
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পরিচালনা ও উন্নয়ন কৌশলে এত দিন কিছু ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য দায়িত্ব পাওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
গতকাল শনিবার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম প্রবেশের সময় সাংবাদিকেরা তাঁর কাছে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চান। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশ এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখে। অর্থনীতির গতি মন্থর হয়ে গেছে। সেটি হতে পারে। কিন্তু থমকে গেলে পুনরায় চালু করতে অনেক সময় লেগে যায়। তা যেন না হয়, আমরা এর গতিটা বাড়াব। সব মানুষের জীবন এবং জীবিকার জন্য আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করব। এটি করতে গেলে আগে কঠিন পরিস্থিতি থেকে দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই এ মুহূর্তের মূল কাজ হলো আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা। শুধু রাস্তাঘাটের আইনশৃঙ্খলা নয়, বরং ব্যাংক পুরোপুরি চালু করা, বন্দরগুলো অনেকাংশে অচল, সেগুলো চালু করা।’
মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনীতিতে যেসব চ্যালেঞ্জ আছে, যেমন মূল্যস্ফীতি, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলার চেষ্টা করা হবে। তবে এত দিন আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতি (ক্ষুদ্র অর্থনীতি) ছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন কৌশলে ভুল ছিল। এর ফলে মানুষ সামগ্রিকভাবে উন্নয়নের সুফল পায়নি। প্রবৃদ্ধি হয়েছে, কিন্তু তার ফল কে পেয়েছে, কাদের কাছে টাকা গেছে, সেটাই মূল বিষয়। আমরা চাইছি, সমতাভিত্তিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে। যাতে মানুষের আয়ের পথ সুগম হয়, ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে এবং বাজারে মূল্যস্ফীতি কমে আসে।’
লাইনচ্যুত অর্থনীতিকে লাইনে আনতে কত সময় লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহউদ্দিন বলেন, ‘অর্থনীতি একেবারে লাইনচ্যুত হয়ে যায়নি, একটু স্লো হয়ে গেছে। আমি মনে করি এটা মন্থর হয়ে গেছে। এটাকে ফের গতিশীল করার জন্য বেসিক কাজগুলো করতে আমার মনে হয় না বেশি সময় লাগবে।’ ব্যাংকিং কমিশন সম্পর্কে তিনি বলেন, আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হোক, এরপর সংস্কারের প্রসঙ্গ আসবে। ইমিডিয়েট সংস্কার শুরু হলে মূল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।
আমরা চাইছি সমতাভিত্তিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে। যাতে মানুষের আয়ের পথ সুগম হয়, ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে এবং বাজারে মূল্যস্ফীতি কমে আসে।
অর্থ পাচার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা সবাই জানি, এ বিষয়ে তথ্য লাগবে। এর প্রক্রিয়া আছে, তা মেনেই এসব করতে হবে।’
এ সময় সাংবাদিকদের অবহিত করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘খুব বেশি দিন এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা নেই। আমরা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটা মসৃণ পথ তৈরি করে যেতে চাই।’ এর জন্য তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতাও দরকার বলে জানান। বলেন, ভুলত্রুটি হলে সমালোচনা করবেন, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা না করার আহ্বানও জানান তিনি।
গভর্নরের পদত্যাগ, সিদ্ধান্ত আজ
সদ্য পদত্যাগী গভর্নরের আমলে দেশের অনেক ব্যাংকে কেলেঙ্কারি হয়েছে। কিন্তু তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হলে কি তিনি জবাবদিহির আওতা থেকে বেরিয়ে যাবেন?—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন বা দেশের যেকোনো আইন যথেষ্ট আন্তর্জাতিক মানের। কিন্তু তা মানা হয় না। যাঁদের মানানোর কথা তাঁরা সেটা করেননি। যাঁদের মানার কথা, তাঁরাও মানেননি। যারা মানেনি নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তবে গভর্নরের পদ খুব সংবেদনশীল। তিনি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন, সেখানে একটি প্রক্রিয়ার ব্যাপার আছে। সেটা আমি একা সিদ্ধান্ত নেব না। এ বিষয়ে আজ রোববারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।’

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পরিচালনা ও উন্নয়ন কৌশলে এত দিন কিছু ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য দায়িত্ব পাওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
গতকাল শনিবার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম প্রবেশের সময় সাংবাদিকেরা তাঁর কাছে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চান। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশ এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখে। অর্থনীতির গতি মন্থর হয়ে গেছে। সেটি হতে পারে। কিন্তু থমকে গেলে পুনরায় চালু করতে অনেক সময় লেগে যায়। তা যেন না হয়, আমরা এর গতিটা বাড়াব। সব মানুষের জীবন এবং জীবিকার জন্য আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করব। এটি করতে গেলে আগে কঠিন পরিস্থিতি থেকে দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই এ মুহূর্তের মূল কাজ হলো আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা। শুধু রাস্তাঘাটের আইনশৃঙ্খলা নয়, বরং ব্যাংক পুরোপুরি চালু করা, বন্দরগুলো অনেকাংশে অচল, সেগুলো চালু করা।’
মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনীতিতে যেসব চ্যালেঞ্জ আছে, যেমন মূল্যস্ফীতি, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলার চেষ্টা করা হবে। তবে এত দিন আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতি (ক্ষুদ্র অর্থনীতি) ছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন কৌশলে ভুল ছিল। এর ফলে মানুষ সামগ্রিকভাবে উন্নয়নের সুফল পায়নি। প্রবৃদ্ধি হয়েছে, কিন্তু তার ফল কে পেয়েছে, কাদের কাছে টাকা গেছে, সেটাই মূল বিষয়। আমরা চাইছি, সমতাভিত্তিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে। যাতে মানুষের আয়ের পথ সুগম হয়, ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে এবং বাজারে মূল্যস্ফীতি কমে আসে।’
লাইনচ্যুত অর্থনীতিকে লাইনে আনতে কত সময় লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহউদ্দিন বলেন, ‘অর্থনীতি একেবারে লাইনচ্যুত হয়ে যায়নি, একটু স্লো হয়ে গেছে। আমি মনে করি এটা মন্থর হয়ে গেছে। এটাকে ফের গতিশীল করার জন্য বেসিক কাজগুলো করতে আমার মনে হয় না বেশি সময় লাগবে।’ ব্যাংকিং কমিশন সম্পর্কে তিনি বলেন, আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হোক, এরপর সংস্কারের প্রসঙ্গ আসবে। ইমিডিয়েট সংস্কার শুরু হলে মূল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।
আমরা চাইছি সমতাভিত্তিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে। যাতে মানুষের আয়ের পথ সুগম হয়, ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে এবং বাজারে মূল্যস্ফীতি কমে আসে।
অর্থ পাচার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা সবাই জানি, এ বিষয়ে তথ্য লাগবে। এর প্রক্রিয়া আছে, তা মেনেই এসব করতে হবে।’
এ সময় সাংবাদিকদের অবহিত করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘খুব বেশি দিন এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা নেই। আমরা ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটা মসৃণ পথ তৈরি করে যেতে চাই।’ এর জন্য তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতাও দরকার বলে জানান। বলেন, ভুলত্রুটি হলে সমালোচনা করবেন, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা না করার আহ্বানও জানান তিনি।
গভর্নরের পদত্যাগ, সিদ্ধান্ত আজ
সদ্য পদত্যাগী গভর্নরের আমলে দেশের অনেক ব্যাংকে কেলেঙ্কারি হয়েছে। কিন্তু তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হলে কি তিনি জবাবদিহির আওতা থেকে বেরিয়ে যাবেন?—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন বা দেশের যেকোনো আইন যথেষ্ট আন্তর্জাতিক মানের। কিন্তু তা মানা হয় না। যাঁদের মানানোর কথা তাঁরা সেটা করেননি। যাঁদের মানার কথা, তাঁরাও মানেননি। যারা মানেনি নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তবে গভর্নরের পদ খুব সংবেদনশীল। তিনি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন, সেখানে একটি প্রক্রিয়ার ব্যাপার আছে। সেটা আমি একা সিদ্ধান্ত নেব না। এ বিষয়ে আজ রোববারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।’

চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন খাতে ৮৫৬টি প্রকল্প রয়েছে; কিন্তু এর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) এ চিত্র দেখা গেছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ৪১৩, বৈদেশিক অর্থায়নে ১৫৭, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৩৫, পিপিপির আওতাভুক্ত প্রকল্প ৮১ এবং জলবায়ু
১ ঘণ্টা আগে
রাজস্ব আয়, উদ্বৃত্ত ও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অবদান—এই তিন ক্ষেত্রেই গত পাঁচ বছরে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০২১ থেকে ২০২৫—এই পাঁচ বছরে গড়ে ১৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ রাজস্ব আয় প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি গড়ে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ রাজস্ব উদ্বৃত্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি।
১ ঘণ্টা আগে
সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের দুর্বলতা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অদক্ষ পরিচালনার কারণে দেশের অনিশ্চিত দায় বা কনটিনজেন্ট লায়াবিলিটি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ মুহূর্তে সরকারের এই দায় ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮২ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এর বড় অংশই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান
১ ঘণ্টা আগে
সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারপত্র ও ব্যানার টাঙানোর কাজ শুরু করেছে ব্যাংকগুলো। তবে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতের অর্থ হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য বেসরকারি সংস্থাকে (এনজিও) দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান...
৪ ঘণ্টা আগে