
ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। এই বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত হচ্ছে। এবারের আসরে রেকর্ডসংখ্যক ৪৮টি দল এবং ১০৪ ম্যাচের এই বিশ্বকাপ ঘিরে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। প্রিয় দল ও সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে আলোচনায় পিছিয়ে নেই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। নিজেদের পছন্দের দল ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
কৌশিক মাহমুদ সিজান, শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ
ফ্রান্সের কথা উঠলেই চোখে ভেসে ওঠে বড় মঞ্চে তাদের দারুণ পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাসী খেলা। বিশ্বকাপ কিংবা ক্লাব ফুটবলের কঠিন ম্যাচে ফরাসি খেলোয়াড়েরা বারবার প্রমাণ করেছেন, কেন তাঁরা বিশ্বসেরা দলগুলোর একটি। দুবারের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি করার জন্যও পরিচিত। জিনেদিন জিদান থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে—প্রতিটি প্রজন্মেই তারা পেয়েছে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো বিশ্বমানের ফুটবলার। উসমান দেম্বেলে, এন’গোলো কান্তে এবং থিও হার্নান্দেজদের মতো খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলকে আরও শক্তিশালী করেছে। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২২ সালে ফাইনালে ওঠা প্রমাণ করে, ফ্রান্স শুধু তারকানির্ভর দল নয়; দলগত সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনাই তাদের সাফল্যের মূল ভিত্তি। বর্তমান স্কোয়াডের গভীরতা বিবেচনায় ফ্রান্স ভবিষ্যতেও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তি হিসেবেই থাকবে বলে মনে করি।
মুসাররাত আবির, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস
২০০৬ সালের কথা। মামা চীন থেকে ফেরার সময় উপহার হিসেবে এনেছিলেন দুটি পতাকা—ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার। তখন আমি ছোট, খেলার নিয়মও তখন ভালোভাবে বুঝতাম না। কিন্তু দুটি পতাকার মধ্যে অবলীলায় বেছে নিয়েছিলাম আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রং। সেখান থেকে শুরু। এরপর কখনো দলবদলের কথা আর মনে আসেনি। শৈশবের সেই ছোট্ট মুহূর্তটাই আজ আমার ফুটবল-আবেগের বড় অংশ। জয়-পরাজয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় সেই অটুট টান। প্রতিটি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা মাঠে নামলে মনে হয় যেন শৈশবে ফিরে যাই। এবারও বিশ্বকাপ নিয়ে আমার প্রত্যাশা অনেক। মেসি ও পুরো দলের ওপর আস্থা রেখে স্বপ্ন দেখি, নীল-সাদা রঙেই আবারও রঙিন হবে বিশ্বমঞ্চ।
সাকিব, শিক্ষার্থী, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
ছোটবেলা থেকে ব্রাজিল আমার প্রিয় দল। ফুটবল বুঝতে শেখার পর থেকে ব্রাজিলের খেলা আমাকে অন্য রকম আনন্দ দেয়। তাদের মাঠের খেলা, খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস, দৃষ্টিনন্দন পাসিং এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল মুগ্ধ করে। ব্রাজিলকে সমর্থন আমার কাছে শুধু পছন্দ নয়, আবেগেরও বিষয়। এই দলের হয়ে অনেক কিংবদন্তি খেলোয়াড় খেলেছেন। তাঁদের মধ্যে পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহো ও কাকা উল্লেখযোগ্য। তাঁদের জাদুকরি নৈপুণ্য আজও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে। বর্তমান দলেও নেইমারের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় আশাজাগানিয়া ভূমিকা রাখছেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল সব সময় ভয়ংকর প্রতিপক্ষ। আশা করছি, ২০২৬ সালও হতে পারে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের বছর।
সামসুন্নাহার পিংকি, শিক্ষার্থী, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
জার্মানির একজন সমর্থক হিসেবে আমি এই বিশ্বকাপের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে জার্মানি অন্যতম সফল দল। তাদের শৃঙ্খলা, দলগত খেলা এবং কখনো হার না মানার মানসিকতা আমাকে সব সময় মুগ্ধ করে। জার্মান দলে প্রিয় খেলোয়াড় থমাস মুলার। তাঁর অভিজ্ঞতা, বুদ্ধিদীপ্ত খেলা এবং দলের প্রতি অবদান অনুপ্রাণিত করে। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশেও বিশ্বকাপের উত্তেজনা স্পষ্ট। এখানে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও জার্মানির সমর্থকদের উৎসাহও কম নয়। একজন সমর্থক হিসেবে আমার প্রত্যাশা, এবারের বিশ্বকাপে জার্মানি তাদের সেরাটা উপহার দেবে এবং শিরোপার লড়াইয়ে তারা শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।
আব্দুর রাকিব, শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
আমার প্রিয় দল পর্তুগাল। তাই বিশ্বকাপ এলেই তাদের নিয়ে প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। তবে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের সেরা গোলদাতা তিনি; যিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলেও সর্বোচ্চ গোলের মালিক। বয়সকে হার মানিয়ে এখনো দেশের জন্য লড়ে যাওয়ার মানসিকতা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দেয়। আমার কাছে তিনি সেরা ফুটবলারদের একজন। প্রতিভার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মনিবেদনের মাধ্যমে তিনি নিজের কিংবদন্তি অবস্থান তৈরি করেছেন। একজন ভক্ত হিসেবে আমি চাই, তাঁর অসাধারণ ক্যারিয়ার একটি বিশ্বকাপ ট্রফি দিয়ে পূর্ণতা পাক। আর তাঁকে যদি বিশ্বকাপ হাতে দেখা যায়, সেটি হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আর্থিক অনিয়মের দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাকে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের লাখো শিক্ষার্থী। সেই স্বপ্নের পথে এবার যুক্ত হচ্ছে নতুন শর্ত। প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে আগের তুলনায় বেশি কাগজপত্র জমা দিতে হবে, মানতে হবে নির্ধারিত সময়সীমা। একই সঙ্গে বাড়বে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগও।
৬ ঘণ্টা আগে
দেশের লাখো তরুণের স্বপ্নের নাম বিসিএস। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ খুব সহজ নয়। বিশাল সিলেবাস, কঠিন প্রতিযোগিতা আর দীর্ঘ প্রস্তুতির কথা ভেবে অনেকে শুরুতে দমে যান। অনেকের ধারণা, পড়া মুখস্থ করলেই সফল হওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
৬ ঘণ্টা আগে
তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে বর্ষা-অনুপ্রাণিত সৃজনশীল প্রকল্পের মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে কীভাবে ব্যবসায় শিক্ষা শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষায় রূপ নিতে পারে।
৬ ঘণ্টা আগে