Ajker Patrika

বিএডিসির ‘বাষ্প তাপে’ পোকা-জীবাণুমুক্ত হচ্ছে আম-সবজি, রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
বিএডিসির ‘বাষ্প তাপে’ পোকা-জীবাণুমুক্ত হচ্ছে আম-সবজি, রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশের ‘ফলের রাজা’ আমের আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর পথ সুগম করতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে সরকার। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ঢাকার গাবতলীতে স্থাপন করেছে আধুনিক ‘ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট’ (VHT) বা বাষ্প তাপ প্রয়োগ প্ল্যান্ট। রপ্তানিযোগ্য আমসহ অন্যান্য সতেজ ফল ও সবজি ক্ষতিকর পোকামাকড় এবং রোগজীবাণুমুক্ত করতে এই আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৮০০ প্রজাতির আম উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে ২৭০টির বেশি জাত বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। প্রতিবছর দেশে ২৫ থেকে ২৭ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়। দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি আম রপ্তানি হচ্ছে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফলমাছি ও অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণুর আক্রমণ দীর্ঘদিন ধরে বড় বাধা হয়ে ছিল। এ সমস্যা সমাধানে বিএডিসি বাস্তবায়ন করছে ‘আম ও অন্যান্য সতেজ কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে বাষ্প তাপ প্রয়োগ প্ল্যান্ট স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প।

প্রকল্পের আওতায় ঢাকার গাবতলীতে একটি আধুনিক বাষ্প তাপ প্রয়োগ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য মানসম্মতভাবে মোড়কীকরণের জন্য অটো কনভেয়ার প্যাকেজিং লাইনও স্থাপন করা হয়েছে।

বিএডিসির জনসংযোগ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই প্ল্যান্টে প্রতি ব্যাচে প্রায় তিন টন আম বা সবজি বাষ্প তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা যায়। ট্রিটমেন্ট শেষে কৃষিপণ্য ৩০ মিনিট পানি দিয়ে ধুয়ে শুকানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় ফল ও সবজির ভেতরে থাকা পোকামাকড়, ডিম, লার্ভা ও রোগজীবাণু ধ্বংস হয়। একই সঙ্গে আমের রং আরও উজ্জ্বল হয় এবং এর সংরক্ষণকাল ৮ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত বাড়ে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে প্রায় তিন টন আমের ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া কমলা, মাল্টা, লেবু, বরই, লিচু, আনারস, পেয়ারা, ড্রাগন ফলের পাশাপাশি আলু, পেঁপে, টমেটো, শসা, কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজির ওপরও এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ দেশের কৃষিপণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়াতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। কৃষক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কাছে প্রযুক্তিটি আরও সহজলভ্য করতে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট কার্যক্রমকে টেকসই এবং ব্যাপক পরিসরে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত