Ajker Patrika

আগুনে পুড়ে যাওয়া নোট বদলে অপেক্ষা ৮ সপ্তাহ

  • ভিন্ন নোট জোড়ায় শাস্তি যাবজ্জীবন, জরিমানা কোটি টাকা।
  • ছেঁড়া টাকা বদলানো যাবে শাখাতেই।
  • বদলের ক্ষেত্রে নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ থাকতে হবে।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আগুনে পুড়ে যাওয়া নোট বদলে অপেক্ষা ৮ সপ্তাহ

আগুনে পুড়ে যাওয়া টাকা এখন আর ব্যাংকের শাখায় বদলানো যাবে না। এমন নোট নিয়ে গ্রাহককে যেতে হবে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর টাকা ফেরত পেতে সময় লাগবে কমপক্ষে আট সপ্তাহ। অন্যদিকে ভিন্ন নোটের অংশ জোড়া লাগিয়ে বা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা নোট উপস্থাপন করলে শাস্তি হবে সর্বোচ্চ—যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা জরিমানা।

নতুন নোট বিনিময় নির্দেশনা ইস্যুতে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নতুন প্রবিধানে প্রচলিত নোটকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—পুনঃপ্রচলনযোগ্য, অপ্রচলনযোগ্য, ছেঁড়া-ফাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত, দাবিযোগ্য এবং আগুনে পোড়া নোট। এর মধ্যে ছেঁড়া-ফাটা, ক্ষতিগ্রস্ত ও অপ্রচলনযোগ্য নোট বিনিময় সেবা নিয়মিতভাবেই সব বাণিজ্যিক ব্যাংক শাখায় দিতে হবে। এসব নোটের জন্য গ্রাহককে বাংলাদেশ ব্যাংকে যেতে হবে না। শর্ত পূরণ হলে শাখা থেকেই সম্পূর্ণ বিনিময়মূল্য পরিশোধ করা হবে। শর্ত অনুযায়ী, নোটের মোট আয়তনের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ থাকতে হবে এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে শনাক্তযোগ্য হতে হবে। নোট দুই টুকরা হলে উভয় অংশ একই নোটের হতে হবে এবং সঠিকভাবে জোড়া লাগানো থাকতে হবে। তবে একাধিক নোটের অংশ জোড়া দিয়ে তৈরি ‘বিল্ট-আপ’ নোট বা কোনো জাল নোট উপস্থাপন করা যাবে না। এটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। জাল নোট প্রতিরোধ আইন, ২০২২ অনুযায়ী, এ অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

তবে আগুনে পোড়া নোটের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা। কোনো ব্যাংক শাখা এই ধরনের নোট বদলাতে বা এর বিপরীতে টাকা দিতে পারবে না। গ্রাহককে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকটস্থ অফিসের হেল্প ডেস্ক বা দাবি শাখায় আবেদন করতে হবে। যাচাই শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক নোটের মূল্য নির্ধারণ করবে এবং আবেদন জমা দেওয়ার সর্বোচ্চ আট সপ্তাহের মধ্যে অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত জানাবে। অনুমোদন মিললে টাকা জমা হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাবে।

দাবিযোগ্য নোটের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এসব নোটের জন্য শাখা পর্যায়ে সরাসরি টাকা দেওয়া যাবে না। নোট উপস্থাপনকারীকে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে এবং পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। ব্যাংক শাখা আবেদন গ্রহণ করে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের ইস্যু অফিসে পাঠাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পর অর্থ পরিশোধ করা হবে।

গত ৯ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান, ২০২৫’ কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগের ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রেগুলেশন ২০১২’ বাতিল হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নোট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং গ্রাহক ভোগান্তি কমানোই নতুন নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা হলেন আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত