যুক্তির মঞ্চে নিরাপদ আগামীর স্বপ্ন

ব্যক্তিগত সচেতনতা, নাকি প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার—দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কোনটি বেশি জরুরি? প্রশ্নটি সহজ হলেও উত্তরটি সহজ নয়। তবে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কের মঞ্চে মুখোমুখি হন দেশের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে বসেছিল ‘ব্র্যাক প্রেজেন্টস ডিবেট ফর রেজিলিয়েন্স ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল। প্রতিপাদ্য ছিল ‘সেইফ হোমস, স্ট্রোগার টুমরো’। আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের (আইডিএমভিএস) ডিবেটিং উইং। সহযোগিতায় ব্র্যাকের ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম।
ফাইনালের প্রস্তাবনা ছিল, ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে ব্যক্তিগত সচেতনতার চেয়ে কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অধিক গুরুত্বপূর্ণ’। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তির লড়াইয়ে নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং ক্লাব। জিতে নেয় উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, রানার্সআপ বুটেক্স। ফাইনালের শ্রেষ্ঠ বক্তা ইসরাত জাহান আইভী, আর টুর্নামেন্টের সেরা বিতার্কিক আহনাফ আমীর অনাবিল। দুজনই বিজয়ী দলের।
বিতর্ক শেষ, আয়োজন থামেনি। শুরু হয় প্যানেল আলোচনা ‘সীমানাহীন দুর্যোগ, স্থানীয় সক্ষমতা: প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদানের ব্যবধান কমানো’। সঞ্চালনায় ছিলেন অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন। কথা বলেন ফ্রেন্ডশিপের কাজী এমদাদুল হক, ওয়াটারএইডের হাসিন জাহান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের এ এস এম মারজান নূর এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক।
আলোচকেরা বললেন চর, উপকূল ও হাওরের কথা, যেখানে প্রস্তুতি পৌঁছাতেই কষ্ট। বললেন নিরাপদ ঘরের কথা, নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের সুরক্ষার কথা। উঠে এল পানি ও স্যানিটেশন, জলবায়ু অর্থায়ন আর প্রযুক্তির সুফল প্রান্তিক মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার প্রশ্ন। তাঁদের জোর ছিল আগাম বিনিয়োগে, স্থানীয় নেতৃত্বে আর নীতি ও বাস্তবায়নের ফাঁক ভরাটে।
শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ড. মাহবুবা নাসরীন, ব্র্যাকের খন্দকার গোলাম তৌহিদ, সহকারী অধ্যাপক জাওয়াদ ইবনে ফরিদ ও ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত রিফাত।
উইংয়ের সভাপতি মো. সৈয়দুর রহমান বললেন, ‘নিরাপদ আগামীর লড়াই শুরু হয় দুর্যোগ আঘাত হানার অনেক আগে।’ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান খান মনে করেন, বিতর্ক শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ বিশ্লেষণ ও সমাধান খুঁজতে শেখায়। মডারেটর জাওয়াদ ইবনে ফরিদের প্রত্যাশা, তরুণেরা কেবল আলোচনায় থামবে না, দুর্যোগসহনশীল বাংলাদেশ গড়তেও এগিয়ে আসবে।









