
দেশের শেয়ারবাজার উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার শেয়ারবাজার বা পুঁজিবাজারকে ‘প্রাণবন্ত’ ও গতিশীল করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ শিক্ষার মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতেও সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তক বা কোর্সে বিনিয়োগ শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। অনলাইন ও অফলাইনে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করা, জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে গণসচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো এবং ‘নিরাপদ বিনিয়োগ, সচেতন নাগরিক’ কর্মসূচির আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রচারণা চালানোর কথাও বলেন তিনি। বিনিয়োগ শিক্ষাবিষয়ক কনটেন্ট ও ভিডিও কমিশনের ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত প্রকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘পুঁজিবাজারের জানা-অজানা’ নামে পাক্ষিক অনুষ্ঠান চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।
দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এ খাত উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও অঙ্গীকার বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও অন্তর্ভুক্ত ছিল উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। সে কারণে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়িয়ে বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে একটি উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গড়ে তোলার কথা জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি ভালো মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা এবং অতালিকাভুক্ত সরকারি কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ, সুকুক, গ্রিন বন্ড, কমোডিটি ডেরিভেটিভ ও ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। মিউচুয়াল ফান্ডে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করাও সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে আছে বলে জানান তিনি।
বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধ, তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার, এনফোর্সমেন্ট বাড়ানো এবং পুঁজিবাজারকে আধুনিক ও ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে যেন বাজারে সহজে প্রবেশাধিকার পাওয়া যায়, সে লক্ষ্যেও কাজ চলছে।
তথ্য প্রকাশকারীদের সুরক্ষা ও করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় আছে বলে জানান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আইন সংস্কারের অংশ হিসেবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর বাংলা সংস্করণ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ একীভূত করে নতুন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ২০২৫-এর খসড়া পর্যালোচনার কাজ চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তালিকাভুক্ত কোম্পানির নগদ ও স্টক লভ্যাংশ, রাইট শেয়ার এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর কিছু অর্থ দীর্ঘ সময় দাবিহীন, অবণ্টিত বা অপ্রত্যার্পিত অবস্থায় পড়ে থাকার বিষয়টি মোকাবিলায় ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন, ২০২৬-এর খসড়াও পর্যালোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষায় নতুন বিধিমালা, করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড ২০১৮-এর জায়গায় নতুন করপোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬, ডেট সিকিউরিটিজ রুলস ২০২১ সংশোধন এবং অডিটর ও অডিট ফার্মের প্যানেলভুক্তির নীতিমালা প্রণয়নের কথাও জানান তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তীব্র তাপপ্রবাহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য নতুন এক কাঠামোগত ঝুঁকি হয়ে উঠছে। এতে কমছে শ্রমিকের কর্মক্ষমতা, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন, বাড়ছে ব্যবসার ব্যয়, হারাচ্ছে কোটি কোটি কর্মঘণ্টা। বিশ্বব্যাংকের এক নতুন প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়ে বলা হয়েছে...
৩ ঘণ্টা আগে
দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড)। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে শিল্পাঞ্চলটিতে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালে নেওয়া হয়েছিল ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পানি শোধনাগার ও গভীর নলকূপ স্থাপন’ প্রকল্প
৪ ঘণ্টা আগে
সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ের গতি আরও কমেছে। টানা দ্বিতীয় অর্থবছরের মতো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন ৭০ শতাংশের নিচে আটকে রয়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
৪ ঘণ্টা আগে
দেশে মানুষের আয় সেই অর্থে বাড়ছে না, দিন দিন যতটা বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। পরিস্থিতি এমন যে নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ের ৬০ শতাংশই চলে যাচ্ছে খাবার কিনতে। অথচ গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কৃষক বা খামারির কাছ থেকে খাদ্যপণ্য ভোক্তার কাছে আসতে ঘাটে ঘাটে বেড়ে দাম হয়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ।
৫ ঘণ্টা আগে