Ajker Patrika

‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শেখার জায়গা না’

কারিমুল ইসলাম, ঢাকা
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ২৭
‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শেখার জায়গা না’
রফিকের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি এক বছরের। ছবি: সংগৃহীত

কোচিং নিয়ে তাঁর আগ্রহ অনেক দিনের। খেলা ছাড়ার পর বিসিবির দরজা তাঁর জন্য একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে বিসিবির বিশেষজ্ঞ স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ রফিক। যেখানে তিনি কাজ করবেন অভিজ্ঞ ও উঠতি স্পিনারদের সঙ্গে।

তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ২২৬ উইকেট নেওয়া রফিক বোলিংয়ে দীর্ঘ সময় ছিলেন বাংলাদেশের মূল ভরসা। স্পিন বোলিং কোচ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘এই অনুভূতি তো বলে শেষ করা যাবে না। সবচেয়ে বড় কথা, আলহামদুলিল্লাহ এমন একটি খবর পেলাম। আসল বিষয়টা হলো, আমি আগে কাজ করতে চাই। তারপর দেখা যাবে কী হয়। সবচেয়ে বড় কথা, যেহেতু প্রথমবার কাজ করব (বিসিবির স্পিন কোচ হিসেবে), অবশ্যই একটা নতুন অভিজ্ঞতা নিতে পারব। নতুন একটা অভিষেক হবে।’

বয়সভিত্তিক দল থেকে স্পিনারদের পোক্ত করার লক্ষ্য রফিকের; যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হিমশিম খেতে না হয়। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি বিভাগ ভাগ করা আছে। অনূর্ধ্ব-১৯ দল কোন পর্যায়ে খেলবে, ওদের প্রস্তুতিটা ওইভাবেই নিতে হবে; সে কৌশল নিয়ে কাজ করতে হবে। “এ” দলের টেকনিক আলাদা হবে। আবার বাংলাদেশ দল হলে তখন টেকনিক হবে আরেক রকম। বয়সভিত্তিক দল বা একাডেমি পর্যায় হলো শেখার জায়গা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কোনো শেখার জায়গা নয়। ওখানে ছোটখাটো ভুল ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে শেখার জায়গা নেই। শেখার জায়গা তো নিচের পর্যায়ে।’

রফিকের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি এক বছরের। এই সময়কালে দেশের উদীয়মান ও অভিজ্ঞ—উভয় পর্যায়ের স্পিনারদের সঙ্গে কাজ করবেন। বিসিবির কোচ হিসেবে নিজের লক্ষ্য প্রসঙ্গে রফিক বলেন, ‘বিসিবি আমাকে যে দায়িত্বটা দেবে, যেখানে আমাকে রাখবে, সেখানে থেকে কাজ করব। এখানে আমার কোনো পছন্দ থাকবে না, তাদের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করব। ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করে যাব। ইনশা আল্লাহ চিন্তাভাবনা থাকবে, খুব ভালোভাবে যেন উন্নতি করতে পারি।’

টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই সংস্করণেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রফিকের দখলে। ৩৩ টেস্টের ৪৮ ইনিংসে নিয়েছেন ১০০ উইকেট। ১২৫ ওয়ানডে খেলে শিকারের স্বাদ পেয়েছেন ১২৫ বার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও নিয়েছেন ১ উইকেট। রফিক তাই ক্যারিয়ারে সেভাবে অফ ফর্ম দেখেননি। বোলিংয়ে না পারলে তাঁর ব্যাটিংয়ে তাকিয়ে থাকতেন অনেকে। তাতে খুব একটা যে হতাশ করেছেন তা নয়। কোচিংয়ে সেই অভিজ্ঞতা ঢেলে দিতে চান রফিক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগে কাজ করি, তারপর সবাই দেখতে পারবে, কী হচ্ছে। যাদের নিয়ে কাজ করব, তারা খুশি কি না, বিসিবি খুশি কি না। দিন দিন আমার কাজ এগিয়ে যাবে। যাদের নিয়ে কাজ করব, তারাও খুশি থাকবে, আমিও খুশি থাকব। একটা মাস বা ১৫-২০ দিন কাজ করলে আমার আয়ত্তে আসবে—ওদেরও (স্পিনার) আমি জানব, ওরাও আমারে জানবে। তখন দেখা যাবে ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।’

যেখানেই কাজ করার সুযোগ আসুক, নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত রফিক, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ছেলেদের সঙ্গে কাজ করতে হয়, তাহলে ওদের প্রস্তুতিটা এক রকম হয়ে থাকে। “এ” দল হলে আবার আরেক রকমের প্রস্তুতি। বাংলাদেশ জাতীয় দল হলে প্রস্তুতি আবার অন্য রকমের। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন আমার মূল লক্ষ্য। ক্রিকেটটা কীভাবে উন্নত করা যায়, এটা আমার ধ্যান। এটা নিয়ে ভাবছি আমি।’

রফিকের ভাবনার জায়গাটা এখন নিশ্চয় বড় হয়ে উঠেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত