Ajker Patrika

সব টিটিসিতে চালু হচ্ছে জাপানি ভাষা শিক্ষার কোর্স

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
সব টিটিসিতে চালু হচ্ছে জাপানি ভাষা শিক্ষার কোর্স

দেশের সব কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) পর্যায়ক্রমে জাপানি ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেশীয় জাপানি ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগ এবং সরাসরি নিয়োগের পাশাপাশি ‘ভার্চুয়াল টিচিং’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জাপানি প্রশিক্ষক যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাপানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির প্রথম সভায় এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।

আজ বুধবার ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় জানানো হয়, জাপান এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট (ইএসডি) এবং স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (এসএসডব্লিউ) ক্যাটাগরিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জাপানি ভাষায় দক্ষতা অর্জনকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ অবকাঠামো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় সভায়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব টিটিসিতে ধাপে ধাপে জাপানিজ ভাষা কোর্স চালু করা হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী দেশীয় প্রশিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ দেওয়া হবে।

এ ছাড়া সরাসরি প্রশিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ভার্চুয়াল টিচিং’ প্ল্যাটফর্ম চালুর প্রস্তাবও উঠে আসে, যাতে জাপান থেকে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকেরা অনলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। এতে দ্রুত দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে এসএসডব্লিউ-এর ১৬টি ফিল্ডের মধ্যে বর্তমানে ৬টির পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে; বাকি ১০টি ফিল্ডে দ্রুত স্কিল টেস্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জাপানি ভাষা পরীক্ষার আসনসংখ্যা ও টেস্ট সেন্টার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয় সভায়।

কমিটির সদস্য হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মীকে বিদেশে কর্মসংস্থানের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে জাপানকে সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়নের এই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত