রাজেশ গৌড়, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা)

নেত্রকোনা, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ বছর টমেটোর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হতাশার ছাপ। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার পাশাপাশি বাজারজাতকরণের ব্যয় বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক খেত থেকেই টমেটো তুলতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে খেতেই পচে নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ টমেটো, যা কৃষকের জন্য চরম হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় ৩৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হলেও বাজারদর এতটাই কম যে উৎপাদন খরচও ওঠানো সম্ভব হচ্ছে না। চকলেঙ্গুরা গ্রামের কৃষক ফজলুল হক এক একর জমিতে ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে টমেটো চাষ করেছিলেন।
শেষ সময়ে সেচের জন্য আরও ৩০ হাজার টাকা খরচ করেন। ভালো ফলন হলেও বাজারে দাম না থাকায় তিনি এখন পর্যন্ত মাত্র ৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পেরেছেন। পাইকারি ক্রেতারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, যার ফলে খেতেই পচে যাচ্ছে টমেটো।
একই পরিস্থিতির মুখোমুখি দুর্গাপুরের আরও অনেক কৃষক। আশিকুল ইসলাম ৬৪ শতাংশ জমিতে ৩০ হাজার টাকা খরচ করেও মূলধন ফেরত পাচ্ছেন না। আব্দুর রশিদ ৪০ শতাংশ জমির ফসল তুলতেই পারছেন না। এক ক্যারেট (২৫ কেজি) টমেটো খেত থেকে তুলে বাজারে নিতে ৪০ টাকা খরচ হয়, অথচ বাজারে তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৫০ টাকায়। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে অনেক কৃষক টমেটো তোলাই বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি টমেটোর দাম ২-৪ টাকা, খুচরায় ৮-১০ টাকা হলেও তা লাভজনক নয়। উপজেলা কৃষি অফিসার নিপা বিশ্বাস জানান, স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা কম এবং বাইরের ক্রেতার অভাবে টমেটোর বাজারদর তলানিতে নেমেছে।
একই সংকট দেখা দিয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জেও। রমজান মাসে সবজির চাহিদা কম থাকায় মাঠেই নষ্ট হচ্ছে টমেটো, বেগুন, পাতাকপি ও অন্যান্য ফসল। হতাশ কৃষকেরা ফসল তুলতে পর্যন্ত অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। বাজারে দাম নেই বলে উৎপাদিত সবজি বিক্রির সুযোগও সীমিত। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কমলগঞ্জে টমেটো উৎপাদন বিপুল হলেও সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার নেই। ফলে কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এখানে গ্রীষ্মকালীন টমেটো ৬৫ হেক্টর জমিতে এবং শীতকালীন টমেটো ১২০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
পতনউষার ইউনিয়নের কৃষক হেলাল মিয়া জানান, ৩০ শতক জমির টমেটো বাজারে ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, অথচ খেত থেকে তুলে বাজারে আনতে প্রতি কেজিতে ৩-৪ টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনও তুলতে পারছেন না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, এ উপজেলায় সবকিছুর ফলন ভালো হয়, বিশেষ করে টমেটো এবার প্রচুর হয়েছে। তবে বাজারদর কম থাকায় কৃষকের কষ্ট হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই সংকট স্পষ্ট। বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সংরক্ষণের অভাবে কৃষকের টমেটো চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদি যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে কৃষক টমেটো চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন, যা সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নেত্রকোনা, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ বছর টমেটোর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হতাশার ছাপ। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার পাশাপাশি বাজারজাতকরণের ব্যয় বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক খেত থেকেই টমেটো তুলতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে খেতেই পচে নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ টমেটো, যা কৃষকের জন্য চরম হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় ৩৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হলেও বাজারদর এতটাই কম যে উৎপাদন খরচও ওঠানো সম্ভব হচ্ছে না। চকলেঙ্গুরা গ্রামের কৃষক ফজলুল হক এক একর জমিতে ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে টমেটো চাষ করেছিলেন।
শেষ সময়ে সেচের জন্য আরও ৩০ হাজার টাকা খরচ করেন। ভালো ফলন হলেও বাজারে দাম না থাকায় তিনি এখন পর্যন্ত মাত্র ৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পেরেছেন। পাইকারি ক্রেতারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, যার ফলে খেতেই পচে যাচ্ছে টমেটো।
একই পরিস্থিতির মুখোমুখি দুর্গাপুরের আরও অনেক কৃষক। আশিকুল ইসলাম ৬৪ শতাংশ জমিতে ৩০ হাজার টাকা খরচ করেও মূলধন ফেরত পাচ্ছেন না। আব্দুর রশিদ ৪০ শতাংশ জমির ফসল তুলতেই পারছেন না। এক ক্যারেট (২৫ কেজি) টমেটো খেত থেকে তুলে বাজারে নিতে ৪০ টাকা খরচ হয়, অথচ বাজারে তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৫০ টাকায়। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে অনেক কৃষক টমেটো তোলাই বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি টমেটোর দাম ২-৪ টাকা, খুচরায় ৮-১০ টাকা হলেও তা লাভজনক নয়। উপজেলা কৃষি অফিসার নিপা বিশ্বাস জানান, স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা কম এবং বাইরের ক্রেতার অভাবে টমেটোর বাজারদর তলানিতে নেমেছে।
একই সংকট দেখা দিয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জেও। রমজান মাসে সবজির চাহিদা কম থাকায় মাঠেই নষ্ট হচ্ছে টমেটো, বেগুন, পাতাকপি ও অন্যান্য ফসল। হতাশ কৃষকেরা ফসল তুলতে পর্যন্ত অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। বাজারে দাম নেই বলে উৎপাদিত সবজি বিক্রির সুযোগও সীমিত। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কমলগঞ্জে টমেটো উৎপাদন বিপুল হলেও সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার নেই। ফলে কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এখানে গ্রীষ্মকালীন টমেটো ৬৫ হেক্টর জমিতে এবং শীতকালীন টমেটো ১২০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।
পতনউষার ইউনিয়নের কৃষক হেলাল মিয়া জানান, ৩০ শতক জমির টমেটো বাজারে ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, অথচ খেত থেকে তুলে বাজারে আনতে প্রতি কেজিতে ৩-৪ টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনও তুলতে পারছেন না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, এ উপজেলায় সবকিছুর ফলন ভালো হয়, বিশেষ করে টমেটো এবার প্রচুর হয়েছে। তবে বাজারদর কম থাকায় কৃষকের কষ্ট হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই সংকট স্পষ্ট। বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সংরক্ষণের অভাবে কৃষকের টমেটো চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদি যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে কৃষক টমেটো চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন, যা সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারপত্র ও ব্যানার টাঙানোর কাজ শুরু করেছে ব্যাংকগুলো। তবে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতের অর্থ হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য বেসরকারি সংস্থাকে (এনজিও) দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান...
৩ ঘণ্টা আগে
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, পানগাঁও টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হলে অভ্যন্তরীণ নৌপথে কনটেইনার পরিবহন বাড়বে এবং দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা এই টার্মিনালকে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে লাভজনক করাই সরকারের লক্ষ্য।
৭ ঘণ্টা আগে
ভারতের এই সিদ্ধান্ত দেশটির গণমাধ্যমে খুব একটা আলোচিত হয়নি। তবে অনেকের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের আগের আরোপ করা ৫০ শতাংশ (শাস্তিমূলক) শুল্কের নীরব জবাব। এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
৯ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবের খনি শিল্পে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সাফল্যের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি ‘মাআদেন’। দেশের চারটি কৌশলগত স্থানে নতুন করে প্রায় ৭৮ লাখ আউন্স (২ লাখ ২১ হাজার কেজির বেশি) স্বর্ণের মজুত খুঁজে পাওয়া গেছে।
১৩ ঘণ্টা আগে