Ajker Patrika

আনন্দ আয়োজন ও স্মৃতিময় সন্ধ্যা

ফাহমিদা আফরিন সূচনা
আনন্দ আয়োজন ও স্মৃতিময় সন্ধ্যা
পাঠকবন্ধু গণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যদের উদ্যোগে ‘বন্ধুদের ইফতার’ আয়োজন। ছবি: পাঠকবন্ধু

পবিত্র রমজান মাসের এক স্নিগ্ধ বিকেল।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরে জড়ো হন একঝাঁক তরুণ-তরুণী। তাঁরা সবাই পাঠকবন্ধুর সদস্য। পরিবার থেকে দূরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য রমজান কখনো কখনো একাকিত্বের অনুভূতি। সেই ক্ষুদ্র বিষণ্নতাকে দূরে ঠেলে, সারা দিনের ব্যস্ততা শেষে বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করতে আয়োজন করা হয় ‘বন্ধুদের ইফতার’।

বিকেল নামতেই মিডিয়া চত্বরে নিমিষে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। হালকা বাতাস, হাসি-আড্ডা, বন্ধুদের চমৎকার মিলনমেলা—সব মিলিয়ে জায়গাটি এক উৎসবমুখর আবহ হয়ে ওঠে। মাগরিবের আজানের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি হয় ইফতারের মুহূর্ত। এটি শুধু খাদ্য খাওয়া নয়; বন্ধুত্ব, আন্তরিকতা ও মিলনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের মনে স্থান করে নেয়।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাঠকবন্ধু গণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘বন্ধুদের ইফতার’ এই বছরের জন্য বিশেষ স্মৃতিময় হয়ে ওঠে। বন্ধুত্ব মানে সুখ-দুঃখের ভাগাভাগি, সব সময় পাশে থাকা। পাঠকবন্ধুর উদ্দেশ্য, বন্ধুরা যেন একা না থাকে, পরিবার থেকে দূরে থাকলেও তারা যেন একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দ খুঁজে পায়।

আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয় কয়েক দিন আগে। দাওয়াতপত্র বিতরণ, ইফতারের স্থান পরিদর্শন, বাজার করা, সাজসজ্জা, খাবার তৈরি—সব কাজে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কোণজুড়ে ছোটাছুটি চলে। কেউ বাজারের দায়িত্ব নেয়, কেউ সাজসজ্জা ও বসার ব্যবস্থা, কেউ খাবার প্রস্তুতি আর ইফতারি পরিবেশন করে। এই ভিন্ন ধরনের কার্যক্রম মিলে তৈরি হয় এক বন্ধুত্বপূর্ণ আর উৎসবমুখর পরিবেশ।

পাঠকবন্ধু গণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যদের উদ্যোগে ‘বন্ধুদের ইফতার’ আয়োজন। ছবি: পাঠকবন্ধু
পাঠকবন্ধু গণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যদের উদ্যোগে ‘বন্ধুদের ইফতার’ আয়োজন। ছবি: পাঠকবন্ধু

বেলা তিনটা থেকে গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ধীরে ধীরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বন্ধুরা একে অপরের সঙ্গে হাসি-আড্ডা, গল্প, স্মৃতি ভাগাভাগি করে। সারিবদ্ধভাবে বসে সবাই অপেক্ষা করে মাগরিবের আজানের জন্য। ছোলা-মুড়ি, আলুর চপ, নানা রকম হালকা খাবারের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে পরিবার থেকে দূরে থাকলেও একধরনের ঘনিষ্ঠ ও উষ্ণ পরিবেশ।

ইফতারের মুহূর্তে বন্ধুরা একসঙ্গে সুস্থতা কামনায় দোয়া করে। মসজিদের মাইকে ভেসে আসে মাগরিবের আজানের ধ্বনি। তারপর সবাই একসঙ্গে খেজুর এবং ছোলা-মুড়ি দিয়ে ইফতার সম্পন্ন করে। খাবারের স্বাদ আর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মিশে এক পরিবারের মতো অনুভূতি তৈরি করে।

বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের মনিরা জামান তনু বলেন, ‘বন্ধুদের ইফতার আমার কাছে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার এক অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সবাই একসঙ্গে গল্প, হাসি আর ইফতারের আনন্দ ভাগাভাগি করেছে—এটি সত্যিই স্মৃতিময় একটি সন্ধ্যা।’

কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের এজিএস সামিউল হাসান শোভন বলেন, ‘যিনি পাঠক, তিনিই বন্ধু’—স্লোগানটি শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জ্ঞান, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক। কোরআন তিলাওয়াত, ইসলামি সংগীত, কবিতা ও গান—সব ধরনের সৃজনশীল চর্চা সমান মর্যাদা পায়। এটি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের এক শক্তিশালী আন্দোলন।’

বন্ধুদের ইফতার শুধু খাবারের আয়োজন নয়, এটি বন্ধুত্ব, মিলন, সৃজনশীলতা এবং আত্মিক বিকাশের এক অনন্য প্রয়াস। সন্ধ্যা শেষ হলেও স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো হৃদয়ে থেকে যায়। এই অভিজ্ঞতা আরও শক্তিশালী করে বন্ধুত্বের বন্ধন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের চেতনা জাগিয়ে তোলে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত