Ajker Patrika

৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে বিজের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৪৯
৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে বিজের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন
রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে শনিবার আয়োজিত বিজের সুবর্ণজয়ন্তীতে সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। ছবি: সংগৃহীত

দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ) প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করেছে। গত শনিবার রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে এ আয়োজনে সারা দেশ থেকে আসা বিজের প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।

ভোরে রেজিস্ট্রেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল স্বাগত ও অতিথিদের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠাতার স্মৃতিচারণ, দীর্ঘ কর্মজীবনে বিশেষ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুরস্কার ও সম্মাননা, প্রামাণ্যচিত্র ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং গ্রুপ ছবি তোলার আয়োজন।

সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয় বিজের প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র অ্যাডভাইজার সাইফুল ইসলাম (রবিন) কে। ‘স্বপ্নদ্রষ্টা ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন’ পর্বে তাঁর প্রবেশ ও উদ্বোধনকে ঘিরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। এ সময় তিনি বিজের দীর্ঘ পথচলার নানা দিক তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন।

প্রায় পাঁচ দশক আগে ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু করা বিজ বর্তমানে ক্ষুদ্রঋণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে দেশের অন্যতম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। ক্ষুদ্রঋণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে আসছে।

অনুষ্ঠানে বিজের চেয়ারম্যান ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটির (এমআরএ) এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সম্মানিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির ডিএমডি ও সিবিও ড. মো. জাহিদ হোসেন, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়রা আজম এবং ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (সিডিএফ) চেয়ারম্যান মুরশেদ আলম সরকার।

বক্তারা বিজের পাঁচ দশকের অর্জন, ক্ষুদ্রঋণ ও উন্নয়ন খাতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা বিজের প্রতিষ্ঠাতার দূরদর্শিতা, শ্রম ও অবদানের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত পাঁচ দশকে ক্ষুদ্রঋণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে লক্ষাধিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রেখেছে। সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনকে শুধু অতীতের সাফল্য উদ্‌যাপন নয়, ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজের নির্বাহী পরিচালক ইকবাল আহাম্মদের নেতৃত্বে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম দেশজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে। মাইক্রোফাইন্যান্স পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সংস্থাটির ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিজের দাবি, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটির (এমআরএ) তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এটি বর্তমানে দেশের শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের একটি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, আর্থিক সুশাসন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার ফলে এ অবস্থান তৈরি হয়েছে।

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিজ আগামী দিনে উদ্ভাবনী কর্মসূচি ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে আরও ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত