযোগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৩টি সক্রিয় ছাত্র ক্লাব রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানেরা পান শতভাগ বৃত্তি সুবিধা। অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ও প্রণোদনার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ১৭ হাজার ছাড়িয়েছে। বিদেশের ছয়টি দেশের শিক্ষার্থীরাও এখানে পড়ছেন।

সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত