Ajker Patrika

গোলটেবিলে তিতুমীর: সর্বস্তরে ভ্যাট ১৫% হলে দারিদ্র্য বাড়বে দেড় কোটি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
গোলটেবিলে তিতুমীর: সর্বস্তরে ভ্যাট ১৫% হলে দারিদ্র্য বাড়বে দেড় কোটি
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ অনুযায়ী সব পণ্য ও সেবায় ১৫ শতাংশ একক ভ্যাট আরোপ করা হলে দেশে নতুন করে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই আগামী অর্থবছরের ভ্যাট ও রাজস্বনীতি নির্ধারণ করা হবে। ফলে আইএমএফের সব সুপারিশ বাজেটে অন্ধভাবে অনুসরণ করা হবে না।

গতকাল শনিবার রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা, অগ্রাধিকার ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আগামী বাজেটে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে করদাতাদের হয়রানি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে করনীতিতে অন্তত পাঁচ বছরের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিনিয়োগ পরিবেশ প্রসঙ্গে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, উদ্যোক্তারা নীতির ধারাবাহিকতা, জ্বালানির নিশ্চয়তা, সহজ অর্থায়ন, সমান সুযোগ এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার চান। আগামী বাজেটে এসব প্রত্যাশার প্রতিফলন থাকবে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পায়নকে উৎসাহ দিতে শিল্পনীতিকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু আমদানিনির্ভরতা নয়, ইলেকট্রিক বাস, রেলওয়ের লোকোমোটিভসহ বিভিন্ন খাতে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশ অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ বহন করছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ঋণ স্থগিতকরণ বা বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিষয় বিবেচনা করা।

আলোচনায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ব্যাংক খাতের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিতর্কিত ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়া এবং আর্থিক খাতে বিভিন্ন ধরনের ভুল বার্তা আস্থার সংকটকে আরও গভীর করেছে। বর্তমানে ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে খুব সীমিতসংখ্যক ব্যাংককে সুস্থ বলা যায়।

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, সরকারের উচ্চ ঋণ গ্রহণের কারণে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে আস্থা সংকটের কারণে ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে চলে গেছে, যা তারল্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু বলেন, দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীস্বার্থভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দুর্বল হয়েছে। বর্তমানে একজন উদ্যোক্তাকে ব্যবসা শুরু করতে ১৯টি লাইসেন্স নিতে হয়, যা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা।

মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, করের আওতা বাড়ানোর কথা প্রতিবছর বলা হলেও বাস্তবে একই করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হয়। তিনি কর প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের সভাপতি রোবায়েত মান্নান রাফির সভাপতিত্বে এবং সংস্থাটির পরিচালক এস এম সাইফ কাদের রুবাবের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, ব্যবসায়ী সায়েমা শওকত, রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ শফিকুর রহমান ও জিয়া হাসান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত