Ajker Patrika
গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়

ক্যাম্পাস ডেস্ক
আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়
অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, উপাচার্য, জিইউবি

বর্তমানে তরুণেরা শুধু একটি সনদ চান না। তাঁরা চান পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, প্রযুক্তি-সচেতনতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিশেষ দখল ও দৃঢ় নৈতিকতা। আর এ জন্য তাঁরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান, যেখানে ডিগ্রির পাশাপাশি এসবও গড়ে উঠবে। সময়ের এই দাবি এবং শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে ধারণ করেই এগিয়ে চলেছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (জিইউবি)।

২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস পূর্বাচল আমেরিকান সিটিতে অবস্থিত। শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের নানা উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন করে গড়ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা, তাঁরা যেন কর্মজীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন।

বিশ্বমঞ্চের স্বীকৃতি

আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়েও গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপস্থিতি উজ্জ্বল। সাম্প্রতিক ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র‍্যাঙ্কিং ২০২৬’-এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এর অবস্থান তৃতীয়। বৈশ্বিক অবস্থান ৪০১-৬০০ ব্যান্ডে। ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং: এশিয়া ২০২৬’-এ রয়েছে ১২০১-১৩০০ ব্যান্ডে। ‘সিমাগো ইনস্টিটিউশনস র‍্যাঙ্কিং ২০২৬’-এ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নবম। শিক্ষা, গবেষণা ও টেকসই উন্নয়নে ভালো কাজের স্বীকৃতিই এই অর্জন।

যুগোপযোগী পাঠক্রম

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী মানবসম্পদ গড়তে এখানে রয়েছে বৈচিত্র্যময় প্রোগ্রাম। প্রযুক্তি ও প্রকৌশলে আছে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডেটা সায়েন্স, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। ব্যবসা, সমাজবিজ্ঞান ও মানবিক অঙ্গনে আছে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন ও আইন বিভাগ। সম্প্রতি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম পেয়েছে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) মর্যাদাপূর্ণ অ্যাক্রেডিটেশন। পর্যায়ক্রমে বাকি বিভাগগুলোকেও এর আওতায় আনার কাজ চলছে।

বিশ্বমঞ্চে সাফল্য

শ্রেণিকক্ষের বাইরেও রোবোটিকস, মহাকাশ গবেষণা ও প্রোগ্রামিংয়ে জিইউবির শিক্ষার্থীরা মেধার দ্যুতি ছড়াচ্ছেন। সম্প্রতি তুরস্কের আঙ্কারায় ‘অ্যানাটোলিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ ২০২৬’-এ ‘মার্স রোভার টিম’ বিশ্বের শীর্ষ ২০ ফাইনালিস্টের মধ্যে ষষ্ঠ এবং এশিয়ার মধ্যে প্রথম হয়েছে। পাশাপাশি বিইউবিটি, আইইউসিপিসি ২০২৫-এ হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। আইসিপিসি ২০২৬-এ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম। বিভিন্ন আইইউপিসিতেও তারা শীর্ষ সারিতে।

কর্মজীবনে সম্ভাবনা

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সেন্টার ফর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট (সিসিডি) বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। এগুলোর মধ্যে সেমিনার, ওয়ার্কশপ, জব ফেয়ার ও এইচআর সামিট উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি শিল্প খাতের শীর্ষ পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় পেশাগত ক্ষেত্রের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেন। শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি ও লক্ষ্য ঠিক রাখতে রয়েছে ‘স্টুডেন্ট মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম’। এর আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থী পান একজন মেন্টর, যিনি একাডেমিক অগ্রগতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিকাশ ও ভবিষ্যৎ পথচলায় সঠিক পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ গ্র্যাজুয়েট সফলভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন। প্রতিবছর অনেকে পূর্ণ বা আংশিক বৃত্তি নিয়ে উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও এশিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এবং গবেষণা করতে যান। বড়দের সাফল্য দেখে ছোটরাও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বোনেন।

সুযোগ-সুবিধা ও মূল্যায়ন

প্রকৃতিঘেরা ক্যাম্পাসে আছে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ক্লাসরুম, ল্যাব, ক্যাফেটেরিয়া, খেলার মাঠ ও মেডিকেল সেন্টার। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরজুড়ে চলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন। বিজ্ঞান, বিতর্ক, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল ক্লাবে গড়ে ওঠে নেতৃত্ব। অর্থের অভাব যেন কোনো মেধাকে থামিয়ে না দেয়, সে কারণে মেধা ও মানবিক বিবেচনায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফি ওয়েভার ও বৃত্তির সুযোগ আছে।

এআই যুগের দায়িত্ব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বদলে দিচ্ছে কর্মজগৎ। তাই শিক্ষার্থীরা যেন এআই ও আধুনিক প্রযুক্তি দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবহার করেন, নতুন জ্ঞানের খোঁজে থাকেন এবং জটিল সময়ে বিবেচনা ও নৈতিকতা মেনে সিদ্ধান্ত নেন, সে দিকেও জোর দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

উপাচার্যের কথা

জিইউবির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার সাফল্য শুধু জিপিএ দিয়ে মাপা যায় না। মাপতে হয় জ্ঞান, স্বাধীন চিন্তা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ দিয়ে। আমাদের লক্ষ্য সনদধারীর সংখ্যা বাড়ানো নয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থী নিজ ক্ষেত্রে দক্ষ হবে, সঙ্গে সৎ, সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল মানুষ হবে। তারা মানুষের পাশে দাঁড়াবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, সমাজকে আলো দেখাবে।’

উপাচার্যের ভাষায়, জিইউবি দাঁড়িয়ে আছে পাঁচ স্তম্ভের ওপর; মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা, স্নেহশীল ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক, বিশ্বমানের কারিকুলাম, উদ্ভাবনী গবেষণা এবং প্রকৃতিবান্ধব অবকাঠামো।

আলোকিত ভবিষ্যৎ সন্ধানী প্রতিটি তরুণের স্বপ্ন এখানেই ডানা মেলুক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত