Ajker Patrika

কাতারে পাঠানোর নামে প্রতারণা, বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার ২

উত্তরা–বিমানবন্দর (ঢাকা) প্রতিনিধি
আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৩, ১১: ২৮
কাতারে পাঠানোর নামে প্রতারণা, বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার ২

গ্রামের অসহায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে ভুয়া টিকিট-ভিসা ধরিয়ে কাতারে পাঠানোর নামে প্রতারণা করে আসছিল একটি চক্র। এই অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রবিন খন্দকার ও শান্ত কালু। 

আজ শনিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বিমানবন্দরের গোলচত্বর থেকে গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ভুয়া টিকিট-ভিসায় কাতারে পাঠানোর নামে প্রতারণা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে রবিন খন্দকার ও শান্ত কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুই প্রতারকসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী এক নারী। বাকি দুই আসামি হলেন তারেকুজ্জামান রাকিব ও শিপন। 

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, সিরাজগঞ্জের এক গৃহবধূ (২০) তাঁর গ্রামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে গৃহকর্মী হিসেবে কাতারে যাওয়ার ভিসা পান। এরপর তিনি গৃহকর্মী হিসেবে প্রশিক্ষণের জন্য টাঙ্গাইল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) যান, সেখানে তাঁর কম্পিউটার ও ফটোকপির ব্যবসায়ী তারেকুজ্জামান রাকিবের (২৯) সঙ্গে পরিচয় হয়। রাকিব টিটিসির সামনেই ফটোকপির ব্যবসা করেন। 

রাকিব ওই গৃহবধূকে বলেন, বয়স কম হওয়ায় তিনি কাতারে যেতে পারবেন না। সেই সঙ্গে তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ। তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিদেশ পাঠানোর প্রস্তাব দেন। তাঁর প্রস্তাবে গৃহবধূ রাজি হন। পরে কয়েক দফায় রাকিব ও শিপনকে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা দেন গৃহবধূ। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘টাকা নেওয়ার পর কয়েক দফা ফ্লাইট ডেট দেন তাঁরা। পরে এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে বিদেশ পাঠাবেন বলে গত ১২ ও ১৪ জুন এয়ারপোর্টে আসতে বলে তাঁরা গা ঢাকা দেন। বারবার ফোন করলেও তাঁরা এয়ারপোর্টে কন্ট্রাক্ট অফিসারের ডিউটি নাই বলে গৃহবধূকে ফিরে যেতে বলেন। আইরিন বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন। এ সময় উপায় না দেখে তিনি এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অফিসে এসে অভিযোগ করেন। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক আরও বলেন, ওই গৃহবধূর মাধ্যমে আসামি রাকিব ও শিপনের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ফ্লাইট করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় গৃহবধূকে ৩০ জুন এয়ারপোর্টে এসে তাঁর পাসপোর্ট ও টিকিট নিয়ে যেতে বলেন রাকিব। আসামি রাকিব ও শিপন ভুক্তভোগীকে বিমানবন্দরে আসতে বললেও নিজেরা দেখা না করে তাঁদের চক্রেরই আরও দুই সদস্যকে বিমানবন্দরে পাঠান এবং আরও ৩০ হাজার টাকা আদায় করতে বলেন। এই টাকা কালেক্ট করার উদ্দেশ্যেই আসামি রবিন খন্দকার ও শান্ত কালু হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গোল চত্বর এলাকার বাইরে চায়ের দোকানে ভুক্তভোগীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তাঁরা গৃহবধূর পাসপোর্ট ও ভুয়া টিকিট বুঝিয়ে দিয়ে টাকা দাবি করলেই সাদা পোশাকে নজরে রাখা এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা সদস্যরা তাঁদের দুজনকে গ্রেপ্তার করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত